পৃষ্ঠাসমূহ

রবিবার, ১ ডিসেম্বর, ২০১৯

স্মৃতির কোঠায় রাঘবানন্দ পর্ব - ৫ : কথক শ্রী মনীন্দ্র গোস্বামী


 আজকে কথক শ্রী মনীন্দ্র গোস্বামী 

মুখের কথা লেখার ভাষায় :-  প্রদ্যোত আশ 

সাধুবাবার ব্যপারে সে ভাবে তো মনে নাই , সে ভাবে ওনার সাথে মেশা হয় নাই তবে উনি আমাকে অত্যন্ত স্নেহ করতেন । শেষ উনি যখন অসুস্থ জয় সিয়ারাম স্কুলে থাকতেন আমার ঠাকুমার সাধ হয়েছিল ওনাকে খাওয়ানোর তখন আমি গেছলাম ঠাকুমার সাথে ওটাই ওনার সাথে শেষ সাক্ষাৎ । এখনো পরিস্কার মনে আছে আমাদের কাঠগোদাম উনি উদ্বোধন করেছিলেন স্পষ্ট মনে পড়ে উনি মেশিনটা ঘুরোতে ঘুরোতে আমার বাবাকে উদ্দেশ্য করে বলছেন " সৃষ্টি ভগবান ইসসে বহুত নাফা হোগা , বহুত নাফা হোগা " ওনার হাতে একথলি বাতাসা দেওয়া হয়েছিল উনি বাচ্চা ছেলের মতো একটা করে খাচ্ছেন আর সবাইকে বিলি করছেন । আজো কিন্তু তাঁর আশীর্বাদে এখনো সেই কাঠগোদাম চলছে ।
 ###
আমার মেজদার বাড়িতে একটা গন্ধরাজ ফুলের গাছ ছিল । নবকুঞ্জের সময় ওই ফুল দিয়ে আমরা মালা গেঁথেছি আমি নিজে সাধুবাবাকে গলাতে মালা পরিয়ে জটাতে মালা বেঁধে সাজিয়েছি - বড় অপূর্ব লাগত । উনি ওই বেশে থালানিয়ে ভক্তদের মাঝে যেতেন তাতে সবাই প্রণামী দিত । যেটুকু জানি প্রচুর টাকা পড়েছিল , রূপার টাকা বস্তায় করে রাখতে হত ।
####
ওনার সম্পর্কে একটা ঘটনা বলি - এটা আমি ইসমাইল মিস্ত্রির কাছে শুনেছিলাম । একবার লক্ষীমেলার ওখানে সাধুবাবা শুয়ে আছেন আর ইসমাইল মিস্ত্রিরা , সব পাড়ার ছেলেরা সাধুবাবার গা হাত পা টিপে দিচ্ছে তো ওই সময় উনি বললেন তোমরা যত জোরে পারবে টিপে রাখ । ইসমাইল মিস্ত্রি বলছে যে সবাই গায়ের জোরে ওনাকে চিপে রেখেছি ওই অবস্থায় উনি কিছুটা শূণ্যে উঠে গেলেন ।

###

আর একটা ঘটনা বলি শোনা ঘটনা সাধুবাবা এখানে থাকলেও তো বিভিন্ন জায়গাতে ঘুরে বেড়াতেন ওনার গড়জয়পুরেও যাতায়াত ছিল । সাধুবাবা যে সবকিছুর মধ্যে ভগবান কে দেখতেন , সবকিছুকেই ভগবান সম্বোধন করতেন এটা ওখানের ছেলে পুলেরাও জানত । একদিন একটা দোকানের বেঞ্চে সাধু বাবা বসে আছেন কয়েক জন ওনাকে বিব্রত করার জন্যই এসে বলছে
- সাধু বাবা আপ কাঁহা পর বৈঠে হ্যেঁ ?
- কিউ ভগবান হামতো বেঞ্চ ভগবান পর বৈঠে হ্যেঁ
- আপ ভগবান পর বৈঠ গ্যায়ে ?
- হ্যাঁ তো কৌন বৈঠে হ্যেঁ , ভগবান ই তো বৈঠে হ্যেঁ
- তুম , হাম ইয়ে সারা সংসার ভগবান ই তো হ্যেঁ
কী অপূর্ব ভাবে বললেন উনি ভাব ।

                    #####

আমার আর একটা কথা মনে পড়ছে - সাধু বাবা যখন রথযাত্রার শুরু করলেন , তখন রথের পেছনে পাকা রঙ দিয়ে আমিই " জয় সিয়ারাম " কথাটা লিখেছিলাম আর রথের নীচের পাটাতনে বসে নামোপাড়া পর্যন্ত এসেছিলাম । সাধু বাবাকে আর একজায়গাতে মনে পড়ছে নদী যাওয়ার রাস্তায় দুর্লভ সেনের বাড়ির ওখানে আমি ওনাকে নিমপাতার গোছা খেতে দেখেছিলাম ।
আর একটা ঘটনা বলি , আমি তখন খুবি ছোট সেবছর তুলিনে একদম জল হয়নি , চারদিকে মানুষ জলের জন্য হাহকার করছে । সবাই গিয়ে সাধুবাবাকে ধরল তখন সাধুবাবা বানসা পাহাড়ের উঁচু চূড়াটাতে উঠে জলের জন্যে প্রার্থনা করেছিলেন তারপরেই তুলিনে ঝেঁপে বৃষ্টি নামে ।

রবিবার, ২৪ নভেম্বর, ২০১৯

স্মৃতির কোঠায় রাঘবানন্দ পর্ব - ৪

 

কথক শ্রী অলোক লায়েক

অনু লিখন :- প্রদ্যোত আশ

দেখ সাধু বাবার বিষয়ে সে ভাবে কিছু জানি না , যে টুকু শুনেছি বাবার মুখথেকে বাবা ওনার সহযোগী ছিলেন ওনার সাথে এখানে ওখানে যেতেন । সাধুবাবা কোন ভুজুং ভাজুং সন্ন্যাসী ছিলেন না । কোন ধরণের লোভ মোহ কিছু ছিলনা সর্ব খল্লিদং ব্রহ্ম এই তত্ত্ব মনে প্রাণে বিশ্বাস করতেন মানুষ , কুকুর , হাঁস, মুরগী সব কিছুকেই ভগবান সম্বোধন করতেন । উনি ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংস দেবের দ্বারা প্রবাভবিত ছিলেন হরিমন্দিরে ঠাকুর এবং মা সারদাদেবীর ছবি আছে ওনার রাখা পুরানো ছবিগুলি আমাদের ঘরে আছে ।  গায়ে ভষ্ম মাখতেন আর কৌপিন পরতেন একবার বাবা আর সাধুবাবা শীতকালের দিনে ট্রেনে কোথাও যাচ্ছিলেন তো বাবা ওনাকে একটা ভালো রেপ্যার দিয়েছিলেন উনি গায়ে ও দিয়েছিলেন তারপর একটা ভিখারিকে উনি ওটা দান করে দিলেন , বাবা যখন সাধু বাবাকে বললেন " আপনি চাদরটা দিয়েদিলেন ?" উত্তরে সাধু বাবা বলেছিলেন " আমার চেয়ে ওর ওটা বেশি দরকার " । আমাদের এখানের জয়সিয়ারাম স্কুল যেমন ওনার করা তেমনি উনি হাসপাতাল স্থাপন করতে চেয়েছিলেন - আরো কিছুদিন থাকলে হয়ত করেও যেতেন ।

শনিবার, ২৩ নভেম্বর, ২০১৯

ঝালদা ১নং চক্রের ক্রীড়া প্রতিযোগিতা


২৩শে নভেম্বর ২০১৯ অনুষ্ঠিত হল ঝালদা ১নং চক্রের ৩৭তম বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা । অনুষ্ঠাণে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট ক্রীড়া ব্যাক্তিত্ব সন্দিপ দাস , বাঘমুণ্ডি বিধানসভার বিধায়ক নেপাল মাহাত , জেলা প্রকল্প আধিকারিক বিকাশ মজুমদার , জেলা পরিষদ সদস্য রাজীব সাহু , ঝালদা মহকুমার মহকুমা শাষক সুশান্ত কুমার ভক্ত ,  ঝালদা ১নং  পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি বীণা মাহাতো , ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ দেবাশীষ মণ্ডল সহ এলাকার বিশিষ্ট জনেরা ।





অনুষ্ঠাণের সূচনাপর্বে বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র - ছাত্রীরা ড্রাম বাজিয়ে মাঠ প্রদক্ষিণ করে । এবারের ক্রীড়া প্রতিযোগীতাতে ঈশ্বর চন্দ্র বিদ্যাসাগর , মহাত্মা গান্ধী , মাতঙ্গিনী হাজরা বিশেষ ভাবে স্মরণকরে মানব স্ট্যাচুর প্রদর্শনী করা হয় । অনুষ্ঠাণটি সম্পূর্ণ ভাবে সরকারি অনুদানের উপর ভিত্তি করে সম্পন্ন করা হয় ।

সোমবার, ১৮ নভেম্বর, ২০১৯

রাঢ়ুয়ার আত্মপ্রকাশ


১৭ই নভেম্বর ২০১৯ রবিবার  পুরুলিয়া জেলার ঝালদা মহকুমা শহরের  ৮ নং ওয়ার্ডের কমিউনিটি হলে । আত্মপ্রকাশ ঘটল "রাঢ়ুয়া" ত্রৈভাষিক পত্রিকা । আত্মপ্রকাশ লগ্নে উপস্থিত ছিলেন এলাকার রাজনৈতিক , প্রশাষণিক এবং সাহিত্যানুরাগী বিশিষ্টজনেরা । সম্পাদক রাহুল কর্মকার ও সহসম্পাদক যতীন মাহাতোর তত্ত্বাবধানে একই মলাটে বাংলা , কুড়মালি ও হিন্দিভাষার সাহিত্য সম্ভার হয়ে উঠেছে এই পত্রিকা । পত্রিকার শুরুতেই রয়েছে আনরোমান্টিক ছদ্দনামধারী গল্পকারের গল্প মহামারী যা পাঠক কে নিশ্চিত ভাবেই ভাবিয়ে তুলবে এছাড়াও সনৎ চন্দ্র মাহাতোর গল্প অভিমানের রঙে ফুটে উঠেছে রাঢ়ুয়া কন্যাশ্রীর জীবনের সাদাকালো ছবি । কবিতার মধ্যে মলয় কান্তি চৌধুরী , কৌশিকী গোস্বামী , জয়জিৎ রীত , ইরফান হাবিব প্রমুখের কবিতা পাঠকের নিভৃতমনকে স্পর্শ করবে । প্রতিটি কুড়মালি কবিতা প্রশংসার দাবী রাখে । পাঠককূল কে সমৃদ্ধ করবে এর প্রতিটি প্রবন্ধ । এছাড়াও অঞ্জু কর্মকার , তরুণ রাজ প্রভৃতির কবিতা হিন্দি ভাষি পাঠকের ভালো লাগবে তা বলার অপেক্ষা রাখেনা ।

রবিবার, ১৭ নভেম্বর, ২০১৯

স্মৃতি কোঠায় রাঘবানন্দ পর্ব - ৩


( এই পর্বের কথক শ্রী কালিপদ মাহাত , প্রাক্তন শিক্ষক - তুলিন প্রাথমিক বিদ্যালয় । বুড়িবীর টাঁড় তুলিন )

সাধুবাবার জীবনের ঘটনা বিশেষ আর কি বলব , কেউ বলেন উনি গোলার দিক থেকে এসেছিলেন আবার কেউ বলেন ওড়িষ্যা থেকে । আমরা তখন খুবেই ছোটো উনি কাউ কেই নাম ধরে ডাকতেন না সবাই কেই " বাচ্চো ভগবান " বলতেন । এই হরি মন্দির বানানোর সময় , জয় সিয়া রাম স্কুল বানানোর সময় আমরা মাথায় করে ইট বয়েচি । এখন হরিমন্দিরের ডানদিকে যেখানে সাধুবাবার মন্দির রয়েচে ওখানে উনি ধুনি জ্বালাতেন ওই ভষ্ম মাখতেন পরনে শুধু কৌপিন আর জয় সিয়ারাম জয় সিয়ারাম বলে তুলিন পরিক্রমা করতেন । ওই পোশাকে উনি রায়টার্স বিল্ডিং এ তৎকালিন মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ বিধান চন্দ্র রায়ের কাছ থেকে  জয় সিয়ারাম স্কুলের এফিলিয়েশন নিয়ে এসেছিলেন । এখানে উনি বিশাল নবকুঞ্জ করেছিলেন তাঁর আগে গোলাতেও উনি নবকুঞ্জ করেছিলেন । প্রথম দিকে উনি শুধুমাত্র নিমপাতা খেতেন পরে এখানে লোকে পোকোড়ি টোকোড়ি দিলে খেতেন । 

রবিবার, ১০ নভেম্বর, ২০১৯

স্মৃতির কোঠায় রাঘবানন্দ - পর্ব ২

 স্মৃতির কোঠায় রাঘবানন্দ


মুখের কথা লেখার ভাষায় - প্রদ্যোত আশ 


( ঘটনা গুলির কথক শ্রী সুবোধ দে , তুলিন উপর পাড়া )


০৬/০৬/১৯
স্মৃতি -১
সাধু বাবা প্রতিদিন ই  দু বার করে আমাদের ঘরে আসতেন , দাদুকে নিয়ে বেরোতেন । সকাল থেকে ভাইয়ের শরীরটা খারাপ , দাদু বললেন কিষ্ট ডাক্তারকে খবর দাও । কিষ্ট ডাক্তার আমাদের পারিবারিক চিকিৎসক , ডাকলে বাড়ি আসতেন । সবেমাত্র সাইকেলের প্যাটেলে পা দিয়েছি কানে এল " জয় সিয়ারাম , জয় সিয়ারাম " ধ্বনি  ।
- আরে বাচ্চো ভগবান  কাহা জানা হে
- বাবা শক্তিকা বুখার হে তো ডক্টরকো বুলানে যা রেহি হু
- আরে শক্তি ভগবান কা বুখার হে , কাঁহা হে শক্তি ভগবান
বলতে বলতে উনি ঘর ডুকেগেলেন , পেছনে আমি । সোজা গিয়ে উপস্থিত হলেন যেখানে শক্তি শুয়ে ছিল ।
চেয়ার এগিয়ে দিলাম , উনি শক্তির কপাল ছুলেন
- শক্তি ভগবান রাম রাম বোলো
ওর মাথায় একটু ভষ্ম মাখিয়ে দিলেন - যে ছেলেটা জ্বরে কাতরাচ্ছিল সে আবার খেলতে স্টাট । সাধু বাবা চলেগেলেন । আমার মনে সন্দেহ জাগলো উনি কি শক্তির জ্বরটা টানেলিলেন তাহলে উনার কি হল , কিছুক্ষণ পরে বাবার ডেরাতে গিয়ে হাজির হলাম দেখলাম উনি কাঁপছেন জ্বরে গায়ে কম্বল চাপা দিয়ে
- বাবা আপকা কিয়া হুয়া
- আরে বাচ্চো ভগবান , বুখার ভগবান আ গেয়া , যাও বাচ্চো ভগবান পানি ভগবান লে আও
কুয়ার থেকে বাবার জন্যে জল নিয়ে এলাম । বাবা কম্বল ফেলে দিয়ে স্নান করলেন পুরা ফিট ।

স্মৃতি - ২

তুলিনে নবকুঞ্জ বসেছে । সাধুবাবার ইচ্ছা বৃন্দাবনে মতো নবকুঞ্জ করার । তো এরকম নবকুঞ্জ কেও কোথাও দেখে নাই । এতো লোক আমাদের ঘরথেকে মন্দির যাতে সময় লাগত একঘন্টা ( দূরত্ব দুশো মিটার ) । আমি তখন ভলেন্টিয়ার ব্যাচ ম্যাচ লাগায় নিয়ে যাথি । ঘর ডুকতে হত বারান্দার লোক সরাই নিয়ে বহু দূর গ্রামের লোক এসেছিল হরিবোল শুনতে ।
এই নবকুঞ্জের তৃতীয়দিনে আমার যারা ভলেন্টিয়ার দেখলাম ভাঁড়ার পুরা ফাঁকা । তো আমরা বললি সাধু বাবাকে তো বলতে হবেক নবকুঞ্জ এখানেই থামায় দিতে এখনো ছ দিন বাকি । আমরা গেলি সাধু বাবার কাছে
- ক্যায়া হুয়া বাচ্চো ভগবান
- বাবা হরিবোল তো সমাপ্ত করনা পড়েগা , ভাঁড়ার মে তো কুছ ভি নেহি হে
-  ক্যায়া বোলা বাচ্চো ভগবান , প্যায়সা কে লিয়ে ভগবান কা নাম গান বন্দ হো জায়েগা , রামনাম বন্দ হো জায়েগা কভি নেহি
- তো কিয়া করেঙ্গে বাবা
- বাচ্চো ভগবান তুম লোক মত সোচো সামসে পয়সা আ জায়েগা
তুমি বিশ্বাস করবে নাই , সন্ধ্যা বেলা থেকে মন্দিরে এতো পয়সা যে পড়তে লাগলো ! আমাদিকে পয়সা গুলা বস্তায় ভরে নিয়ে থাক করে রাখতে হয়ে ছিল ।

 স্মৃতি - ৩

উনি বাক্ সিদ্ধ মহাপুরুষ ছিলেন , আর একটা ঘটনা বলি । তুলিনে একদম বৃষ্টি নাই সব মাঠ ফুটি ফাটা । সবলোক সাধুবার কাছে নিদান চায়তে গেল
- ক্যায়া হুয়া ভগবান
- বাবা একদম পানি নেহি হো রাহা হ্যে
- ও তো পানি ভগবান কো লানা হোগা , হো জায়েগা
উনি সোজ চলে গেলেন বানসা পাহাড়ের দিকে ওখানে জপ ধ্যান করলেন । তারপরেই কথলে যে মেঘ আইল পুরা দক্ষিণ পশ্চিম আকাশটা কালো করে তুলিনে লে জল আর লে জল ।
আর উনি সবাই কেই ভগবান বলে ডাকতেন এমন কি কুকুর কে ও ভগবান বলতেন ।
শ্রী সুবোধ দে
তুলিন উপরপাড়া

শনিবার, ৯ নভেম্বর, ২০১৯

বিতর্কিত জমিতে তৈরি হবে রাম মন্দির এবং মসজিদ ও হবে অযোধ্যারই অন্যত্র


অবশেষে এল শতাব্দী প্রাচীন আইনি লড়ায়ের ফলাফল । অযোধ্যায়  বিতর্কিত জমিতে রাম মন্দির হবে - সাফ জানিয়ে দিল সুপ্রিম কোর্ট।
প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ এর নেতৃত্বে সুপ্রিম কোর্টের পাঁচ বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চের উপরে নির্ভর করেছিল অযোধ্যা মামলার রায়। স্থির হয়েছিল যে পাঁচ সদস্যের সর্বসম্মতির ভিত্তিতে দেওয়া হবে রায়। একজনের মত বিরুদ্ধে গেলে রায় দান হবে না। সেই সর্বস্মমত রায় প্রকাশ্যে এসেছে।
যাবতীয় তথ্য এবং বিশেষ করে A.S.I এর  রিপোর্টের উপরে ভিত্তি করে সুপ্রিম কোর্ট জানিয়ে দিয়েছে যে অযোধ্যার বিতর্কিত জমিতেই হবে মন্দির। কোনোভাবেই ওই জমি ভাগ করা হবে না।
এই মন্দির নির্মাণের জন্য কেন্দ্রীয় সরকারকে গঠন করতে হবে বিশেষ ট্রাস্ট । আগামী তিন মাসের মধ্যে সেই ট্রাস্টকে  মন্দির নির্মাণের রূপরেখা তৈরি করতে হবে।  অন্য দিকে সুন্নি ওয়াকফ কমিটিকে মসজিদ নির্মাণের জন্য দিতে হবে পাঁচ একর জমি । এবং তা দিতে হবে অযোধ্যারই প্রাইম লোকেশনে । সেখানে তৈরি হবে সুরম্য মসজিদ ।

বৃহস্পতিবার, ৭ নভেম্বর, ২০১৯

গ্রেপ্তার প্রাথমিক শিক্ষক আন্দোলনের অন্যতম মুখ পৃথা বিশ্বাস

নাকের বদলে নরুন পেয়েই বিরতি নিয়েছিল রাজ্যের প্রাথমিক শিক্ষকদের আন্দোলন কিন্তু সেই নরুন ও পর্যবাসিত হল আলপিনে । টানা চোদ্দদিনের অনশনের পর গত ২৬/০৭/১৯ রাজ্য সরকারের নির্দেশিকা জারি হয় । যাতে রাজ্য সরকারি প্রাথমিক শিক্ষকদের বেতন PB3 তে উন্নীত করা হয় কিন্তু কার্যক্ষেত্রে দেখা যায় সিনিয়ার টিচারদের বেতনবৃদ্ধি হচ্ছে নামমাত্র কারো ১৬০০ তো কারো ২৪০০ কোথাও কোন সঠিক ফিটমেন্টের বালাই নেয় । এরই প্রতিবাদে গতকাল ০৬/১১/১৯ যাদবপুরে একটি মিছিল সংগঠিত হয় এবং শুরু হয় অবস্থান ।  শিক্ষামন্ত্রীর সাথে বৈঠক করেন প্রাথমিক শিক্ষক সংগঠণের নেতৃত্বের কিন্তু সেই বৈঠক ফলপ্রসু না হওয়াতে আন্দোলনে অনড় থাকেন শিক্ষকেরা , সেখানে শুরু হয় প্রশাষণিক হুমকি এবং ক্ষমতাশীলদলের ছত্রছায়াতে পালিত দাদাগিরি । পরে রাত্রে শতাধিক শিক্ষককে গ্রপ্তার করে পুলিশ পরে আজ সকালে লালবাজার কিছু জন কে ছেড়ে দেয় এই সময়ই যাদবপুর থানাতে গ্রেপ্তার হওয়া শিক্ষকদের ছেড়েদেওয়ার নাম করে ডেকে পাঠানো হয় উস্থির সম্পাদিকা রাজ্যের প্রাথমিক শিক্ষক আন্দোলনের অন্যতমমুখ পৃথা বিশ্বাস কে এবং সেখান থেকে গ্রেপ্তার করা হয় তাকে ।


ছবিটি :- ফেসবুক থেকে সংগৃহিত

রবিবার, ৩ নভেম্বর, ২০১৯

স্মৃতির কোঠায় রাঘবানন্দ , পর্ব -১ , - ডাঃ শংকর চন্দ্র আশ



কেন জানি না , সে দিনটা আমার খুব মনে পড়ে , তখন আমরা মিডিল স্কুলের ছাত্র । বিদ্যালয় গিয়ে শুনলাম আমাদের দুইটি ক্লাস উচ্চ বিদ্যালয়ে যুক্ত হয়েছে । উচ্চ বিদ্যালয় আগে তুলিনে ছিলনা , সাধু বাবা এসে এই বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন । পশ্চিমবঙ্গ সরকারের নতুন পাঠক্রম অনুযায়ী ৫ম থেকে ১১শ শ্রেণী নিয়ে হায়ার সেকেণ্ডারি পাঠক্রম শুরু হয় । তাই আমরা দুইটি ক্লাসের পড়ুয়া ও তিনজন শিক্ষক এবং একজন করনিক সহ হেঁটে হেঁটে উচ্চ বিদ্যালয়ে যাই সঙ্গে ডেক্স বেঞ্চ টেবিল চেয়ার । মনে হয় " আজ কি আনন্দ আকাশে বাতাসে / শাখে শাখে পাখী ডাকে / কত শোভা চারিপাশে / আজকে মোদের বড়ই খুশির দিন / ঘরের বাঁধন ছেড়ে মোরা হয়েছি স্বাধীন " হাঁটতে হাঁটতে আমরা সবাই পৌঁছে যাই লালমাটির ধূ ধূ প্রান্তরের মাঝে শান্ত পরিবেশের স্কুলে  " এলেম নতুন দেশে " জয় সিয়া রাম হায়ার সেকেণ্ডারি স্কুল পাগল বাবা রাঘবানন্দের যেন তপভূমি ।
চার কক্ষ বিশিষ্ট একটি পাকা বাড়িতে ৭ম , ৮ম ,৯ম ও ১০ম শ্রেণী পড়ানো হোত । অপরদিকে চালাঘরে কয়েকটি শ্রেণীকক্ষ সহ বোডিং । একটি চালাঘরের কক্ষ নির্দিষ্ট হয় আমাদের শ্রেণীর জন্য , অনেক শিক্ষক মশাই এখানে শিক্ষা প্রদান করেন , বিভিন্নজন বিভিন্ন বিষয়ে - সেইদিন টিফিনের সময় একজন সহপাঠী বলে উঠল " এই দ্যাখ সাধুবাবা আসছে " গারদ বিহীন গবাক্ষের ভিতর দিয়ে বাইরে দৃষ্টি নিক্ষেপ করি । দূর হতে আলোকিত হন সেই মহামানব " ঐ মহা মানব আসে / দিকে দিকে রোমাঞ্চ লাগে ............... । " শুশ্রূ গুম্ফ মণ্ডিত বিভূতি বিভূষিত মস্তোকপরি জটা লালকাপড়ের ফিতে দিয়ে চুড়ো করে বাঁধা , লাল কৌপিন , কাঁধে লাল কাপড় দিয়ে তৈরী ঝোলা , পায়ে খড়ম , কোন শিব সহচর যেন শিবলোক থেকে অবতরন করেছেন । তিনি স্কুলের মধ্যে আসেন ।
শিক্ষক মশাই শ্রেণীকক্ষে প্রবেশ করেন আমাদের পঠন - পাঠন শুরু হয়ে যায় ‌। সাধুবাবার সান্নিধ্য পাবার জন্য কেমন যেন মনছটপট করে উঠে । পরে অনেকবার তাঁর সান্নিধ্য লাভ করেছি । তিনি বিদ্যালয়ে এলে সবাই তাকে প্রণাম নিবেদন করেছি । তখন তিনি বিদ্যালয়ে রাত্রীযাপন করতেন । প্রভাতকালীন পঠন - পাঠনে তাকে দেখেছি স্নানান্তে সারা অঙ্গ বিভূতি বিভূষিত হতেন স্বহস্তে । তারপর তিনি কয়েকটি নিমপাতা খেতেন তাছাড়া তিনি অন্য কোন খাবার খেতেন না , কেউ মিষ্টান্ন দিলে উপস্থিত সকলের মধ্যে বিতরণ করে যৎ সামান্য গ্রহণ করতেন । পকুড়ি দিলে খেতেন । জয় সিয়া রাম স্কুলে সরস্বতী পুজোর পর বিসর্জনের দিন শোভাযাত্রাকরে প্রতিমা মুরী পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া হয়েছিল । ফেরার পথে আমি বাড়িতে প্রবেশ করি , পরে বাইরে গিয়ে দেখি সাধু বাবা প্রত্যাবর্তনকারী সবাইকে আমাদের বাড়ির সামনে বদি ময়রার দোকানথেকে থালাভর্তি পকুড়ি বিতরণ করছেন । আমি আবার ছুটে গিয়ে সেই দলে যোগ দিই , সাধু বাবা আমার হাতে পকুড়ি দেওয়াকালীন জিজ্ঞাসা করেন - তুম মুরী গেয়াথা ? ভক্তি যেন আমার উথলে ওঠে বলি - হ্যা বাবা গয়াথা । সেই থেকেই হয়ত পকুড়ির প্রতি আমার স্পৃহা তৈরি হয়ে আছে ।
তারকাছে সবই ছিল ভগবাণের রূপ । তাই তিনি সব কথাতেই ভগবাণের কথা উল্লেখ করতেন , বাচ্চো ভগবাণ , মাষ্টার ভগবাণ , পরিচিত সকলের নামের সঙ্গে ভগবাণ শব্দটি যুক্তকরে ডাকতেন । সব কিছুতেই তিনি হয়ত ব্রহ্মকে উপলব্ধি করতে পারতেন । জগৎ কল্যাণের জন্য তিনি নিজেকে উৎসর্গ করেছিলেন । প্রথমে তিনি শ্রী শ্রীহরি মন্দির প্রতিষ্ঠা করেছিলেন । নিত্যপূজার ব্যাবস্থা করেছিলেন যা আজ ও হয়ে চলেছে । প্রতিবৎসর মন্দিরে নাম সংকীর্তনের আয়োজন করতেন যা এখনো আয়োজিত হয় । তিনি নয়টি কুঞ্জে একই সাথে নামসংকীর্তন করিয়েছিলেন । তাঁর সেই নির্দিষ্ট স্থানে নয়টি মন্দির নির্মিত হয়েছে । সেখানে বেশ কেয়েক বছর পরে পরে নবকুঞ্জ সংকীর্তন অনুষ্ঠিত হয় । যা অত্যন্ত ব্যায়বহুল । তাঁর জীবদ্দশায় তিনি একবার চোদ্দ মাদল ও একবার নবকুঞ্জ করিয়ে গেছেন । শৈশবে দেখেছি তিনি অনুচরবর্গ সমবিব্যাহারে বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে হরিনাম সংকীর্তনের চাঁদা সংগ্রহ করতেন । দরজায় এলে মনে হতো " তেরে দোয়ার খাড়া ভাগবাণ /  ভকত ভরদেরে ঝোলি "  এইটি তাঁর প্রিয় গানছিল , তাছাড়া তাঁর প্রিয় গানছিল " পিঞ্জরে কে পানছি তেরা দর্দ না জানে কোই " - তিনি এলে সকলেই সাধ্য মত অর্থ তার অনুচরবর্গের হাতের থলিতে প্রদান করতেন সেই সময় দেখেছি নামে নামে রসিদ দেওয়া বা খাতায় লিখে রাখা হতো না ।
সেই বারেই প্রথমবার ঠাকুমার সঙ্গে ( অত্যন্ত শৈশবে আমি মাতৃহারা )  হরি মন্দির প্রাঙ্গনে গেছি । মহা সমারোহে নাম সংকীর্তন চলছে । সবাই ভক্তিভরে নামসংকীর্তন শুনে চলেছেন ---। দেখি সাধুবাবা একজন খোলবাদকের কাঁধ থেকে খোল নিয়ে বাজাতে শুরুকরলেন ।  জলদ গম্ভীর কন্ঠে খোলের বোল উচ্চারণ করে চলেছেন । নয়নাভিরাম এক অপার্থিব দৃশ্য । সমস্ত শ্রোতারা বিহ্বল দৃষ্টিতে তাকিয়ে , সবাই এক অনাবিল আনন্দে আত্মহারা , বৈকুণ্ঠ থেকে শ্রীহরি মাতা লক্ষীসহ যেন মন্দিরে বিরাজ করছেন , তাঁদের কেই যেন তিনি নৃত্য প্রদর্শন করছেন , নামের সঙ্গে মৃদঙ্গ ও মন্দিরার শব্দে আকাশ বাতাস মুখরিত । ভক্তরা নিজ নিজ ইষ্টের রূপকল্পনা করে চলে । কৃষ্ণভক্তরা রাসলীলার রাধাকৃষ্ণের নৃত্য দেখতে পান । শিব ভক্তরা দেখেন কৈলাস থেকে শিব নটরাজ হয়ে অন্তরীক্ষে নৃত্য শুরু করেছেন । আর যারা সব সময় বিষয় কর্মে আবদ্ধ , যারা ঘর ছেড়ে বাইরে যাবার সময় পান না , তারাও সেদিন ঘরের মধ্যে শুনতে পান ------
ঐ মহাসিন্ধুর ওপার থেকে
কী সঙ্গীত ভেসে আসে ..............
বলে আয়রে ছুটে আয়রে ত্বরা
হেথা নাইকো মৃত্যু , নাইকো জ্বরা

লেখক - ডাঃ শংকর চন্দ্র আশ
গ্রাম - তুলিন , জেলা - পুরুলিয়া
বয়স - ৭০ বছর


শুক্রবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

পে কমিশন নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণার পরেও ধোঁয়াসা থেকে গেল

বহু সরকারি কর্মচারী তাকিয়ে ছিলেন মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রীর নেতাজী ইন্ডোরের সভার দিকে । ভাবনা একটাই ২০১৬ সালে বেতন কমিশন বসেছিল তা কবে কার্যকর হবে ?একটাই প্রশ্ন রাজ্য সরকারী কর্মচারী মহলে । অবশেষে আজকে মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা বিশ্লেষণ করলে যা পাওয়া যায় তাহল
ক. পেনশন দেশে সরকারি ব্যাবস্থায় একমাত্র পশ্চিমবঙ্গে চালু থাকবে।
খ. ৮ বছরে বকেয়া ৯৩ শতাংশ ডিএ দেওয়া হয়েছে।
গ. পে কমিশন এর প্রথম অংশ জমা হয়েছে, ষষ্ঠ পে কমিশন এ সম্ভবত ব্যান্ড পে ও গ্রেড পে না থাকার সুপারিশ।
ঘ.  ষষ্ঠ পে কমিশন, কমিশনের রিপোর্ট মেনে নিয়েই হবে। ডিএ+ পে কমিশন মার্জার হয়ে ১২৫ থেকে ২৫৭ তে দাঁড়াবে।
ঙ. ২.৫৭ ফ্যাক্টর কাজ করবে ব্যান্ড পে ও গ্রেড পের উপর, ১৬৮০০ স্যালারি পেলে ২০৯০০ +- হবে।
চ. গ্র্যাচুইটির পরিমান বাড়বে।
ছ . পে কমিশন ২৩ সেপ্টেম্বর ক্যাবিনেট মিটিং এর পর প্রসিডিওর মেইনটেইন করে ১ লা জানুয়ারি ২০২০ থেকে চালু করার চেষ্টা হবে।
মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণার পরেও ধোঁয়াসা থেকে যাচ্ছে ফলত সময়ের দিকে তাকিয়ে থাকতে হবে সরকারি কর্মচারীদের ।

ছবি - ইন্টারনেট থেকে সংগৃহীত

রাজ্যের প্রতিটি বিদ্যালয়ে পালিত হবে বিদ্যাসাগর সপ্তাহ

ঈশ্বর চন্দ্র বিদ্যাসাগরের ২০০তম জন্মবার্ষিকি উপলক্ষ্যে রাজ্যের প্রতিটি বিদ্যালয়ে আগামী ২০শে সেপ্টেম্বর থেকে ২৬শে সেপ্টেমম্বর  পালিত হবে বিদ্যাসাগর সপ্তাহ । এই মর্মে নির্দেশিকাও জারি করেছে বিদ্যালয় শিক্ষাদপ্তর । সারা সপ্তাহ ধরে বিদ্যালয়ের পঠন - পাঠনের সাথে সাথে আয়োজন করতে হবে বিভিন্ন সংস্কৃতিক প্রতিযোগীতা ও অনুষ্ঠাণের । যার মধ্যে থাকবে প্রবন্ধ , অঙ্কন , প্রশ্নত্তোর ইত্যাদির প্রতিযোগীতা , চিত্র প্রদর্শনী , সেমিনার এবং প্রভাত ফেরী । এই উপলক্ষ্যে প্রথম এবং দ্বিতীয় শ্রেণীর হাতে তুলে দেওয়া হবে বিদ্যাসাগর প্রণীত " বর্ণপরিচয় " প্রথম এবং দ্বিতীয় ভাগ । এই সপ্তাহ পালনের জন্য প্রাথমিক বিদ্যালয় গুলিকে দু হাজার এবং মাধ্যমিক বিদ্যালয় গুলিকে তিন হাজার টাকা আর্থিক অনুদান দেবে রাজ্যের বিদ্যালয় শিক্ষা দপ্তর ।
ছবি :- গুগেল থেকে সংগৃহীত 

বৃহস্পতিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

আবারো বড় সড় আন্দোলনের পথে প্রাথমিক শিক্ষকরা


টানা ১৪ দিনের আমরণ অনশনের পর প্রাথমিক শিক্ষকদের দাবী আংশিক মান্যতা দিয়ে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে ছিল রাজ্য সরকার গত ২৬/০৭/১৯ । বর্ধিত বেতন কাঠামো লাঘু হওয়ার কথা ছিল ০১/০৮/১৯ থেকে কিন্তু সময় গড়িয়ে চলেছে এখনো পর্যন্ত বিজ্ঞপ্তি নিয়ে যে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছিল তা থেকেই গেছে ফলত অধরা থেকে গেছে নতুন বেতনক্রম । মাঝে মধ্যে ফিটমেন্ট ফ্যাক্টার সংক্রান্ত খবর উঠে এলেও সরকারের পক্ষ থেকে কোন সংবাদিক সম্মেলন করে এই ধোঁয়াশা কাটানো হয়নি বরং দিনে দিনে ধোঁয়াশা বাড়ছে । এমত অবস্থায় আবার পথে নেমে বৃহত্তর আন্দোলনের কথা ভাবছে  প্রাথমিক শিক্ষক সংগঠণ UUPPTWA । রাজ্য সভাপতি সন্দিপ ঘোষ UUPPTWA র ফেসবুক গ্রুপে লিখেছেন " 26th july পশ্চিমবঙ্গ সরকার  প্রাথমিক শিক্ষকদের  বেতন বৃদ্ধির  বিষয়ে 1st August থেকে কার্যকরী করার নির্দেশ দিয়েছেন কিন্তু  কি পদ্ধতিতে বেতন বৃদ্ধি করবেন তার প্রয়োজনীয় নির্দেশ অর্থমন্ত্রক থেকে না আসার ফলে এখনো কার্যকরী হয় নি। যদিও আমরা জানি যতদিনই দেরী করুক, তার arrear দিতে হবে 1 st August  থেকে।
কিন্তু কেন এই অস্বাভাবিক দেরী? সরকার দেখেছেন সমস্ত প্রাথমিক শিক্ষক একজোট হয়ে uuptwa র ছাতার তলায় সমবেত হয়েছেন।সুতরাং আগে এই unity ভেঙে দাও। যত টাকা দিতে দেরী হবে তত শিক্ষকদের ধৈর্য্য কমবে এবং নেতৃত্বের প্রতি অনাস্থা প্রকাশ পাবে। এই সময় বাজারে কিছু দালাল প্রাথমিক শিক্ষক নেমে পড়বে এবং বিভিন্ন শিক্ষকদের ক্ষেপিয়ে তুলবে। এর প্রমান আমরা দেখছি, fitment factor বেড়োবার আগেই  2014, 2017 সালের কিছু শিক্ষক " আমরা বন্চিত " বলে আগেই বাজার গরম করা আরম্ভ করলেন।
uuptwa কে এত সহজে হার মানানো যাবে না। সরকারের রক্ত চক্ষু, দমন পীড়ন নীতি, জেলা বদলী উপেক্ষা করে শিক্ষকদের একজোট করতে পেরেছি। পাঁচজন মিলে লড়াই আরম্ভ করে আজ দেড়লাখে পৌছেছি।
আমরা শুধু মাত্র সরকারের বিরোধীতা করবার জন্য সংগঠন করিনি। আমরা আমাদের পেশার প্রতি দায়বদ্ধ। এই কারনেই  আমরা অনশন চলাকালীন একটা স্কুল ও বন্ধ রাখিনি।
আমরা আশা করি সরকার আগামী 10 দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দিয়ে  বেতনবৃদ্ধির বিষয়টি সুনিশ্চিত করবেন। না হলে কিন্তু দূর্গাপূজার আগে আবার প্রাথমিক শিক্ষকেরা রাস্তায় নামতে বাধ্য হবেন।"
এই পোষ্ট দেখার সাথে সাথে শিক্ষকরা মানষিকভাবে প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন আন্দোলনে নামার ।

বুধবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

বিদ্যালয় গুলির ছুটিতে কোপ

প্রবল সমালোচনার জেরে এ বছরই বাতিল হয়েছিল গ্রীষ্মাবকাশের টানা ছুটি । আবারও কোপ পড়ল বিদ্যালয় গুলির ছুটির তালিকা তে । এবছর শুরু হচ্ছে জাতির জনক মহাত্মা গান্ধীর জন্মের সার্ধ শতবর্ষ পালন চলবে বছর ভর । এর ফলে প্রতিটি বিদ্যালয়ে যথাযোগ্য মর্যাদার সাথে পালিত হবে দিন টি এর জেরে ছুটি পাওয়া যাবে না ২রা অক্টোবর । অনেক সময় পুজোর ছুটি পঞ্চমীতে শুরু হয়ে যায় , এবছর তেমনটা হলে চতুর্থীর দিন থেকে ছুটি পাওয়া যেত কারণ পঞ্চমী ৩রা অক্টোবর । জনৈক শিক্ষকের কথায় " জাতীয় মর্যাদা পূর্ণ দিন গুলি যেমন স্বাধীনতা দিবস , প্রজাতন্ত্র দিবস ইত্যাদি ছুটির তালিকা থেকে বাদ রাখলে ভালো হয় তাতে সমস্ত শিক্ষক শিক্ষিকারা স্বতস্ফুর্ত ভাবেই খুশি হবে আর গোনা ৬৫ দিন থেকেও বাদ যাবে না " ।


ছবি :- প্রতীকী গুগেল থেকে সংগৃহীত

মঙ্গলবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

মিলছে যখন বিশেষ ছাড় ------ প্রদ্যোত আশ



এই কার্ড থাকলে বাড়তি ১০ %ছাড় । পুজো এলেই শুরু হয় বাজার ধরার প্রতিযোগীতা । দোকানে দোকানে শুরু হয়ে যায় বিশেষ ছাড় । এরকমই ছাড় পেতে পারেন যদি আপনার বঙ্গীয় গ্রামীন বিকাশ ব্যাঙ্কের রুব পে কার্ড থাকে , বিগ বাজারে কেনা কাটা করালে বাড়তি ১০% ছাড় পাবেন ক্রেতারা । ২০০০ টাকার উপর কেনা কাটা করলে আপনি এই ছাড় পাবেন অফার চলবে ০৮/১০/১৯ পর্যন্ত এমনটাই sms করছে ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ ।
সারা বছরের নানান সময় বিভিন্ন অফার দিয়ে থাকে বিগ বাজার ইত্যাদি শপিং মল গুলি । বর্তমানে প্রচুর সুবিধা পাওয়া যায় অন লাইনে কেনা কাটাতে আপাত দৃষ্টিতে আমরা গ্রাহকরাই লাভবান হয় । কিন্তু এর ফলে সংকটের মুখে পড়ছে ক্ষুদ্র ব্যাবসায়ীরা বলে অনেকের অভিমত । কৌশিক গাঙ্গুলীর সিনেমা " শংকর মুদি " র কথা মনে পড়ে যায় এই বহুজাতিক কম্পানিগুলির থাবা কি ভাবে শংকর মুদিদের অস্তিত্বকে বিপন্ন করে তুলছে তাই এই সিনেমার মূল বিষয় । আবার বাস্তবে আমরা দেখি যে সমস্ত ফাঁকা জায়গা গুলোতে শপিং মল গজিয়ে উঠছে সেখানে আবার নতুন করে বাজার তৈরি করছে ক্ষুদ্র পুঁজি - শপিং মল কে কেন্দ্র করে খোলা হচ্ছে ফাষ্ট ফুডের দোকান , মলের নিজস্ব রেস্তরা থাকলেও ক্রেতারা ভিড় বাড়াচ্ছে এই সব ফুটের দোকান , ঠেলা গাড়িতে । আবার এটাও ঠিক অন লাইনে মোবাইল বিক্রির  ফলে পাড়ার মোবাইল দোকানটা হয়ে গেছে মোবাইল রিপেয়ারিং এর দোকানে । আসলে সময় পরিবর্তনশীল তাই আমাদের কেও অভিযোজিত হতে হবে ........... কিন্তু প্রশ্ন কতটা তালমেলাতে পারবে শংকর মুদিরা ।
ছবি :- প্রতীকী গুগেল থেকে সংগৃহীত

সোমবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

করম পরব ---


করম পরব ( উত্সব ) আদিবাসী জাতির একটি কৃষি ভিত্তিক ঐতিহ্যবাহী উত্সব । আদিবাসী যেমন - ওঁরাও, সাঁওতাল, মুন্ডা, পাহান, কুড়মি, ভূমিজ সহ প্রায় ৩৮ টি জাতির মানুষ করম পরব পালন করে ।
প্রতি বছর ভাদ্র মাসের শুক্ল একাদশী তিথিতে করম পরব উৎসব হয়ে থাকে। এর সাত / পাঁচ / তিন দিন আগে মেয়েরা ভোরবেলায় শালের দাঁতন কাঠি ভেঙে নদী বা পুকুরে স্নান করে বাঁশ দিয়ে বোনা ছোট টুপা ও ডালায় বালি দিয়ে ভর্তি করেন। তারপর গ্রামের প্রান্তে একস্থানে ডালাগুলিকে রেখে জাওয়া গান গাইতে গাইতে তিন পাক ঘোরে। এরপর তাতে তেল ও হলুদ দিয়ে মটর, মুগ, বুট, জুনার ও কুত্থির বীজ মাখানো হয়। অবিবাহিত মেয়েরা স্নান করে ভিজে কাপড়ে ছোট শাল পাতার থালায় বীজগুলিকে বুনে দেন ও তাতে সিঁদুর ও কাজলের তিনটি দাগ টানা হয়, যাকে জাওয়া ডালি বলা হয়। এরপর ডালাতে ও টুপাতে বীজ বোনা হয়। এরপর প্রত্যেকের জাওয়া চিহ্নিত করার জন্য কাশকাঠি পুঁতে দেওয়া হয়। একে জাওয়া পাতা বলা হয়। যে সমস্ত কুমারী মেয়েরা এই কাজ করেন, তাঁদের জাওয়ার মা বলা হয়। ডালার জাওয়াগুলিকে নিয়ে তাঁরা গ্রামে ফিরে আসেন।
করম পুজোর দিন গ্রামের বয়স্কদের একটি নির্দিষ্ট করা স্থানে দুইটি করম ডাল এনে পুঁতে রাখা হয়, যা সন্ধ্যার পরে করম ঠাকুর এবং ধরম ঠাকুর হিসেবে পূজিত হন। কুমারী মেয়েরা সারাদিন উপোষ করে সন্ধ্যার পরে থালায় ফুল, ফল সহকারে নৈবেদ্য সাজিয়ে এই স্থানে গিয়ে পূজা করেন। করম ডালে ভেঁট (আলিঙ্গন) নেন, যা বৃক্ষের প্রতি ভালবাসার প্রতীক । এরপর করম ডাল ও জাওয়া ডালি কে ঘিরে নাচ গান চলে। পরদিন সকালে মেয়েরা জাওয়া থেকে অঙ্কুরিত বীজগুলিকে উপড়ে নিজেদের মধ্যে ভাগাভাগি করে নিয়ে বাড়িতে বিভিন্ন স্থানে সেগুলিকে ছড়িয়ে দেন। এরপর করম ডালটিকে জলে ভাসিয়ে দেওয়া হয় জলাশয়ে ।
জোহার করম রাজা. ..

রবিবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

অবশেষে হয়ত বৃদ্ধি হতে পারে প্রাথমিক শিক্ষকদের বেতন .........

অবশেষে হয়ত অংশিক দাবী মিটতে চলেছে পশ্চিমবঙ্গের প্রাথমিক শিক্ষকদের । গত শুক্রবার ( ০৬/০৯/১৯ ) একটি বহুল প্রচারিত সংবাদ মাধ্যমে খবরটি প্রকাশিত হওয়ার সাথে সাথে শুরু  হয় জল্পনা চায়ের দোকান , পাঠার ঠেক সর্বত্ত  - প্রাথমিক শিক্ষকদের বেতনবৃদ্ধি নিয়ে । জনৈক প্রাথমিক শিক্ষক এর মতে " বাজারি সংবাদপত্র  গুলি বার বার জন মানসে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে । বেতন বৃদ্ধির খবর প্রশ্ন উত্তর করতে করতে নাজেহাল হচ্ছি আমরা । সংবাদ পত্র গুলি প্রথমে আট হাজার দশ হাজার করে বেতন বাড়িয়ে দিল - এখন আবার লিখছে আরো বেতন বাড়ছে আমাদের - এই ধরণের হলুদ সংবাদিকতা কে আমরা তীব্র ধিক্কার জানাই । ওদের পরিবেশন করা কোন খবরে আমাদের বিশ্বাস নেই । যতক্ষণ না হাতে পাচ্ছি ততক্ষণ পর্যন্ত বিশ্বাস করা মানে আন্দোলনের মানষিকতা কে নষ্ট করা । প্রয়োজনে আমরা আবার রাস্তায় নামবো । "
প্রসঙ্গত গত ২৬/০৭/১৯  UUPPTWA র নেতৃত্বে ১৪ দিনের অনশন আন্দোলনের পর রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয় যেখানে প্রাথমিক শিক্ষকদের দাবীকে আংশিক ভাবে মেনে গ্রেড পে ৩৬০০ এবং PB3 স্কেলের কথা বলা হয় । যদিও দাবী ছিল গ্রেড পে ৪২০০ এবং PB4 স্কেল যা সর্ব ভারতীয় বেতনক্রম , অধিকাংশ রাজ্য তাই দিয়ে থাকে ।
শনিবার  রাত্রে UUPPTWA এর রাজ্য সভাপতি সন্দিপ ঘোষ ফেসবুকে পোষ্ট করেন -  " সব প্রাথমিক শিক্ষক শিক্ষিকা প্রহর গুনছেন কবে অর্থ মন্ত্রক থেকে  বেতন বৃদ্ধির নোটিশ আসবে। অনেকেই ফোন করছেন জানতে। কিন্তু আমরা যে সংগঠনটি করি uuptwa, সেখানে আমরা যতক্ষণ না সরকারি notice পাব ততদিন কোনরকম বাজারি পত্রিকার মত খবর তৈরি করব না অথবা খবর ছড়াব না।"

শুক্রবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

শিক্ষক দিবসে নজির সৃষ্টি করলেন ঝালদার শিক্ষক সমাজ


কোথাও প্রয়াত পার্শ্ব শিক্ষকের পরিবারের হাতে আর্থিক সাহায্য তুলে দেওয়া, কোথাও আবার রক্তদান উৎসব । এভাবেই পালিত হল শিক্ষক - দিবস পুরুলিয়া জেলার ঝালদা মহকুমা শহরে । এই দিন ঝালদা সত্যভামা বিদ্যাপীঠের সভাকক্ষে প্রতিবছরের মতো প্রাক্তন শিক্ষকদের সংবর্ধনার আয়োজন করেন ঝালদা ১নং চক্রের প্রাথমিক শিক্ষক - শিক্ষিকারা । এই অনুষ্ঠাণে ওই চক্রের অকাল প্রয়াত পার্শ্ব শিক্ষক মনোজ পরামানিকের পরিবারকে প্রায় ১ লক্ষ ১৮ হাজার টাকার আর্থিক সাহায্য তুলে দেওয়া হয় । চক্রের এক শিক্ষকের কথায় " মনোজ বাবু যেহেতু পার্শ্ব শিক্ষক ছিলেন , তাই তাঁর পরিবার কোন ভাবে সরকারি সাহায্য পাবে না , আমরা আমাদের সহকর্মীর পরিবারের ক্ষতিপূরণ করতে পারব না তবু কিছু একটা করার উদ্দেশ্যে নিজেদের মধ্যে চাঁদা করে এই অর্থ ওর পরিবারের হাতে তুলে দিলাম । " এই অনুষ্ঠাণে উপস্থিত ছিলেন সমগ্র শিক্ষা মিশনের জেলা প্রকল্প আধিকারিক  বিকাশ মজুমদার , সেকেণ্ডারি এ আই বীরবাহাদুর রানা , ঝালদা ব্লক সাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ দেবাশীষ মণ্ডল , ঝালদা ১ নং পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি শ্রীমতি বীণা মাহাত , ঝালদা ১ নং চক্রের অবর বিদ্যালয় পরিদর্শক শুভঙ্কর নন্দ ।
প্রয়াত পার্শ্ব শিক্ষক মনোজ পরামানিকের মেয়েদের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে আর্থিক সাহায্য

ওই দিন একই ক্যাম্পাসে রক্তদান উৎসবের আয়োজন করা হয় ঝালদা সত্যভামা বিদ্যাপীঠের জাতীয় সেবা প্রকল্প থেকে । এই শিবির এ বছর দু বছরে পদার্পন করল । প্রাক্তন ছাত্র , বর্তমান শিক্ষকদের পাশাপাশি রক্তদান করেন ঝালদা ১নং চক্রের প্রাথমিক শিক্ষকরা , ঝালদার সাধারণ মানুষ এবং অনুষ্ঠাণে আশা অতিথি অভ্যাগতরা । মোট ৫৪ জন স্বেচ্ছা রক্তদাতা রক্তদান করেন । রক্তসংগ্রাহক ছিলেন পুরুলিয়া দেবেন মাহাত সদর হাসপাতালের ব্লাড ব্যাঙ্কের কর্মীরা । এই শিবিরের আগে পথ সভা করা হয় এক সপ্তাহ ধরে ।
পথ সভা চলছে
রক্তদান করছেন সমগ্র শিক্ষা মিশনের জেলা প্রকল্প আধিকারিক বিকাশ মজুমদার

রবিবার, ১১ আগস্ট, ২০১৯

গল্প :- চাঁদের গায়ে চাঁদ লেগেছে

প্রদ্যোত আশ 

চাঁদা মামা সবে ঘুমতে যাবে উঠে পড়ে রঞ্জন । বয়স টা বায়ো কি তেয়ো মা বলে আয়ো কম না হলেও সতর্ক হওয়ার বয়স তো নয় -  এই সে দিন জ্যাঠা মশাই বললেন - তোমাদের বয়সে আমরা জল চিবিয়ে খেতাম আর এখনি তোমাদের ডায়েট কনট্রোল ! সে যাই হোক প্রকৃতির প্রাত্যহিক আহ্বাণে সাড়া টাড়া দিয়ে গরম জলে আদা থেতো আর মধু মিশিয়ে খেতে খেতে বেঁধে নেয় জুতোর ফাঁস - প্রতীজ্ঞাটা অবাঞ্ছিত মেদ ঝরানোর । মুখে না বললেও পা দুটো বলে উঠে তেজ চল তালি এক দো এক -  বাঁ ডান বাঁ । পুবের আকাশটা রঙ ধরতে শুরু করছে - বট ফলের শব্দ এখনো শোনা যাচ্ছে রাস্তায় । আধিকাংশ দোকানে জ্বালানি এখন গ্যাস ফলে ধোঁয়ার উৎপাত নাই বললেই চলে - মনে আছে ছোটোর সময় বাবার সঙ্গে হাটতে বেরোলে দোকানের সামনে গুলো অতিদ্রুত হাঁটতে হতো । মাতৃমন্দিরের কাছে এসে রাজপথ থেকে নেমে আসে রঞ্জন । এটা কোন মন্দির নয় আবার মন্দিরই বটে । কলকাতার বাবুদের পশ্চিমে হাওয়া বদলের বাগান বাড়ি কেউ বলে সুভাষ বোসের পিসিমার বাড়ি তো এখন রাম ও নেই আর আযোধ্যা জিজ্ঞাসার সাথে বিস্ময় জুড়ে যাওয়া চিহ্ন , বাড়িটা এখন বেসরকারি স্কুল আর বাগান টা তো পুটুস ঝাড় মাঝখানে চশমা খসে পড়া সুভাষ বোস । রঞ্জন মূর্তির গায়ে হাত বোলায় দুদিন পরেই লোকটার জন্মদিন ফুল মালা চন্দন ধুপ কিন্তু প্রয়াণ নাকি দেওয়ালে লেখা আবছা কথা গুলোই সত্য নেতাজী ফিরে আসবে ! গতকাল ই ইন্টারনেটে পড়ছিল কেউ বলছে ওর শেষ জীবন কেটেছে বরফ দেশের জেলে নাকি আবারো অন্তর্ধ্যান ....... রঞ্জন ভাবতে পারে না ছোট থেকে শুনে আসা কথা গুলো স্পষ্ট হয়ে ওঠে হ্যাঁ এই রাস্তা দিয়ে উনি চলেছেন রাজার রাজা হয়ে ঘোড়ার লাগাম ধরে রাস্তায় বিছিয়ে দেওয়া হয়েছে নতুন মার্কিন কাপড় পেছনে অসংখ্য অনুগামী উনি এগিয়ে আসছেন আর বেড়েই চলেছে অনুগামীদের ভিড় ঘরে ঘরে শাঁখ বেজে উঠছে দুপাশ জুড়ে পুষ্পবৃষ্টি । আজ আর সত্যিই চশমা লাগেনা আচ্ছা উনি কি দেখতে পাচ্ছেন আজকের ভারতবর্ষকে - তাঁর সামনে দাঁড়িয়ে থাকা রঞ্জনকে - না না পাচ্ছেন পাচ্ছেন নিশ্চয় নাহলে প্রতিটি সকালে কে ডাকে এখানে । দিবাকর ওই তো মুখ তুলছে বানসা পাহাড়ের বুক থেকে পায়ের পাতা দুটোকে তিরিশ ডিগ্রি কোনে এনে ঋজুরেখ হয়ে দাড়িয়ে পড়ে রঞ্জন শ্রদ্ধ্যাবদ্ধ করপুটে - প্রাত্যহিক অভ্যাসে উচ্চারণ করে
ওঁ জবাকুসুমসঙ্কাশং
কাশ্যপেয়ং মহাদ্যুতিম্ 
ধ্বান্তারিং সর্ব্বপাপাঘ্নং
প্রণতোহস্মি দিবাকরম্ ।
আদিত্যায় সোমায় মঙ্গলায়
বুধায়চ গুরু শুক্র শনিভশ্চ
রাহবে কেতবে নমঃ নমাহ্ ।
রঞ্জন এবার পা বাড়ায় ঘরে ফেরার পথে । ঠিক এই সময় কানে আসে স্পষ্ট বাংলা উচ্চারণ
-- শুনছেন 
- হ্যাঁ , বলুন 
-- একটা ছবি তুলেদেবেন প্লীজ 
-- নিশ্চয় 
মেয়েটি মোবাইল  টা এগিয়ে দিয়ে ডানা মেলে দাঁড়ায় মাথায় নতুন সকালের আলো আর পেছনে পুটুসের ঝোঁপ বাঁ পাশে চশমা খোলা সুভাষ আর জামা ফুটো করা কাঠবেড়ালী জরিপ করে নিচ্ছে । 
-- নিন
- থ্যাকিউ
- ওয়েল কাম 
মেয়েটি আলতো হেসে চলে যায় আর রঞ্জন পথ ধরে ফেরার । ছবিটা ভালোই তোলা হয়েছে বলে তো দেখল - আর একবার দেখতে পেলে ভালোহত । 


আফিসের অবকাশে ফেসবুক টা স্ক্রোল করতে থাকে রঞ্জন । বন্ধু দেবজিৎ শেয়ার করেছে থ্রিডি ফ্লোর পেন্টের চিত্রগুচ্ছ - ইন্দ্রপ্রস্থের ময়ামহলের ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে রয়েছে যাজ্ঞসেনী - যাজ্ঞসেনী সেন যার কাছে রঞ্জন কর্ণ হয়েই থেকে গেল যদিও সে রাধেয় নয় অথচ বড় অসহায় । রঞ্জন ভাবে এবার বাথরুমের টাইলস্ গুলো বদলে পাঁচ বাই আড়াইয়ের সমুদ্র বানিয়ে ফেললেই হয় । আনমনে স্ক্রোল করতে করতে চোখ দাঁড়িয়ে যায় সকালে তোলা ছবিটার দিকে থেকে যা শালা এ তো ডানা বহু পুরোন ফেসবুক ফ্রেণ্ড বছর চার আগে চ্যাটও করেছে দু এক দিন তাঁরপর হারিয়ে গেছে চার হাজার বন্ধুর ভিড়ে । রঞ্জন মনে করে দেখে ওর প্রোফাইল পিকটা ছিল একতারা । হ্যাঁ কথা হত বাউলামী নিয়ে মেয়েটার ঘুরে বেড়ানোর সখ - আন্তর্জালিক জগতে মেয়েটি এখনো সক্রিয় রয়েছে চলমান ক্যামেরা চিহ্নে আঙুল ছোঁয়ায়
- হাই
- তুমি
- হ্যাঁ তো
- বাড়ির কাছে আরশি নগর
- তাহলে অদেখা কেন থেকে যাও 
- তাহলে
- কোথায় এখন 
ক্যামেরা টা একটু দুরে নিয়ে যায় ডানা পেছনে বামনীর পাহাড়ি তরঙ্গ মধ্যলয়ে নেমে আসছে ।
- বা , অযোধ্যা গেছ 
 - হুঁ , দারুণ , দারুণ জায়গাটা 
- বর্ষায় এলে আরো ভালো লাগবে 
- এখন রাখছি 
- এখানেই ফিরবে
- হ্যাঁ , ফোন নম্বর টা দিয়ে রাখ ফিরে ফোন করে নেব
চ্যাট বক্সটা রেটিং দাবি করে রঞ্জন আজ পাঁচ তারা ছুঁয়ে দেয় ।
ঝরে পড়া পাতার হাওয়া ঘনিয়ে তোলে বিষাদ মেঘ । আবার  গাছ গুলো একটু ভালো করে দেখলে নব বসন্ত উঁকি মারে বাতাসে রঞ্জন নীরবে বসে থাকে বিষাদ মেখে গাইতে থাকে বাইতে জানো না তরী মিছে ধর হাল । হঠাৎ ই ফোন টা বেজে ওঠে আননোন নম্বর শীতল স্রোত খেলে যায় রিজিভ রেখা টানার সাথে সাথে বেজে ওঠে পুরোনো দিনের হিন্দি গান কান গুলো লাল হয়ে যায় । ডানা কি ফোন করবে আদৌ করা বা নাকরা কোনটাই অস্বাভাবিক নয় তবু না করার পাল্লাটাই ভারী মনে হয় আর যদি করেও বা তাহলেও ....... । আবারও আননোন নম্বরের ফোন 
- হ্যালো কে বলছেন
- রঞ্জন বলছো 
- হ্যাঁ
- আমি ডানা মানে কস্তুরি রায় কথা বলছি ।
- ও , কখন ফেরা হল 
- এই ফিরলাম 
- ফেরা কি আজ কেই ?
- না না কাল সকালে ইন্টার সিটি ধরব রাত্রে রির্জাভরেশন পাই নি
- ও , 
- তাহলে আজ কি দেখা হতে পারে 
- নিশ্চয় , রুমে থাকবে না বেরোবে 
- না না বেরোনই ভালো তোমার অসুবিধা আছে 
- না না তুমি এসো আমি সকালের জায়গাটাতেই অপেক্ষা করছি 
- এখন কোথায় ? চশমা খোল নেতাজীর সামনেই আছ ? 
-  হ্যা কাছা কাছি আছি , তুমি চলে এসো ।
রঞ্জন মাঠ থেকে পৌঁছে যায় নেতাজীর কাছে যদিও সে যুদ্ধে যাচ্ছে অথবা যুদ্ধই বটে । ডানাও পৌঁছে যায় কিছুক্ষণের মধ্যেই 
হাই
হাই , আমি তো ভাবতেই পারিনি তোমার সাথে এভাবে কোনদিন দ্যাখা হতে পারে
ও তাই বুঝি চ্যাটকরা বন্ধকরে দিয়েছিলে , তাহলে ভাগ্যিস আমি এলাম 
ডানার কথা গুলো রঞ্জনের বুকে মোচড় দিতে থাকে । এখন পৃথিবী টা সত্যিই হাতের মুঠোয় আবার কাছের চলে যাচ্ছে দূরে এই তো সেদিন ওর বন্ধু প্রীতমের সন্তান কে দেখতে গিয়ে ছিল আর গাড়িতে প্রীতম আলাপ করাল ওর নতুন প্রেমিকার সাথে ফেসবুকেই আলাপ দ্যাখ ছবিটা কেমন বলাতে রঞ্জনের গাটা গুলিয়ে যায় নার্সিং হোমে তন্দ্রার দিকে তাকাতেই পারছিলনা রঞ্জন । কলেজে প্রীতমের প্রেমপত্র গুলো ওই কপি করে দিত কখন প্রীতম উদাষ হয়ে সিগারেটের রিং ছাড়তে ছাড়তে বলে গেছে আর লিখেগেছে ও । এরা কি করে পারে । সত্যি বলতে ডানার সাথে ও চ্যাট করা বন্ধ করেছিল যাজ্ঞসেনীর কথা ভেবেই চোখের সামনে ডানার সাথে চ্যাট বক্সের কথা আর যাজ্ঞসেনীর মুখ দুটোই একাকার হয়ে যেত । ডানা কথাগুলো সবই যানে শেষ যে দিন চ্যাট হয় সে দিন শুধু বলেছিল যে তোমাকে চাইনা তার দিকে দ্যেখে তুমি আমাকে সরিয়ে দিলে রঞ্জন আর কথা বলেনি । আজ দেখছিল যাজ্ঞসেনি ডানার মিউচ্যুয়াল ফ্রেণ্ড । ওরা হাঁটতে হাঁটতে পৌঁছে যায় বানসা পাহাড়ের নীচে ডানা আজ ওকে উড়িয়ে নিয়ে ওঠে উঁচু টিলার ঢালে এতক্ষণ আবছা আলো ছিল গ্রহন চাঁদের ধীরে ধীরে আলো বাড়তে থাকে রঞ্জনের চোখ আটকে যায় ডানার বুকে বিভাজিকা রেখাদিয়ে গড়িয়ে নামছে  জ্যেন্স্যা  
- কি দেখছ ? 
- চাঁদের গায়ে চাঁদ লেগেছে আমরা ভেবে করব কি  ?
-  কই আর লাগছে আজ তো নীল চাঁদ  

হঠাৎ ঘুমটা ভেঙ্গে যায় মোবাইল টা দ্যাখে এখনো কোন ফোন আসে নাই । ও হাঁটতে হাঁটতে চলে আসে মাতৃমন্দির পড়ন্ত সূর্যের আলো এসে পড়ছে সুভাষের মুখে আনমনে হোঁচট খেয়ে পড়ে চশমা টা ভেঙ্গে যায় মাইনাস পাওয়ারের চশমা কাছটা দেখতে অসুবিধা হয়না দূরে দেখে ডানা আসছে ।

বৃহস্পতিবার, ৮ আগস্ট, ২০১৯

দেয়ালা বর্ষা সংখ্যা PDF ২০১৯

আজ ২২শে শ্রাবণ নতুন ভাবে যাত্রা শুরু - দেয়ালা পত্রিকার । পত্রিকা টি পড়ার জন্য নীচের লিঙ্কে ক্লিক করুন - ডাউনলোড করেও রাখতে পারেনhttps://drive.google.com/file/d/1fB_7gW9_cdxMJunVK--Um9mqeSnjXYoI/view?usp=drivesdk

কবিতা - উজ্জ্বল চন্দ্র , হরিসাধন চন্দ্র , সুস্মিতা দত্ত , বিধান গোস্বামী , শান্তনু পাত্র , একা ইন্দ্রজিৎ , সুপর্ণা দাঁ , মেঘা রায়
গল্প :- প্রদ্যোত আশ
 প্রচ্ছদ :- রনজিৎ চক্রবর্তী
আঁকা - স্মৃতিদীপা বন্দোপাধ্যায় , শেলী দে
ফটো - নীলেশ সাহু , স্বপন বিশ্বাস , স্বাতী চক্রবর্তী , শুভময় বিদ্ ,  পার্থ সারথী দত্ত , কার্তিক ঢক , পার্থ সারথী আশ 

মঙ্গলবার, ৬ আগস্ট, ২০১৯

একদেশ এক পতাকা ........... কাশ্মীর

চিত্র :- ইন্টারনেট থেকে সংগৃহীত 

এক দেশ এক পতাকা - কেউ খুশি হলেন আবার কেউ হলেন না । ইতিহাস বলছে ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০নং ধারা অনুযায়ী কাশ্মীর ভারতবর্ষের অংশ । কিন্তু সার্বভৌমত্তের প্রশ্নে এটা কি কার্যকরী ? এই ধারা বলবৎ থাকার কারণে সারা ভারতবর্ষে ৩৫৬ ধারা লাঘু হলেও কাশ্মীরে তা করা যেত না । অর্থনৈতিক জরুরী অবস্থা তাও ঘোষণা করা যেত না এখানে । ন এর দশকে কাশ্মীরি পণ্ডিতদের সুরক্ষা দিতে না পারার কারণ হিসেবে ও কেউ কেউ দায়ী করেন এই ধারা কেই ।
কাশ্মীর ভারতের অংশ হলেও যেন আলাদা দেশ যার নিজস্ব জাতীয় পতাকা আছে । অশোকস্তম্ভের বদলে রয়েছে আলাদা শীলমোহর । এই ৩৭০নং ধারা বিলোপের ফলে কি হবে তা এক নজরে দেখে নেওয়া যাক
১) কাশ্মীরের আলাদা পতাকা , আলাদা শীলমোহর থাকবে না ।
২ ) কাশ্মীরে ৩৬০ নং ধারানুযায়ী অর্থনৈতিক জরুরী অবস্থা জারি করা যাবে ।
৩) কাশ্মীরে ৩৫৬ নং ধারানুযায়ী সাধারণ জরুরী অবস্থা জারি করা যাবে ।
৪ ) কাশ্মীরে অন্য রাজ্যের লোকেরাও জমি কিনতে পারবে ।
৫ ) আর কোন দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকবে না ।
৬ ) সংখালঘুরা সংরক্ষণের আওতাতে আসবে ।
৭ ) তথ্যের অধিকার আইন বলবৎ হবে ।
৮ ) বিধানসভার মেয়াদ হবে ৫ বছর ।
উপরের উল্লেখিত কোনটিই আগে প্রযোজ্য ছিল না । যা ভারবর্ষের অন্যত্র প্রযোজ্য তাই এসে থমকে যেত কাশ্মীরে । অর্থাৎ দেশ এক নিয়ম আলাদা তাহলে একদেশ রইল কোথায় ? ভারতীয় জনতা পার্টি তাদের নির্বাচনী ইস্তাহারে ৩৭০নং ধারা বিলোপের বিষয়ে সওয়াল করে এসেছে - আজ সেটাই বলবৎ হল ।
১৯৪৭ সালের ভারতভুক্তি থেকে ২০১৯ এত দিন সময় লেগে গেল কেন ? প্রশ্নটা থেকেই যাবে । ভারতভুক্তির সময় যে ধারাকে বলা হয়েছিল সাময়িক কিন্তু তারপরেও এই ধারা থেকেই গিয়েছিল জগদ্দল পাথরের মতো । লর্ড মাউন্টবেটেন বলেছিলেন গণভোটের কথা - কারণ শুধুমাত্র রাজা হরি সিং এর চুক্তি অনুযায়ী কাশ্মীর ভারতের অংশ হয়ে থাকতে পারে না - কিন্তু গণভোট নেওয়ার কোন উদ্যোগ দেখা যায় নি । বরং এই কাশ্মীর ধীরে ধীরে হয়ে উঠেছে বারুদের স্তুপ । কাশ্মীরের পরিচয় হয়েছে পাকঅধিকৃত কাশ্মীর আর কাশ্মীর ভারতীয়দের কাছে উল্টোটা পাকিস্থানী দের কাছে - যুদ্ধ হল - হয়েই চলল , সিনেমা তৈরি হল গুচ্ছেন অথচ কাশ্মীর সমস্যা থেকেয় গেল বিশ বাঁও জলে ।
আজকের ভারতবর্ষ ভাবছে - সমস্যা সমাধানের পথে । আমরা তাকিয়ে থাকব আগামীর দিকে । বিরোধীরা বিরোধীতা করবে গণতন্ত্রে এটাই স্বাভাবিক - সমস্যা সমাধানের পদ্ধতি নিয়ে কাটা ছেঁড়া হবে । আমরা শুধু চাইব " দুই পারে দুই দেশের সিপাই / দেশপ্রেমের দিনমজুর " ভাই দের বলিদান যেন আমাদের দেখতে না হয় । সরকার কাশ্মীরের ক্ষমতাশালীদের ক্ষমতা খর্ব করেছেন - মেহেবুবা মুফতি তাঁর ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন টুইটারে ............বলার বিষয় একটাই রাস্তাতো এখনো অনেক বাকি । আর ৬ বছরের জন্য নির্বাচিত হওয়া যাবে না কিন্তু সারা দেশের মতো ৫ বছরের জন্য তো নির্বাচিত হওয়া যাবে । এক দেশের মধ্যে আর একটা দেশ - ভাবলেই মগজে খিল লেগে যেত এ সব আর ভাবতে হবে না । হ্যাঁ কাশ্মীরি শাল , আপেলের পাশাপাশি কাশ্মীরি কন্যার সাথে প্রেম করতেও অসুবিধা থাকল না । এবার শুধু চাইব একটি পরিস্কার ভারতবর্ষের মানচিত্র কারণ মানচিত্রের মাথার অংশের কপাল অবধি তো পাকিস্থান আর চীন এসে বসে আছে - এ সমস্যার সুষ্ঠ সমাধান হোক ।

------- প্রদ্যোত আশ

সোমবার, ৫ আগস্ট, ২০১৯

অভিমন্যু মাহাত

আত্মা

অভিমন্যু মাহাত

দুয়ারে আমি  আছি, চোখে কিছুই দেখছি না
শুধু শুনছি নূপুরের করবী শব্দ, কারা যেন ফেলে গেল...
কথা দিয়েছিলে আসবে, আয়োজন ছিল বীজ বপনের বর্ষার
এলে না। তার বদলে উপুড় করলে
                ঈর্ষার খেলা খেলতে, অবিশ্বাসের ধুম জ্বর
চুলে অবিন্যস্ত বিলি কেটে বুঝি,
                 একাকিত্বের কোনো বিষুব রেখা নেই
                 অবহেলার কোনো মরচে রঙ নেই।
প্রহর জুড়ে তুমি দুরভিগ্রহ। আমি ক্রমাগত নীল হয়ে উঠি

এলে না। সাত ঘন্টা ফোন বন্ধে নির্বিচারে পুড়ে যায়
আত্মবিবৃতির পিরামিড....
আমি এই জলঙ্গী পাড় থেকে চলে যেতে চাই,
জয়চন্ডী পাহাড়ের দিকে
হয়তো বা পরমায়ুতে, হয়তো বা ত্বকের জ্বালায়
              হয়তো বা ঝর্ণা পাথরের দূরত্বে....
মহুল বাগানের পাশ দিয়ে হাঁটতে গিয়ে
               প্রতিশ্রুতিময় 'বিবাদ' পেলাম,
ততখানি মনখারাপ বা টাটকা বিষাদ হল না
তোমার তো কোনও দায় নেই
বর্ষার পুরুল্যা যত প্রিয় ছিল, আজ তত প্রিয় নয়
তোমার স্বেচ্ছাচারিতায়, আমার হাতের আত্মায় সূচ ফোটে..........
(প্রকাশিত - দেয়ালা বইমেলা সংখ্যা ২০১৯ )

বেশিবার পড়া