আজকে কথক শ্রী মনীন্দ্র গোস্বামী
মুখের কথা লেখার ভাষায় :- প্রদ্যোত আশ
সাধুবাবার ব্যপারে সে ভাবে তো মনে নাই , সে ভাবে ওনার সাথে মেশা হয় নাই তবে উনি আমাকে অত্যন্ত স্নেহ করতেন । শেষ উনি যখন অসুস্থ জয় সিয়ারাম স্কুলে থাকতেন আমার ঠাকুমার সাধ হয়েছিল ওনাকে খাওয়ানোর তখন আমি গেছলাম ঠাকুমার সাথে ওটাই ওনার সাথে শেষ সাক্ষাৎ । এখনো পরিস্কার মনে আছে আমাদের কাঠগোদাম উনি উদ্বোধন করেছিলেন স্পষ্ট মনে পড়ে উনি মেশিনটা ঘুরোতে ঘুরোতে আমার বাবাকে উদ্দেশ্য করে বলছেন " সৃষ্টি ভগবান ইসসে বহুত নাফা হোগা , বহুত নাফা হোগা " ওনার হাতে একথলি বাতাসা দেওয়া হয়েছিল উনি বাচ্চা ছেলের মতো একটা করে খাচ্ছেন আর সবাইকে বিলি করছেন । আজো কিন্তু তাঁর আশীর্বাদে এখনো সেই কাঠগোদাম চলছে ।###
আমার মেজদার বাড়িতে একটা গন্ধরাজ ফুলের গাছ ছিল । নবকুঞ্জের সময় ওই ফুল দিয়ে আমরা মালা গেঁথেছি আমি নিজে সাধুবাবাকে গলাতে মালা পরিয়ে জটাতে মালা বেঁধে সাজিয়েছি - বড় অপূর্ব লাগত । উনি ওই বেশে থালানিয়ে ভক্তদের মাঝে যেতেন তাতে সবাই প্রণামী দিত । যেটুকু জানি প্রচুর টাকা পড়েছিল , রূপার টাকা বস্তায় করে রাখতে হত ।
####
ওনার সম্পর্কে একটা ঘটনা বলি - এটা আমি ইসমাইল মিস্ত্রির কাছে শুনেছিলাম । একবার লক্ষীমেলার ওখানে সাধুবাবা শুয়ে আছেন আর ইসমাইল মিস্ত্রিরা , সব পাড়ার ছেলেরা সাধুবাবার গা হাত পা টিপে দিচ্ছে তো ওই সময় উনি বললেন তোমরা যত জোরে পারবে টিপে রাখ । ইসমাইল মিস্ত্রি বলছে যে সবাই গায়ের জোরে ওনাকে চিপে রেখেছি ওই অবস্থায় উনি কিছুটা শূণ্যে উঠে গেলেন ।
###
আর একটা ঘটনা বলি শোনা ঘটনা সাধুবাবা এখানে থাকলেও তো বিভিন্ন জায়গাতে ঘুরে বেড়াতেন ওনার গড়জয়পুরেও যাতায়াত ছিল । সাধুবাবা যে সবকিছুর মধ্যে ভগবান কে দেখতেন , সবকিছুকেই ভগবান সম্বোধন করতেন এটা ওখানের ছেলে পুলেরাও জানত । একদিন একটা দোকানের বেঞ্চে সাধু বাবা বসে আছেন কয়েক জন ওনাকে বিব্রত করার জন্যই এসে বলছে
- সাধু বাবা আপ কাঁহা পর বৈঠে হ্যেঁ ?
- কিউ ভগবান হামতো বেঞ্চ ভগবান পর বৈঠে হ্যেঁ
- আপ ভগবান পর বৈঠ গ্যায়ে ?
- হ্যাঁ তো কৌন বৈঠে হ্যেঁ , ভগবান ই তো বৈঠে হ্যেঁ
- তুম , হাম ইয়ে সারা সংসার ভগবান ই তো হ্যেঁ
কী অপূর্ব ভাবে বললেন উনি ভাব ।
#####
আমার আর একটা কথা মনে পড়ছে - সাধু বাবা যখন রথযাত্রার শুরু করলেন , তখন রথের পেছনে পাকা রঙ দিয়ে আমিই " জয় সিয়ারাম " কথাটা লিখেছিলাম আর রথের নীচের পাটাতনে বসে নামোপাড়া পর্যন্ত এসেছিলাম । সাধু বাবাকে আর একজায়গাতে মনে পড়ছে নদী যাওয়ার রাস্তায় দুর্লভ সেনের বাড়ির ওখানে আমি ওনাকে নিমপাতার গোছা খেতে দেখেছিলাম ।
আর একটা ঘটনা বলি , আমি তখন খুবি ছোট সেবছর তুলিনে একদম জল হয়নি , চারদিকে মানুষ জলের জন্য হাহকার করছে । সবাই গিয়ে সাধুবাবাকে ধরল তখন সাধুবাবা বানসা পাহাড়ের উঁচু চূড়াটাতে উঠে জলের জন্যে প্রার্থনা করেছিলেন তারপরেই তুলিনে ঝেঁপে বৃষ্টি নামে ।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন