পৃষ্ঠাসমূহ

মঙ্গলবার, ৬ আগস্ট, ২০১৯

একদেশ এক পতাকা ........... কাশ্মীর

চিত্র :- ইন্টারনেট থেকে সংগৃহীত 

এক দেশ এক পতাকা - কেউ খুশি হলেন আবার কেউ হলেন না । ইতিহাস বলছে ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০নং ধারা অনুযায়ী কাশ্মীর ভারতবর্ষের অংশ । কিন্তু সার্বভৌমত্তের প্রশ্নে এটা কি কার্যকরী ? এই ধারা বলবৎ থাকার কারণে সারা ভারতবর্ষে ৩৫৬ ধারা লাঘু হলেও কাশ্মীরে তা করা যেত না । অর্থনৈতিক জরুরী অবস্থা তাও ঘোষণা করা যেত না এখানে । ন এর দশকে কাশ্মীরি পণ্ডিতদের সুরক্ষা দিতে না পারার কারণ হিসেবে ও কেউ কেউ দায়ী করেন এই ধারা কেই ।
কাশ্মীর ভারতের অংশ হলেও যেন আলাদা দেশ যার নিজস্ব জাতীয় পতাকা আছে । অশোকস্তম্ভের বদলে রয়েছে আলাদা শীলমোহর । এই ৩৭০নং ধারা বিলোপের ফলে কি হবে তা এক নজরে দেখে নেওয়া যাক
১) কাশ্মীরের আলাদা পতাকা , আলাদা শীলমোহর থাকবে না ।
২ ) কাশ্মীরে ৩৬০ নং ধারানুযায়ী অর্থনৈতিক জরুরী অবস্থা জারি করা যাবে ।
৩) কাশ্মীরে ৩৫৬ নং ধারানুযায়ী সাধারণ জরুরী অবস্থা জারি করা যাবে ।
৪ ) কাশ্মীরে অন্য রাজ্যের লোকেরাও জমি কিনতে পারবে ।
৫ ) আর কোন দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকবে না ।
৬ ) সংখালঘুরা সংরক্ষণের আওতাতে আসবে ।
৭ ) তথ্যের অধিকার আইন বলবৎ হবে ।
৮ ) বিধানসভার মেয়াদ হবে ৫ বছর ।
উপরের উল্লেখিত কোনটিই আগে প্রযোজ্য ছিল না । যা ভারবর্ষের অন্যত্র প্রযোজ্য তাই এসে থমকে যেত কাশ্মীরে । অর্থাৎ দেশ এক নিয়ম আলাদা তাহলে একদেশ রইল কোথায় ? ভারতীয় জনতা পার্টি তাদের নির্বাচনী ইস্তাহারে ৩৭০নং ধারা বিলোপের বিষয়ে সওয়াল করে এসেছে - আজ সেটাই বলবৎ হল ।
১৯৪৭ সালের ভারতভুক্তি থেকে ২০১৯ এত দিন সময় লেগে গেল কেন ? প্রশ্নটা থেকেই যাবে । ভারতভুক্তির সময় যে ধারাকে বলা হয়েছিল সাময়িক কিন্তু তারপরেও এই ধারা থেকেই গিয়েছিল জগদ্দল পাথরের মতো । লর্ড মাউন্টবেটেন বলেছিলেন গণভোটের কথা - কারণ শুধুমাত্র রাজা হরি সিং এর চুক্তি অনুযায়ী কাশ্মীর ভারতের অংশ হয়ে থাকতে পারে না - কিন্তু গণভোট নেওয়ার কোন উদ্যোগ দেখা যায় নি । বরং এই কাশ্মীর ধীরে ধীরে হয়ে উঠেছে বারুদের স্তুপ । কাশ্মীরের পরিচয় হয়েছে পাকঅধিকৃত কাশ্মীর আর কাশ্মীর ভারতীয়দের কাছে উল্টোটা পাকিস্থানী দের কাছে - যুদ্ধ হল - হয়েই চলল , সিনেমা তৈরি হল গুচ্ছেন অথচ কাশ্মীর সমস্যা থেকেয় গেল বিশ বাঁও জলে ।
আজকের ভারতবর্ষ ভাবছে - সমস্যা সমাধানের পথে । আমরা তাকিয়ে থাকব আগামীর দিকে । বিরোধীরা বিরোধীতা করবে গণতন্ত্রে এটাই স্বাভাবিক - সমস্যা সমাধানের পদ্ধতি নিয়ে কাটা ছেঁড়া হবে । আমরা শুধু চাইব " দুই পারে দুই দেশের সিপাই / দেশপ্রেমের দিনমজুর " ভাই দের বলিদান যেন আমাদের দেখতে না হয় । সরকার কাশ্মীরের ক্ষমতাশালীদের ক্ষমতা খর্ব করেছেন - মেহেবুবা মুফতি তাঁর ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন টুইটারে ............বলার বিষয় একটাই রাস্তাতো এখনো অনেক বাকি । আর ৬ বছরের জন্য নির্বাচিত হওয়া যাবে না কিন্তু সারা দেশের মতো ৫ বছরের জন্য তো নির্বাচিত হওয়া যাবে । এক দেশের মধ্যে আর একটা দেশ - ভাবলেই মগজে খিল লেগে যেত এ সব আর ভাবতে হবে না । হ্যাঁ কাশ্মীরি শাল , আপেলের পাশাপাশি কাশ্মীরি কন্যার সাথে প্রেম করতেও অসুবিধা থাকল না । এবার শুধু চাইব একটি পরিস্কার ভারতবর্ষের মানচিত্র কারণ মানচিত্রের মাথার অংশের কপাল অবধি তো পাকিস্থান আর চীন এসে বসে আছে - এ সমস্যার সুষ্ঠ সমাধান হোক ।

------- প্রদ্যোত আশ

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

বেশিবার পড়া