পৃষ্ঠাসমূহ

রবিবার, ১১ আগস্ট, ২০১৯

গল্প :- চাঁদের গায়ে চাঁদ লেগেছে

প্রদ্যোত আশ 

চাঁদা মামা সবে ঘুমতে যাবে উঠে পড়ে রঞ্জন । বয়স টা বায়ো কি তেয়ো মা বলে আয়ো কম না হলেও সতর্ক হওয়ার বয়স তো নয় -  এই সে দিন জ্যাঠা মশাই বললেন - তোমাদের বয়সে আমরা জল চিবিয়ে খেতাম আর এখনি তোমাদের ডায়েট কনট্রোল ! সে যাই হোক প্রকৃতির প্রাত্যহিক আহ্বাণে সাড়া টাড়া দিয়ে গরম জলে আদা থেতো আর মধু মিশিয়ে খেতে খেতে বেঁধে নেয় জুতোর ফাঁস - প্রতীজ্ঞাটা অবাঞ্ছিত মেদ ঝরানোর । মুখে না বললেও পা দুটো বলে উঠে তেজ চল তালি এক দো এক -  বাঁ ডান বাঁ । পুবের আকাশটা রঙ ধরতে শুরু করছে - বট ফলের শব্দ এখনো শোনা যাচ্ছে রাস্তায় । আধিকাংশ দোকানে জ্বালানি এখন গ্যাস ফলে ধোঁয়ার উৎপাত নাই বললেই চলে - মনে আছে ছোটোর সময় বাবার সঙ্গে হাটতে বেরোলে দোকানের সামনে গুলো অতিদ্রুত হাঁটতে হতো । মাতৃমন্দিরের কাছে এসে রাজপথ থেকে নেমে আসে রঞ্জন । এটা কোন মন্দির নয় আবার মন্দিরই বটে । কলকাতার বাবুদের পশ্চিমে হাওয়া বদলের বাগান বাড়ি কেউ বলে সুভাষ বোসের পিসিমার বাড়ি তো এখন রাম ও নেই আর আযোধ্যা জিজ্ঞাসার সাথে বিস্ময় জুড়ে যাওয়া চিহ্ন , বাড়িটা এখন বেসরকারি স্কুল আর বাগান টা তো পুটুস ঝাড় মাঝখানে চশমা খসে পড়া সুভাষ বোস । রঞ্জন মূর্তির গায়ে হাত বোলায় দুদিন পরেই লোকটার জন্মদিন ফুল মালা চন্দন ধুপ কিন্তু প্রয়াণ নাকি দেওয়ালে লেখা আবছা কথা গুলোই সত্য নেতাজী ফিরে আসবে ! গতকাল ই ইন্টারনেটে পড়ছিল কেউ বলছে ওর শেষ জীবন কেটেছে বরফ দেশের জেলে নাকি আবারো অন্তর্ধ্যান ....... রঞ্জন ভাবতে পারে না ছোট থেকে শুনে আসা কথা গুলো স্পষ্ট হয়ে ওঠে হ্যাঁ এই রাস্তা দিয়ে উনি চলেছেন রাজার রাজা হয়ে ঘোড়ার লাগাম ধরে রাস্তায় বিছিয়ে দেওয়া হয়েছে নতুন মার্কিন কাপড় পেছনে অসংখ্য অনুগামী উনি এগিয়ে আসছেন আর বেড়েই চলেছে অনুগামীদের ভিড় ঘরে ঘরে শাঁখ বেজে উঠছে দুপাশ জুড়ে পুষ্পবৃষ্টি । আজ আর সত্যিই চশমা লাগেনা আচ্ছা উনি কি দেখতে পাচ্ছেন আজকের ভারতবর্ষকে - তাঁর সামনে দাঁড়িয়ে থাকা রঞ্জনকে - না না পাচ্ছেন পাচ্ছেন নিশ্চয় নাহলে প্রতিটি সকালে কে ডাকে এখানে । দিবাকর ওই তো মুখ তুলছে বানসা পাহাড়ের বুক থেকে পায়ের পাতা দুটোকে তিরিশ ডিগ্রি কোনে এনে ঋজুরেখ হয়ে দাড়িয়ে পড়ে রঞ্জন শ্রদ্ধ্যাবদ্ধ করপুটে - প্রাত্যহিক অভ্যাসে উচ্চারণ করে
ওঁ জবাকুসুমসঙ্কাশং
কাশ্যপেয়ং মহাদ্যুতিম্ 
ধ্বান্তারিং সর্ব্বপাপাঘ্নং
প্রণতোহস্মি দিবাকরম্ ।
আদিত্যায় সোমায় মঙ্গলায়
বুধায়চ গুরু শুক্র শনিভশ্চ
রাহবে কেতবে নমঃ নমাহ্ ।
রঞ্জন এবার পা বাড়ায় ঘরে ফেরার পথে । ঠিক এই সময় কানে আসে স্পষ্ট বাংলা উচ্চারণ
-- শুনছেন 
- হ্যাঁ , বলুন 
-- একটা ছবি তুলেদেবেন প্লীজ 
-- নিশ্চয় 
মেয়েটি মোবাইল  টা এগিয়ে দিয়ে ডানা মেলে দাঁড়ায় মাথায় নতুন সকালের আলো আর পেছনে পুটুসের ঝোঁপ বাঁ পাশে চশমা খোলা সুভাষ আর জামা ফুটো করা কাঠবেড়ালী জরিপ করে নিচ্ছে । 
-- নিন
- থ্যাকিউ
- ওয়েল কাম 
মেয়েটি আলতো হেসে চলে যায় আর রঞ্জন পথ ধরে ফেরার । ছবিটা ভালোই তোলা হয়েছে বলে তো দেখল - আর একবার দেখতে পেলে ভালোহত । 


আফিসের অবকাশে ফেসবুক টা স্ক্রোল করতে থাকে রঞ্জন । বন্ধু দেবজিৎ শেয়ার করেছে থ্রিডি ফ্লোর পেন্টের চিত্রগুচ্ছ - ইন্দ্রপ্রস্থের ময়ামহলের ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে রয়েছে যাজ্ঞসেনী - যাজ্ঞসেনী সেন যার কাছে রঞ্জন কর্ণ হয়েই থেকে গেল যদিও সে রাধেয় নয় অথচ বড় অসহায় । রঞ্জন ভাবে এবার বাথরুমের টাইলস্ গুলো বদলে পাঁচ বাই আড়াইয়ের সমুদ্র বানিয়ে ফেললেই হয় । আনমনে স্ক্রোল করতে করতে চোখ দাঁড়িয়ে যায় সকালে তোলা ছবিটার দিকে থেকে যা শালা এ তো ডানা বহু পুরোন ফেসবুক ফ্রেণ্ড বছর চার আগে চ্যাটও করেছে দু এক দিন তাঁরপর হারিয়ে গেছে চার হাজার বন্ধুর ভিড়ে । রঞ্জন মনে করে দেখে ওর প্রোফাইল পিকটা ছিল একতারা । হ্যাঁ কথা হত বাউলামী নিয়ে মেয়েটার ঘুরে বেড়ানোর সখ - আন্তর্জালিক জগতে মেয়েটি এখনো সক্রিয় রয়েছে চলমান ক্যামেরা চিহ্নে আঙুল ছোঁয়ায়
- হাই
- তুমি
- হ্যাঁ তো
- বাড়ির কাছে আরশি নগর
- তাহলে অদেখা কেন থেকে যাও 
- তাহলে
- কোথায় এখন 
ক্যামেরা টা একটু দুরে নিয়ে যায় ডানা পেছনে বামনীর পাহাড়ি তরঙ্গ মধ্যলয়ে নেমে আসছে ।
- বা , অযোধ্যা গেছ 
 - হুঁ , দারুণ , দারুণ জায়গাটা 
- বর্ষায় এলে আরো ভালো লাগবে 
- এখন রাখছি 
- এখানেই ফিরবে
- হ্যাঁ , ফোন নম্বর টা দিয়ে রাখ ফিরে ফোন করে নেব
চ্যাট বক্সটা রেটিং দাবি করে রঞ্জন আজ পাঁচ তারা ছুঁয়ে দেয় ।
ঝরে পড়া পাতার হাওয়া ঘনিয়ে তোলে বিষাদ মেঘ । আবার  গাছ গুলো একটু ভালো করে দেখলে নব বসন্ত উঁকি মারে বাতাসে রঞ্জন নীরবে বসে থাকে বিষাদ মেখে গাইতে থাকে বাইতে জানো না তরী মিছে ধর হাল । হঠাৎ ই ফোন টা বেজে ওঠে আননোন নম্বর শীতল স্রোত খেলে যায় রিজিভ রেখা টানার সাথে সাথে বেজে ওঠে পুরোনো দিনের হিন্দি গান কান গুলো লাল হয়ে যায় । ডানা কি ফোন করবে আদৌ করা বা নাকরা কোনটাই অস্বাভাবিক নয় তবু না করার পাল্লাটাই ভারী মনে হয় আর যদি করেও বা তাহলেও ....... । আবারও আননোন নম্বরের ফোন 
- হ্যালো কে বলছেন
- রঞ্জন বলছো 
- হ্যাঁ
- আমি ডানা মানে কস্তুরি রায় কথা বলছি ।
- ও , কখন ফেরা হল 
- এই ফিরলাম 
- ফেরা কি আজ কেই ?
- না না কাল সকালে ইন্টার সিটি ধরব রাত্রে রির্জাভরেশন পাই নি
- ও , 
- তাহলে আজ কি দেখা হতে পারে 
- নিশ্চয় , রুমে থাকবে না বেরোবে 
- না না বেরোনই ভালো তোমার অসুবিধা আছে 
- না না তুমি এসো আমি সকালের জায়গাটাতেই অপেক্ষা করছি 
- এখন কোথায় ? চশমা খোল নেতাজীর সামনেই আছ ? 
-  হ্যা কাছা কাছি আছি , তুমি চলে এসো ।
রঞ্জন মাঠ থেকে পৌঁছে যায় নেতাজীর কাছে যদিও সে যুদ্ধে যাচ্ছে অথবা যুদ্ধই বটে । ডানাও পৌঁছে যায় কিছুক্ষণের মধ্যেই 
হাই
হাই , আমি তো ভাবতেই পারিনি তোমার সাথে এভাবে কোনদিন দ্যাখা হতে পারে
ও তাই বুঝি চ্যাটকরা বন্ধকরে দিয়েছিলে , তাহলে ভাগ্যিস আমি এলাম 
ডানার কথা গুলো রঞ্জনের বুকে মোচড় দিতে থাকে । এখন পৃথিবী টা সত্যিই হাতের মুঠোয় আবার কাছের চলে যাচ্ছে দূরে এই তো সেদিন ওর বন্ধু প্রীতমের সন্তান কে দেখতে গিয়ে ছিল আর গাড়িতে প্রীতম আলাপ করাল ওর নতুন প্রেমিকার সাথে ফেসবুকেই আলাপ দ্যাখ ছবিটা কেমন বলাতে রঞ্জনের গাটা গুলিয়ে যায় নার্সিং হোমে তন্দ্রার দিকে তাকাতেই পারছিলনা রঞ্জন । কলেজে প্রীতমের প্রেমপত্র গুলো ওই কপি করে দিত কখন প্রীতম উদাষ হয়ে সিগারেটের রিং ছাড়তে ছাড়তে বলে গেছে আর লিখেগেছে ও । এরা কি করে পারে । সত্যি বলতে ডানার সাথে ও চ্যাট করা বন্ধ করেছিল যাজ্ঞসেনীর কথা ভেবেই চোখের সামনে ডানার সাথে চ্যাট বক্সের কথা আর যাজ্ঞসেনীর মুখ দুটোই একাকার হয়ে যেত । ডানা কথাগুলো সবই যানে শেষ যে দিন চ্যাট হয় সে দিন শুধু বলেছিল যে তোমাকে চাইনা তার দিকে দ্যেখে তুমি আমাকে সরিয়ে দিলে রঞ্জন আর কথা বলেনি । আজ দেখছিল যাজ্ঞসেনি ডানার মিউচ্যুয়াল ফ্রেণ্ড । ওরা হাঁটতে হাঁটতে পৌঁছে যায় বানসা পাহাড়ের নীচে ডানা আজ ওকে উড়িয়ে নিয়ে ওঠে উঁচু টিলার ঢালে এতক্ষণ আবছা আলো ছিল গ্রহন চাঁদের ধীরে ধীরে আলো বাড়তে থাকে রঞ্জনের চোখ আটকে যায় ডানার বুকে বিভাজিকা রেখাদিয়ে গড়িয়ে নামছে  জ্যেন্স্যা  
- কি দেখছ ? 
- চাঁদের গায়ে চাঁদ লেগেছে আমরা ভেবে করব কি  ?
-  কই আর লাগছে আজ তো নীল চাঁদ  

হঠাৎ ঘুমটা ভেঙ্গে যায় মোবাইল টা দ্যাখে এখনো কোন ফোন আসে নাই । ও হাঁটতে হাঁটতে চলে আসে মাতৃমন্দির পড়ন্ত সূর্যের আলো এসে পড়ছে সুভাষের মুখে আনমনে হোঁচট খেয়ে পড়ে চশমা টা ভেঙ্গে যায় মাইনাস পাওয়ারের চশমা কাছটা দেখতে অসুবিধা হয়না দূরে দেখে ডানা আসছে ।

বৃহস্পতিবার, ৮ আগস্ট, ২০১৯

দেয়ালা বর্ষা সংখ্যা PDF ২০১৯

আজ ২২শে শ্রাবণ নতুন ভাবে যাত্রা শুরু - দেয়ালা পত্রিকার । পত্রিকা টি পড়ার জন্য নীচের লিঙ্কে ক্লিক করুন - ডাউনলোড করেও রাখতে পারেনhttps://drive.google.com/file/d/1fB_7gW9_cdxMJunVK--Um9mqeSnjXYoI/view?usp=drivesdk

কবিতা - উজ্জ্বল চন্দ্র , হরিসাধন চন্দ্র , সুস্মিতা দত্ত , বিধান গোস্বামী , শান্তনু পাত্র , একা ইন্দ্রজিৎ , সুপর্ণা দাঁ , মেঘা রায়
গল্প :- প্রদ্যোত আশ
 প্রচ্ছদ :- রনজিৎ চক্রবর্তী
আঁকা - স্মৃতিদীপা বন্দোপাধ্যায় , শেলী দে
ফটো - নীলেশ সাহু , স্বপন বিশ্বাস , স্বাতী চক্রবর্তী , শুভময় বিদ্ ,  পার্থ সারথী দত্ত , কার্তিক ঢক , পার্থ সারথী আশ 

মঙ্গলবার, ৬ আগস্ট, ২০১৯

একদেশ এক পতাকা ........... কাশ্মীর

চিত্র :- ইন্টারনেট থেকে সংগৃহীত 

এক দেশ এক পতাকা - কেউ খুশি হলেন আবার কেউ হলেন না । ইতিহাস বলছে ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০নং ধারা অনুযায়ী কাশ্মীর ভারতবর্ষের অংশ । কিন্তু সার্বভৌমত্তের প্রশ্নে এটা কি কার্যকরী ? এই ধারা বলবৎ থাকার কারণে সারা ভারতবর্ষে ৩৫৬ ধারা লাঘু হলেও কাশ্মীরে তা করা যেত না । অর্থনৈতিক জরুরী অবস্থা তাও ঘোষণা করা যেত না এখানে । ন এর দশকে কাশ্মীরি পণ্ডিতদের সুরক্ষা দিতে না পারার কারণ হিসেবে ও কেউ কেউ দায়ী করেন এই ধারা কেই ।
কাশ্মীর ভারতের অংশ হলেও যেন আলাদা দেশ যার নিজস্ব জাতীয় পতাকা আছে । অশোকস্তম্ভের বদলে রয়েছে আলাদা শীলমোহর । এই ৩৭০নং ধারা বিলোপের ফলে কি হবে তা এক নজরে দেখে নেওয়া যাক
১) কাশ্মীরের আলাদা পতাকা , আলাদা শীলমোহর থাকবে না ।
২ ) কাশ্মীরে ৩৬০ নং ধারানুযায়ী অর্থনৈতিক জরুরী অবস্থা জারি করা যাবে ।
৩) কাশ্মীরে ৩৫৬ নং ধারানুযায়ী সাধারণ জরুরী অবস্থা জারি করা যাবে ।
৪ ) কাশ্মীরে অন্য রাজ্যের লোকেরাও জমি কিনতে পারবে ।
৫ ) আর কোন দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকবে না ।
৬ ) সংখালঘুরা সংরক্ষণের আওতাতে আসবে ।
৭ ) তথ্যের অধিকার আইন বলবৎ হবে ।
৮ ) বিধানসভার মেয়াদ হবে ৫ বছর ।
উপরের উল্লেখিত কোনটিই আগে প্রযোজ্য ছিল না । যা ভারবর্ষের অন্যত্র প্রযোজ্য তাই এসে থমকে যেত কাশ্মীরে । অর্থাৎ দেশ এক নিয়ম আলাদা তাহলে একদেশ রইল কোথায় ? ভারতীয় জনতা পার্টি তাদের নির্বাচনী ইস্তাহারে ৩৭০নং ধারা বিলোপের বিষয়ে সওয়াল করে এসেছে - আজ সেটাই বলবৎ হল ।
১৯৪৭ সালের ভারতভুক্তি থেকে ২০১৯ এত দিন সময় লেগে গেল কেন ? প্রশ্নটা থেকেই যাবে । ভারতভুক্তির সময় যে ধারাকে বলা হয়েছিল সাময়িক কিন্তু তারপরেও এই ধারা থেকেই গিয়েছিল জগদ্দল পাথরের মতো । লর্ড মাউন্টবেটেন বলেছিলেন গণভোটের কথা - কারণ শুধুমাত্র রাজা হরি সিং এর চুক্তি অনুযায়ী কাশ্মীর ভারতের অংশ হয়ে থাকতে পারে না - কিন্তু গণভোট নেওয়ার কোন উদ্যোগ দেখা যায় নি । বরং এই কাশ্মীর ধীরে ধীরে হয়ে উঠেছে বারুদের স্তুপ । কাশ্মীরের পরিচয় হয়েছে পাকঅধিকৃত কাশ্মীর আর কাশ্মীর ভারতীয়দের কাছে উল্টোটা পাকিস্থানী দের কাছে - যুদ্ধ হল - হয়েই চলল , সিনেমা তৈরি হল গুচ্ছেন অথচ কাশ্মীর সমস্যা থেকেয় গেল বিশ বাঁও জলে ।
আজকের ভারতবর্ষ ভাবছে - সমস্যা সমাধানের পথে । আমরা তাকিয়ে থাকব আগামীর দিকে । বিরোধীরা বিরোধীতা করবে গণতন্ত্রে এটাই স্বাভাবিক - সমস্যা সমাধানের পদ্ধতি নিয়ে কাটা ছেঁড়া হবে । আমরা শুধু চাইব " দুই পারে দুই দেশের সিপাই / দেশপ্রেমের দিনমজুর " ভাই দের বলিদান যেন আমাদের দেখতে না হয় । সরকার কাশ্মীরের ক্ষমতাশালীদের ক্ষমতা খর্ব করেছেন - মেহেবুবা মুফতি তাঁর ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন টুইটারে ............বলার বিষয় একটাই রাস্তাতো এখনো অনেক বাকি । আর ৬ বছরের জন্য নির্বাচিত হওয়া যাবে না কিন্তু সারা দেশের মতো ৫ বছরের জন্য তো নির্বাচিত হওয়া যাবে । এক দেশের মধ্যে আর একটা দেশ - ভাবলেই মগজে খিল লেগে যেত এ সব আর ভাবতে হবে না । হ্যাঁ কাশ্মীরি শাল , আপেলের পাশাপাশি কাশ্মীরি কন্যার সাথে প্রেম করতেও অসুবিধা থাকল না । এবার শুধু চাইব একটি পরিস্কার ভারতবর্ষের মানচিত্র কারণ মানচিত্রের মাথার অংশের কপাল অবধি তো পাকিস্থান আর চীন এসে বসে আছে - এ সমস্যার সুষ্ঠ সমাধান হোক ।

------- প্রদ্যোত আশ

সোমবার, ৫ আগস্ট, ২০১৯

অভিমন্যু মাহাত

আত্মা

অভিমন্যু মাহাত

দুয়ারে আমি  আছি, চোখে কিছুই দেখছি না
শুধু শুনছি নূপুরের করবী শব্দ, কারা যেন ফেলে গেল...
কথা দিয়েছিলে আসবে, আয়োজন ছিল বীজ বপনের বর্ষার
এলে না। তার বদলে উপুড় করলে
                ঈর্ষার খেলা খেলতে, অবিশ্বাসের ধুম জ্বর
চুলে অবিন্যস্ত বিলি কেটে বুঝি,
                 একাকিত্বের কোনো বিষুব রেখা নেই
                 অবহেলার কোনো মরচে রঙ নেই।
প্রহর জুড়ে তুমি দুরভিগ্রহ। আমি ক্রমাগত নীল হয়ে উঠি

এলে না। সাত ঘন্টা ফোন বন্ধে নির্বিচারে পুড়ে যায়
আত্মবিবৃতির পিরামিড....
আমি এই জলঙ্গী পাড় থেকে চলে যেতে চাই,
জয়চন্ডী পাহাড়ের দিকে
হয়তো বা পরমায়ুতে, হয়তো বা ত্বকের জ্বালায়
              হয়তো বা ঝর্ণা পাথরের দূরত্বে....
মহুল বাগানের পাশ দিয়ে হাঁটতে গিয়ে
               প্রতিশ্রুতিময় 'বিবাদ' পেলাম,
ততখানি মনখারাপ বা টাটকা বিষাদ হল না
তোমার তো কোনও দায় নেই
বর্ষার পুরুল্যা যত প্রিয় ছিল, আজ তত প্রিয় নয়
তোমার স্বেচ্ছাচারিতায়, আমার হাতের আত্মায় সূচ ফোটে..........
(প্রকাশিত - দেয়ালা বইমেলা সংখ্যা ২০১৯ )

বেশিবার পড়া