পৃষ্ঠাসমূহ

রবিবার, ১০ নভেম্বর, ২০১৯

স্মৃতির কোঠায় রাঘবানন্দ - পর্ব ২

 স্মৃতির কোঠায় রাঘবানন্দ


মুখের কথা লেখার ভাষায় - প্রদ্যোত আশ 


( ঘটনা গুলির কথক শ্রী সুবোধ দে , তুলিন উপর পাড়া )


০৬/০৬/১৯
স্মৃতি -১
সাধু বাবা প্রতিদিন ই  দু বার করে আমাদের ঘরে আসতেন , দাদুকে নিয়ে বেরোতেন । সকাল থেকে ভাইয়ের শরীরটা খারাপ , দাদু বললেন কিষ্ট ডাক্তারকে খবর দাও । কিষ্ট ডাক্তার আমাদের পারিবারিক চিকিৎসক , ডাকলে বাড়ি আসতেন । সবেমাত্র সাইকেলের প্যাটেলে পা দিয়েছি কানে এল " জয় সিয়ারাম , জয় সিয়ারাম " ধ্বনি  ।
- আরে বাচ্চো ভগবান  কাহা জানা হে
- বাবা শক্তিকা বুখার হে তো ডক্টরকো বুলানে যা রেহি হু
- আরে শক্তি ভগবান কা বুখার হে , কাঁহা হে শক্তি ভগবান
বলতে বলতে উনি ঘর ডুকেগেলেন , পেছনে আমি । সোজা গিয়ে উপস্থিত হলেন যেখানে শক্তি শুয়ে ছিল ।
চেয়ার এগিয়ে দিলাম , উনি শক্তির কপাল ছুলেন
- শক্তি ভগবান রাম রাম বোলো
ওর মাথায় একটু ভষ্ম মাখিয়ে দিলেন - যে ছেলেটা জ্বরে কাতরাচ্ছিল সে আবার খেলতে স্টাট । সাধু বাবা চলেগেলেন । আমার মনে সন্দেহ জাগলো উনি কি শক্তির জ্বরটা টানেলিলেন তাহলে উনার কি হল , কিছুক্ষণ পরে বাবার ডেরাতে গিয়ে হাজির হলাম দেখলাম উনি কাঁপছেন জ্বরে গায়ে কম্বল চাপা দিয়ে
- বাবা আপকা কিয়া হুয়া
- আরে বাচ্চো ভগবান , বুখার ভগবান আ গেয়া , যাও বাচ্চো ভগবান পানি ভগবান লে আও
কুয়ার থেকে বাবার জন্যে জল নিয়ে এলাম । বাবা কম্বল ফেলে দিয়ে স্নান করলেন পুরা ফিট ।

স্মৃতি - ২

তুলিনে নবকুঞ্জ বসেছে । সাধুবাবার ইচ্ছা বৃন্দাবনে মতো নবকুঞ্জ করার । তো এরকম নবকুঞ্জ কেও কোথাও দেখে নাই । এতো লোক আমাদের ঘরথেকে মন্দির যাতে সময় লাগত একঘন্টা ( দূরত্ব দুশো মিটার ) । আমি তখন ভলেন্টিয়ার ব্যাচ ম্যাচ লাগায় নিয়ে যাথি । ঘর ডুকতে হত বারান্দার লোক সরাই নিয়ে বহু দূর গ্রামের লোক এসেছিল হরিবোল শুনতে ।
এই নবকুঞ্জের তৃতীয়দিনে আমার যারা ভলেন্টিয়ার দেখলাম ভাঁড়ার পুরা ফাঁকা । তো আমরা বললি সাধু বাবাকে তো বলতে হবেক নবকুঞ্জ এখানেই থামায় দিতে এখনো ছ দিন বাকি । আমরা গেলি সাধু বাবার কাছে
- ক্যায়া হুয়া বাচ্চো ভগবান
- বাবা হরিবোল তো সমাপ্ত করনা পড়েগা , ভাঁড়ার মে তো কুছ ভি নেহি হে
-  ক্যায়া বোলা বাচ্চো ভগবান , প্যায়সা কে লিয়ে ভগবান কা নাম গান বন্দ হো জায়েগা , রামনাম বন্দ হো জায়েগা কভি নেহি
- তো কিয়া করেঙ্গে বাবা
- বাচ্চো ভগবান তুম লোক মত সোচো সামসে পয়সা আ জায়েগা
তুমি বিশ্বাস করবে নাই , সন্ধ্যা বেলা থেকে মন্দিরে এতো পয়সা যে পড়তে লাগলো ! আমাদিকে পয়সা গুলা বস্তায় ভরে নিয়ে থাক করে রাখতে হয়ে ছিল ।

 স্মৃতি - ৩

উনি বাক্ সিদ্ধ মহাপুরুষ ছিলেন , আর একটা ঘটনা বলি । তুলিনে একদম বৃষ্টি নাই সব মাঠ ফুটি ফাটা । সবলোক সাধুবার কাছে নিদান চায়তে গেল
- ক্যায়া হুয়া ভগবান
- বাবা একদম পানি নেহি হো রাহা হ্যে
- ও তো পানি ভগবান কো লানা হোগা , হো জায়েগা
উনি সোজ চলে গেলেন বানসা পাহাড়ের দিকে ওখানে জপ ধ্যান করলেন । তারপরেই কথলে যে মেঘ আইল পুরা দক্ষিণ পশ্চিম আকাশটা কালো করে তুলিনে লে জল আর লে জল ।
আর উনি সবাই কেই ভগবান বলে ডাকতেন এমন কি কুকুর কে ও ভগবান বলতেন ।
শ্রী সুবোধ দে
তুলিন উপরপাড়া

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

বেশিবার পড়া