অসময়ে কিছুটা হলেও আশা জাগছে , মানুষের মনে । একদিকে প্লাজামা থ্যারাপি যেমন কার্যকরী হয়ে উঠছে - তেমনি প্রতিষেধকের আশা জোগাচ্ছে পুনের সিরাম ইনস্টিটিউট । এই সিরাম ইনস্টিটিউট অস্কফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে মেলবন্ধনে করে যাচ্ছে করোনার টিকা আবিষ্কারের কাজ । তাদের দাবি মে মাসের মধ্যে ই তারা ট্রায়াল শুরু করতে পারবে । সেপ্টেম্বরে ভারতে পাওয়া যাবে করোনার টিকা । দাম পড়বে ১০০০ টাকার মতো ।
মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২০
করোনার ভ্যাকসিন সেপ্টেম্বরে !
অসময়ে কিছুটা হলেও আশা জাগছে , মানুষের মনে । একদিকে প্লাজামা থ্যারাপি যেমন কার্যকরী হয়ে উঠছে - তেমনি প্রতিষেধকের আশা জোগাচ্ছে পুনের সিরাম ইনস্টিটিউট । এই সিরাম ইনস্টিটিউট অস্কফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে মেলবন্ধনে করে যাচ্ছে করোনার টিকা আবিষ্কারের কাজ । তাদের দাবি মে মাসের মধ্যে ই তারা ট্রায়াল শুরু করতে পারবে । সেপ্টেম্বরে ভারতে পাওয়া যাবে করোনার টিকা । দাম পড়বে ১০০০ টাকার মতো ।
মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২০
সম্পাদকীয় কথা
না আমরা কেউ ভালো নেই । পৃথিবীর কঠিন অসুখ এতো আর সুখের সময় নয় । তবুও সময়ের নিয়ম মেনে দিন যায় , বছর আসে । আজ নববর্ষ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ এ কঠিন সময়ে প্রকাশিত হল " আমার বাংলা পত্রিকা " ব্লগজিনের পয়লা বৈশাখ , এই একলা বৈশাখে যাতে একটু ভালো থাকা যায় , সাজানো হল লেখার ডালি । বন্ধু পড়ুন মতামত জানান - ফটো এবং ভিডোওগ্রাফি বলছে মানে ওই সংবাদ মাধ্যম , সমাজ মাধ্যম দেখাচ্ছে , আমাদের দ্বারা নির্বাচিত সকলে কাজ করছেন , আমরা একটু লক্ ডাউন টা মেনে বাড়িতে থাকি .............. । আর স্বপ্ন দেখি সুস্থ্য পৃথিবীর ।
পুরো সংখ্যাটি সহজে পেতে এই লিংকে যান
https://amarbanglapotrika.blogspot.com/search/label/%E0%A7%A7%20%E0%A6%B2%E0%A6%BE%20%E0%A6%AC%E0%A7%88%E0%A6%B6%E0%A6%BE%E0%A6%96%20%E0%A6%B8%E0%A6%82%E0%A6%96%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%BE%20%E0%A7%A7%E0%A7%AA%E0%A7%A8%E0%A7%AD?m=1
কবিতায় নিজস্বতা - আবদুস সালাম
সমকালের কবিতায় লক্ষ্য করা যাচ্ছে সুদূর প্রসারী বর্ণচ্ছটা।প্রত্যন্তগামী ভাবনার বিচ্ছুরণ। ভাবনার মাটি খুঁড়ে খুঁড়ে আনতে হয় কবিতার শরীর। ভাবনা থেকে ভাবনায় ডিঙিয়ে যাওয়া শুধু। ভাবনার ভগ্নাংশ জুড়ে তৈরি হয় কবিতার পঙ্ক্তিমালা। ভাবনার রাস্তা খানাখন্দে ভরা। সাবলীল গতি হোঁচট খাচ্ছে প্রতি পদে।লাফ দিয়ে ডিঙিয়ে যাওয়া শুধু।
আমরা যারা সাধারণ পাঠক হারিয়ে ফেলেছি খেই। পাচ্ছিনা সঠিক দিশা। প্রায়শই মনে হয় এ যেনো ভাবনার বুনো হরিণ।একে ধরা যায় না কেবলমাত্র চোখে দেখে যায়। ছেঁড়া ছেঁড়া ভাবনার স্ফুলিঙ্গ দিয়ে বোনা রাতের আকাশ। শরতের পেঁজা পেঁজা তুলোর মতো ভেসে যাওয়া টুকরো টুকরো আশা, আকাঙ্ক্ষা। আধুনিক কবিতা বলতে আমরা উপলব্ধি করছি পেঁজা তুলোর মতো ভাবনা বিহীন ভাবনার জারিত কথামালা। যেমন দেবাশীষ সাহা লেখেন "মহিষ আর মেঘের সঙ্গমে জন্ম নিবে আমার উত্তর পুরুষ ।"
"কাঠের স্বপ্ন অনুবাদ করছে গৃহ সজ্জা"
"ঘরে ফিরে রং করি পাখিদের ডানা"
অসাধারণ সব অনুভূতি যা নতুন প্রজন্মকে কবিতার বনে ভ্রমণ করতে যোগাবে নতুন দিশা।
কবিতায় খুঁজে পাই নির্মাণগত আপাত বিশৃঙ্খলা । স্বাধীন কল্প চিত্রের বেহায়াপনা।এখন মিথের ছড়াছড়ি । বিশ্বাস অবিশ্বাস মিলে মিশে শব্দেরা নির্বাক। কবিতায় এখন খুঁজে পাই সম্মোহনী ধ্বনি প্রবাহের বিচিত্র বুনন। কবিতায় অজন্তা ইলোরার প্রচ্ছদ ভাবনা। কবিতার প্রেক্ষাগৃহে ঢুকে খেমটা নাচে পাড়া মাত্ করে। অসাবলীল যাত্রাপথে জীবন ভিত্তিক জীবন যন্ত্রণার নানা অভিজ্ঞতার কথা আঁকে উপলব্ধির চিত্র ।
আঙ্গিকের পরিবর্তন এই সময়ের কবিদের বিশিষ্ট লক্ষণ । অন্তর্দহনে জর্জরিত মানুষের চলার পথ যেমন সাবলীল হয়না তেমনি কবিদের কবিতা ও এখন সাবলীল প্রকাশে ধরা দেয় না।মোহময় উল্কি দিয়ে সাজানো হয় কবিতার শরীর।অনুভূতির বুননকে আমরা অস্বীকার করি কিভাবে?
এই সময়ের একজন আলোড়ন জাগানো কবি তৈমুর খান এর কবিতায় এখন অন্যমনের ছড়া ছড়ি। বাস্তবতার করুন দহনে জর্জরিত ভাষা উগড়ে দেন কবিতার শরীরে।
"শহরে এসে দেখি,সব মানুষের পিতলের হাত
রূপোলী মুখে বড় যান্ত্রিক হাসি
আর পা গুলো লোহার,টায়ারের সঙ্গে গড়াতে গড়াতে গোল হয়ে গেছে পিচের রাস্তায়।"।
"হে বিষগাছ, তোমার তলায় আমাকে পুঁতে রাখলাম
কখনো ফুল ফুটৃলে ডেকে দিও"__
"বাতাসের ডানায় মরুভূমি পার হই,
হা অন্ন দু ঠোঁটে ছড়িয়ে দিই বিষ
বিষাদ আমার ডাকঘর"
"সঙ্গমের খোলা রাস্তায় বাজনা বেজে ওঠে
বিবাহ উৎসবে নেচে ওঠে রাত
টেবিলে টেবিলে উষ্ণ জল
কামুক কুয়াশার চাউনি
উঁকি দিচ্ছে সালঙ্কারা মেঘ"
আমাদের অসুবিধা হয় ।এখন কবিতার ভাষা যেন সেতু হীন যাত্রাপথে স্বপ্ন উড়ান , যেটা বড্ড প্রাসঙ্গিক।কবিগণ ছন্নছাড়া আকাশের বুকে এঁকে দিতে চায় প্রাত্যহীক আল্পনা। দিন পাল্টে যাচ্ছে, সময় বদলে যাচ্ছে। কবিতার ভাষা, আঙ্গিকের কেনই বা পরিবর্তন হবে না?
রবীন্দ্রনাথ ,নজরুলের বিবরণ ধর্মী কবিতা থেকে বেরিয়ে এসে কল্লোল যুগের কিছু কবি যেমন জীবনানন্দ দাশ, সুভাষ মুখোপাধ্যায়,অমিয় সেন এর মতো প্রতিভাবান কবি বেরিয়ে এলেন চেনা পথ ছেড়ে অচেনার উদ্দেশ্যে । তৈরি করলেন নতুন পথ ।যে পথ ধরে আমরা পাড়ি দিয়ে চলেছি নতুনের অভিযানে। যতই সমুদ্রের জল লবনাক্ত হোক ,হোক না কেন বিপদসংকুল আমাদের ছোট ডিঙিনিয়ে জয় করবো নতুন দেশ ।
তারা আমাদের শেখালেন নতুন কবিতার আঙ্গিক, পরিবেশনের কলাকৌশল। আমরা সেই পথে হাঁটতে দেখলাম নব নব কবিদের। একবিংশ শতাব্দীতে সেই সব কবিদের অসাধারণ সব পঙ্ক্তিমালা।
যেমন অভ্র দীপ গোস্বামী লিখেছেন "ধর্ম বিবেকের গলায় পাওয়া গেল ভাঙা মদের গেলাস"।
অমিতাভ দাশ লিখেছেন " মেঘের মতো অভিমান এসে ধাক্কা দিচ্ছে বিষাদ কুটিরে " ।
রোশনি ইসলাম লিখেছেন " মুসলধারে বৃষ্টি হচ্ছে/সবুজ পাতার উপর পিঁপড়ের পরিবার "___
সমীরণ কুন্ডু লিখেছেন " লিঙ্গের প্রত্যয় দেখে/শিবের সৎকার নিষিদ্ধ হল/উত্তর বিশেষ গবেষণা লিখে রাখে কেউ_"___
তৈমুর খান লিখেছেন "রোজ মোহ এসে গাভীর মতো দাঁড়ায়/তার দুধের থলি ঝুলে নামে/হামাগুড়ি দিয়ে তার তলপেটের নীচে/হাঁ করে থাকি/জিভ দিয়ে ঠোঁট চেটে চেটে/পান করি অলীক রস___
রোজ নারীর কাছে যাই/গাছের কাছে যাই/অহংকার ও নম্রতা তুলে দেখি/সহিষ্ণু ও সততা হেসে ওঠে/ তার পর বাতাসে ওড়ায় চুমু_"___
গোলাম রসুল লিখেছেন"নৌকার তলায় শুকিয়ে গেছে শহরের ভিতর দিয়ে বয়ে যাওয়া নদী "
" কি মারাত্মক ভাবে রাত্রি নামছে/শুধু বেঁচে থাকার জন্য নয় মরার জন্য যে হাসপাতাল বানিয়েছে/আমরা তার উপর প্রচন্ড মেঘ"____
"আমি দেখছিলাম পোশাক খোলা আমার ছায়া"___
ফজলুল হক লিখেছেন"অন্ধকারের অলৌকিক পুরুষ আমি/একান্তে ভিক্ষে চাই সূর্যের আলো/পুড়ে যাবে আকাঙ্ক্ষার জ্বালামুখ/ছায়া হীন পিপাসা কাতর চুম্বন রাত্রি"___
মাসাদুর রহমান লিখেছেন "পৃথিবীর প্রতিটি দিন শান্ত গ্রামের প্রান্তে বসে/দেখে/ধান ক্ষেতে আশ্চর্য বাতাস নিয়ে ফিরে আসছে বিভূতিভূষণ"____
প্রবীর চক্রবর্তী লিখেছেন "কোনো কোনো অসুখের চূড়ায় দাঁড়িয়ে/শহর দেখতে গিয়ে পা হড়কে/পড়ে গেছি মৃত্যুর দিকে/চারপাশে প্রিয় জন বিষন্ন চোখের তারায়/পিছনের পথ"____
সৌরভ হোসেন লিখেছেন"হাসপাতাল থেকে ফিরে আসে যেটুকু সুখ/তার ভেতর আমাদের আকাশ/আমাদের যাপন, আমাদের সংসার /অসুখ কখনো আপনার হয়না/অথচ অসুখের ভেতরেই আমাদের বাস, আমাদের রোদবৃষ্টি/আমাদের নাগরদোলা"__
আবদুস সালাম লিখেছেন"সময়ের স্রোতে বয় শুনশান শূন্য বাতাস/চোখ জুড়ে নেমে আসে গাঢ় অন্ধকার/বিষন্ন উৎসবের আড়ালে খসে অস্তিত্বের খোলশ/অনিবার্য অন্ধকারে ভাসে বিবর্ণতা র সংকেত"___
"একটা ধূসর শূন্যতার বুকে মাথা গুঁজে আছি/শিয়রে বসে পাহারা দিচ্ছে মহাকাল/বিবেকের পাঠশালায় ঝর্ণার বিজ্ঞাপন/নষ্ট আকাঙ্ক্ষার আমন্ত্রণে জড়ো হয় পাপ"___
সাহিত্য চর্চার বিষয় টি এখনো বিছুটি পাতার মতো অচ্ছ্যুৎ। সাহিত্যে হেরে যাওয়ার কিছু নেই। সাহিত্য একটা দুরন্ত নদীর মতো চঞ্চল।যখন জেগে ওঠে তখন বসন্ত সমাগত হয়।দুর্ভাগা সুন্দর যেমন মাটি কামড়ে পড়ে থাকে।
কবিতা মনের ভূবনে নানা রকম ফুল ফোটায়। মানুষের মন যেমন ভিন্ন,মনন ও তেমনি ভিন্ন। কবিতায় কবির ভাবনা ও তেমনি ভিন্ন। ভিন্নতা আছে বলেই কবিতার ভিন্নতা আমরা লক্ষ্য করি। লক্ষ্য করি ভিন্ন ভিন্ন প্রকৃতির, ভিন্ন ভিন্ন রসের কবিতা আমরা দেখতে পাই। নিমফুলের মধু, আমফুলের যেমন ভিন্ন, তেমনি কবিদের কবিতা ও তেমনি ভিন্ন ভিন্ন ।
বহু প্রতিকূলতার মধ্যেও কবিতা নিজস্ব স্বত্তা বজায় রেখে আপন গতিতে,আপন মনে এগিয়ে চলেছে।শ্রদ্ধার চোরাবালিতে আবেগ মথিত হৃদয়ের যন্ত্রণা মন্ডিত শব্দ মঞ্জরীই কবিতার প্রাণ। গর্ভ যন্ত্রণার মুক্তিই কবিতার স্বরূপ।
মানবপক্ষ - প্রদ্যোত আশ
বন্ধু আমি তো স্বপ্ন দেখেছিলাম
আমাগো আর কেউ মালাউন কইবা না
তোমার সাথে ঘর ছেড়েছি আমি
অর্ধাহারে ঝড়ো রাইফেল কাঁধে
জয় বাংলা , জয় বাংলা , বাংলার জয় হবেই
অবশেষে বিজয় দিবস এল বাংলা তোমার রাষ্ট্র ভাষা হল
তারপরেও থেমে থাকল কই আমার মাটিতে মালাউন বিদ্বেষ
তারপর তো বিরানব্বই এল আমি চলে এনু এপার বাংলায়
ভোটার , আধার সবকিছুই তো আছে তবু ও শুনছি ওগুলোর দাম নাই
কেউবা বলছে NPR হলে আমারাই নাকি লাভবান হব বেশি
বন্ধু তবু তো স্বপ্ন দেখেছিনু আমাগো কেউ মালাউন কইবা না
এখনো আমি বাংলা মিছিলে হাঁটি কত পরিচিত শহিদরা মনে আসে
আজো কিন্তু স্বপ্ন দেখে যায় সব রাষ্ট্রই মানবপক্ষ নেবে
লঙ্কাকাণ্ড : একটি অসমাপ্ত ধারাবিবরণী - মধুসূদন দরিপা
এক হি নারা এক হি নাম
জয় শ্রীরাম জয় শ্রীরাম
প্রশান্ত মহাসাগরের আকাশ থেকে উড়ে এসেছেন শ্রীরামচন্দ্র
সঙ্গী তাঁর সীতা মেলানিয়া
এই মুহূর্তে কমলালেবু আর পেয়ারার রসে এবং ডাবের জলে গলা ভেজাচ্ছেন রাজধানীতে বসে
ওদিকে মৌজপুর বাবরপুরে প্রজারা বিদ্রোহ করেছেন বলে খবর এসেছে
চাঁদবাগে খুন হয়েছেন মহম্মদ ফুকরান, শাহিদ
' এখান থেকে গাড়ি সরিয়ে নিন,
যেকোনও সময় আগুন জ্বলবে '
' হেই ! মাচিস কাঁহা হ্যায় '
চারটে দোকান দুটো বাড়ি জ্বলে উঠলো জাফরাবাদে
একই সঙ্গে রাজবাড়ির হেঁসেলে জ্বলে উঠলো আভেন
সাত ধরণের চা তৈরী হবে
আমেরিকান, ইংলিশ, আর্ল গ্রে, দার্জিলিং, অসম, গ্রিন আর লেমন
এদিকে এক মনে পুড়ে চলেছে রোম, নোয়াখালি, কলকাতা, অযোধ্যা, গোধরা, দিল্লী
এক মনে বেহালা বাজিয়ে চলেছেন সম্রাট নিরো
রঘুপতি রাঘব রাজা রাম
সেভেন গ্রেন কুকিজ আর রোস্টেড আমন্ড সহকারে আর্ল গ্রে টি-র কাপে চুমুক দিচ্ছেন
পতিতপাবন সীতারাম
এইমাত্র খবর পাওয়া গেলো
রবিবার মাঝরাতে বানরসেনারা উড়ে এসে দুই পুষ্পকরথ সমুদ্রশিলা নামিয়েছে
এবং শিলার আঘাতে গোকুলপুরীর হেড কনেস্টবল রতনলালের মৃত্যু হয়েছে
খবর শোনা বন্ধ করে শ্রীরামচন্দ্র এক মনে খামান ও ভুট্টার সিঙ্গাড়া খেতে শুরু করলেন
ওদিকে এক মনে পুড়ে চলেছে রোম, নোয়াখালি, কলকাতা, অযোধ্যা, গোধরা, দিল্লী
এক মনে বেহালা বাজিয়ে চলেছেন সম্রাট নিরো
রঘুপতি রাঘব রাজা রাম
পতিত পাবন সীতারাম
নীরা কালসীমাহীন অনন্তের প্রজ্ঞা - তৈমুর খান
সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের নীরা আত্মঅন্বেষার এক নিগূঢ় জাগরণ। যতই তাকে রক্ত মাংসের মধ্যে খোঁজা হোক না কেন ,যতই তাকে নারীরূপে দেখানো হোক না কেন, সুনীলের আর এক সত্তা 'মনের মানুষ'কে আরশিনগরেই উপলব্ধি করা যায়। কেউ বলে 'রানি' ,কেউ বলে 'নারী' ,কেউ বলে 'প্রেমিকা' —আসলে কেউই ঠিক বলতে পারে না। কবির বাউল সত্তায় সহজিয়া এক বোধের তীব্র আকুলতা এই নীরার জন্ম দিয়েছে। বাস্তবের স্পর্শে তাকে স্পর্শ করার তাগিদ জেগে উঠলেও তাই নীরা কখনো বাস্তব হয়ে ওঠেনি। এক দুর্মর রহস্যের অন্তরালেই সে বিরাজ করেছে। রবীন্দ্রনাথের 'রাজা' নাটকে রানি রাজাকে কখনো দেখতে পায়নি। কখনো হাত দিয়ে ধরতে পারেনি ,অথচ রানি জানে রাজা আছে। রাজার কঠিন কোমল রূপও আছে। একটা ধারণার ব্যাপ্তি অনন্তের মহাসমারোহে বিরাজ করেছে। নীরাও এই অনন্ত প্রেমের আধার ,অনন্ত নারীর আধার। সমূহ ধারণার অভিব্যক্তিতে তার উপস্থিতি এবং রহস্যময় গতিবিধির দোলাচল। নীরা বিষয়ক কবিতাগুলি সেই অভিমুখেই প্রক্ষিপ্ত এবং ব্যাপ্ত। জীবনানন্দ দাশের হাজার বছরের পথ হাঁটা এবং অন্ধকারের মুখোমুখি হওয়া যেমন বনলতা সেনের কার্যকারণে প্রতিফলিত অনন্ত জন্মের ঘোর, এই নীরাও তেমনি সমস্ত পুরুষ হৃদয়েরই নিবেদিত আশ্চর্য এক প্রেমের দীপ্তি যাকে ধরা যায় না অথচ মনে হয় হাতের নাগালেই অবস্থিত। যাকে উপলব্ধি করা যায় ,মনের চোখ দিয়ে দেখা যায়, কিন্তু বাস্তবের রক্ত-মাংস-মজ্জায় প্রকৃতিস্থ করা যায় না। আসলে মনের মানুষ তো মনেই থাকে ,মনের বাহিরে তাকে টেনে এনে দাঁড় করানোই কবির সাধনা।
সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় প্রেমের কবি, মিস্টিক চেতনার কবি। তাঁর কবিতার প্রধান বৈশিষ্ট্য হচ্ছে মরমিয়া ভাবালুতা। দেহকে উপলক্ষ করে দেহের বাহিরে অর্থাৎ দেহাতীত হওয়া। কামকে পবিত্র প্রেমের আলোয় পরিণত করা। ষাঁড়ের মাথায় লাল কাপড় বাঁধলেও তিনি পূজার জন্য ১০৮ টা নীলপদ্ম তুলতে ভোলেন না। ঘুমন্ত কুমারীর ঊরুতে রাখেন কামহীন হাত। ভালোবাসা বলতে শুধু সুখ নয়, তিনি নির্বাসনকেই বোঝেন । সেই কবি যখন নীরার কাছে হাঁটুমুড়ে বসেন তখন সঙ্গম প্রার্থনা করতে নয়, পূজা করতে,আত্মনিবেদন জানাতে। ভোগের শরীরী মাধুর্যে তাকে লাভ করা কবির উদ্দেশ্য নয়। 'আমি কীরকমভাবে বেঁচে আছি' কাব্যের বেশ কয়েকটি কবিতায় নীরার ব্যাপ্তি এবং মিস্টিক বোধের পর্যায়টি প্রথম থেকেই জানিয়ে দেন। 'হঠাৎ নীরার জন্য' কবিতার প্রথম পঙক্তিটিই মহাকালের দরজা খোলে :
"বাসস্টপে দেখা হল তিন মিনিট অথচ তোমায় কাল স্বপ্নে বহুক্ষণ"
'তিন মিনিট' কয়েকটি মুহূর্ত মাত্র ,কিন্তু মুহূর্তই তো মহাকালের অংশ। এই মুহূর্তই স্বপ্নের বহুক্ষণ ধারণ করল। 'বহুক্ষণ' যে অনন্তকাল অর্থাৎ মহাকালের সমারোহে অভিগত সে সম্পর্কে কোনো সন্দেহ নেই। কেননা পরবর্তী অংশে কবি ব্যাখ্যা করলেন :
"দেখেছি ছুরির মতো বিঁধে থাকতে সিন্ধুপারে
দিকচিহ্নহীন--
বাহান্ন তীর্থের মতো এক শরীর,হাওয়ার ভিতরে
তোমাকে দেখেছি কাল স্বপ্নে ,নীরা ,ওষধি স্বপ্নের
নীল দুঃসময়ে।"
'দিকচিহ্নহীন' শব্দটিতে ব্যাপ্তির অনন্ত প্রসারকে তুলে দিলেন, তেমনি 'বাহান্নতীর্থের মতো এক শরীর' লিখে দেবী মহামায়ার স্বরূপকে উন্মোচিত করলেন। এই নীরা তো সেই নীরাই যাকে কাল সীমানাহীন অনন্তের আধারে উপলব্ধি করা যায় ।
এই কবিতাতেই 'তুমি' সর্বনামটি ব্যবহার করে নীরাকে মানবীর এক সম্বোধনের বলয় কবি তৈরি করতে চেয়েছেন। আসলে অনন্তের প্রজ্ঞাকে ধরতে চেয়েছেন। নিজস্ব করে তুলতে চেয়েছেন । রামকৃষ্ণদেবের মতো মান-অভিমানের ভেতর একাত্ম করে গড়তে চেয়েছেন। এসবই সাধনায় উৎসারিত উপলব্ধির ভাষা। সম্পর্কের ক্ষেত্র তৈরি করা মাত্র।কবি যখন বলেন :
" তুমি আজই কি ফিরেছো ?"
তখন তো মানবীর জিজ্ঞাসাই হয়ে ওঠে, কিন্তু অনন্ত রহস্যকে আপন করে তুলতে তো এই ভাষাই ব্যবহার করতে হয়। রামকৃষ্ণদেব তো 'শ্যামা মা'কে এই ভাষাতেই কথা বলতেন। কবি সচকিত হয়ে দেখেন : 'তোমার দিগন্ত, দুই ঊরু ডুবে গেছে নীল জলে' —তখন তো 'তোমার' সর্বনামটিও কোনো নারীর হতে পারে না, কারণ দিগন্ত এবং দিগন্তের নীল নারী নয়, অনন্তময়ী শক্তির আধার ।এই শক্তিকেই সুনীল পূজা করেছেন।শিল্পী Hans Hofmann এই মিস্টিক চেতনা সম্পর্কে বলেছেন : "The whole world, as we experience it visually, comes to us through the Mystic realm of color"
অর্থাৎ পুরো বিশ্ব, যেমনটি আমরা এটি দৃশ্যত অনুভব করি, রঙের রহস্যময় অঞ্চলের মাধ্যমে আমাদের কাছে তা আসে । সমগ্র বিশ্বেই ছড়িয়ে আছে যে রং তা তো মিস্টিক চেতনারই রং । কবিও যা দেখেন ,শিল্পীও তাই দেখেন । সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় সেই রংকেই কবিতায় 'নীলজল' হিসেবে পেয়েছেন। জার্মান ও অামেরিকান শিল্পীর এই মিস্টিক বোধের অভিজ্ঞতাই 'নীরা' বিষয়ক কবিতায় প্রতিফলিত হয়েছে। মিস্টিক চেতনার রাজত্বে সব নারীর মুখেই নীরার প্রতিফলন ঘটেছে। সব কথাতেই নীরার কথা হয়ে উঠেছে। একীভূত এই পর্যায়টিকেই কবিতায় বারবার তুলে ধরেছেন। 'অপমান এবং নীরাকে উত্তর' কবিতাতেও দেখা যায় এই পরিচয় :
" সিঁড়িতে দাঁড়িয়ে কেন হেসে উঠলে সাক্ষী রইল বন্ধু তিনজন"
সেই মানবীর ক্রিয়ারই সমীক্ষণ। স্পর্শ করা থেকে ঘ্রাণ নেওয়া সবেতেই কবি তার আবহাওয়াটি রচনা করেছেন। 'নীরার জন্য কবিতার ভূমিকা'তেই বোঝা যায় সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় নীরাসত্তার ভেতর কীভাবে নিজেকে ছড়িয়ে রেখেছেন। যাবতীয় সৃষ্টিতেই নীরার অভিক্ষেপ যেমন, তেমনি দৃশ্য এবং অদৃশ্য প্রজ্ঞার মধ্যেও নীরার জাগরণ ও অবস্থিতি নিগূঢ়ভাবে কার্যকরী ভূমিকা নিয়েছে। নীরা যে পবিত্র এক আত্মার ধারণা ,ভোগের কামমুহূর্ত নয়, কবি তা খোলসা করেছেন :
"আমার সম্পূর্ণ আবেগ
শুধু মোমবাতির আলোর মতো ভদ্র হিম,
শব্দ ও অক্ষরে কবিতায়
তোমার শিয়রের কাছে যাবে— এরা তোমাকে
চুম্বন করলেও
তুমি টের পাবে না, এরা তোমার সঙ্গে সারারাত
শুয়ে থাকবে
এক বিছানায়—তুমি জেগে উঠবে না, সকালবেলা
তোমার
পায়ের কাছে মরা প্রজাপতির মতো এরা লুটোবে।
এদের আত্মা মিশে
থাকবে তোমার শরীরের প্রতিটি রন্ধ্রে, চিরজীবনের মতো
বহুদিন পর তোমার সঙ্গে দেখা হলে ঝর্ণার জলের মতো
হেসে উঠবে কিছুই না জেনে। নীরা ,আমি তোমার অমন
সুন্দর মুখে বাঁকা টিপের দিকে চেয়ে থাকবো ।
আমি অন্য কথা
বলার সময় তোমার প্রস্ফুটিত মুখখানি আদর
করব মনে মনে
ঘরভর্তি লোকের মধ্যেও আমি তোমার দিকে
নিজস্ব চোখে তাকাবো।
তুমি জানতে পারবে না —তোমার সম্পূর্ণ শরীরে
মিশে আছে
আমার একটি ব্যক্তিগত কবিতার প্রতিটি
শব্দের আত্মা।"
একই দেহে দুই সত্তার বসতি। এক সত্তা যেন আর এক সত্তাকে দ্যাখে। এই সত্তা আর এক সত্তাকে কবিতায় নিরীক্ষণ করে। সেই সত্তাই তো শক্তির উৎস। নিজেকে নিজেই আদর করা, চুম্বন করা ,একই বিছানায় শুয়ে থাকা, পায়ের কাছে মরা প্রজাপতি হয়ে লুটানো । চিরজীবনের মতো আত্মায় মিশে থাকা আর কে হতে পারে? সেই সত্তাকেই খুঁজে পেতে চেয়েছেন নিজের মধ্যে। জলের মতো কখনো হেসে উঠে, কখনো সুন্দর মুখে বাঁকানো টিপের দিকে চেয়ে থেকে, আত্মপ্রেমের গভীর পর্যায়টি নার্সিসিজমে পৌঁছাতে চেয়েছে ।বিখ্যাত দার্শনিক Erich Fromm তাঁর The Art of Loving -এ বলেছেন :"I must try to see the difference between my picture of a person and his behavior, as it is narcissistically distorted, and the person's reality as it exists regardless of my interests, needs and fears.” অর্থাৎ আমার অবশ্যই একজন ব্যক্তির আমার ছবি এবং তার আচরণের মধ্যে পার্থক্য দেখার চেষ্টা করতে হবে, কারণ এটি ন্যারিসিস্টিস্টিকভাবে বিকৃত, এবং ব্যক্তির বাস্তবতা যেমন রয়েছে তা আমার আগ্রহ, চাহিদা এবং ভয় নির্বিশেষে বিদ্যমান। শিল্পীর স্বীকারোক্তির মধ্যদিয়েই কবিরও সত্তার এই রূপের ভিন্নতা রয়েছে। নিজেকে নিজের মতো করেই সেই সত্তার নির্মাণে উপস্থিত করেছেন। তার পবিত্রতা ধরে রাখতে চেয়েছেন। নীরা যে প্রেরণা দিতে পারে, নির্বিকল্প মানুষ করে তুলতে পারে সে কথাও জানান কবি। 'এসেছি দৈব পিকনিকে' কাব্যের 'নীরার কাছে' কবিতায় তাই বলেছেন : 'যেই দরজা খুললে আমি জন্তু থেকে মানুষ হলাম।' এই বিবেকের জাগরণ তো একটা নতুন রূপান্তর কবিসত্তার। কবিকে নির্মোহ করে গড়ে তুলেছে। 'সোনার মুকুট থেকে' কাব্যের 'নীরা তুমি' কবিতায় কবি দার্শনিক হয়ে গেছেন। যে নদীর সহবাসে কবির দিন কাটে সে গৌতম বুদ্ধকেও দেখেছিল। কবি যে সেই দীক্ষিত তপস্বী হয়ে উঠেছেন তা বলাই বাহুল্য। 'আকাশ পোশাক হতে বাকি নেই' বলেই কবি মহাশূন্যের বিস্তারে ছড়িয়ে দিয়েছেন।
'বাতাসে কিসের ডাক শোনো' কাব্যে 'নীরা তুমি কালের মন্দিরে' কবিতায় নিজের আত্মবিষাদের ভেতর নীরার বিষাদকে স্পর্শ করেছেন। নীরা প্রকৃতির বিস্ময় নিয়ে জেগে থেকেছে। অর্থাৎ কবি নিজেকে প্রকৃতির ভেতর ছড়িয়ে দিয়েছেন। তাই ব্যক্তিবোধ এখানে নেই। প্রকৃতি চেতনায় নীরা আরও দূরগামী, রহস্যময়ী :
" অরণ্যের এক প্রান্তে হাত রেখে নীরা কাকে বিদায় জানালো
আঁচলে বৃষ্টির শব্দ ,ভুরুর বিভঙ্গে লতাপাতা
ও যে বহুদূর,
পীত অন্ধকারে ডোবে হরিৎ প্রান্তর
ওখানে কী করে যাবো ,কী করে নীরাকে
খুঁজে পাব?"
সত্তার এই বিস্তার মৃত্যুচেতনা অথবা আবহমান পঞ্চভূতে বিলীন হওয়ারই নামান্তর। তখন তো ব্যক্তি থাকে না ।নীরা নামে কোনো একক বিশেষ্য কবির নিজস্ব আরাধ্য হতে পারে না । স্বাভাবিকভাবেই সংশয় জেগে উঠেছে। প্রাণের আকুলতাও দেখা দিয়েছে। 'জাদুকরী জাদুকরী' শব্দটির দ্বিরুক্তিতে তা স্পষ্ট । 'সেই মুহূর্তে নীরা' কাব্যের নাম কবিতায় লিখলেন:
"অমনভাবে দাঁড়িয়ে থাকো একটুক্ষণ, নীরা
যেন অলীক না মনে হয়
মিলিয়ে যেও না"
প্রাণের ঐশ্বর্যে ,ভাবনার সংরাগে এবং কল্পনার মহিমায় যাকে আত্মস্থিত ব্যঞ্জনায় সংগঠিত করা যায় ,তাকে তো দুচোখ ভরে কবি দেখতেই ভালোবাসেন। হারিয়ে না যাওয়ার আকুলতা এই কারণেই। কিন্তু সময়ের প্রবল স্রোতে তা ভেসে যায়। অনন্ত কি স্থির হতে পারে ?
আত্মরতির ছায়া যত দীর্ঘই হোক তা শূন্যতায় গিয়ে একসময় বিলীন হয়ে যায় । যা সত্য তাই পড়ে থাকে তা হল প্রাণের আকুলতা । 'সত্যবদ্ধ অভিযানে' কবি লিখেছেন :
" এই হাত ছুঁয়েছে নীরার মুখ
আমি কি এ হাতে কোনো পাপ করতে পারি?"
এই বিবেক জাগ্রত করার পক্ষে নীরারই প্রয়োজন ছিল। শরীরকে পেয়েও ত্যাগ করা এবং পার্থিব আসক্তি থেকে মুক্তির সোপানে উপনীত হওয়া সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের কাব্যের মূল বিষয়। তাঁর জীবন সাধনায় নীরার টংকার সেই প্রেরণা হিসেবেই প্রাপ্ত হয়েছে। কবি স্বীকার করেছেন :
“নীরা, তোমার কাছে আমি নীরার জন্যে রয়ে গেলাম চিরৠণী—"
নীরার কাছে নীরার জন্য ৠণী হওয়া বলাতেই বোঝা যায়, এই নীরা বাইরের কেহ নয়। রবীন্দ্রনাথের মতো 'অন্তর মাঝে অন্তরতম' এই নীরা। Hans Hofmann তাঁর আর্টিস্ট জীবন নিয়ে বলতে গিয়ে যেন একথাই বলেছেন :
"My aim in painting as in art in general is to create pulsating, luminous and open surfaces that emanate a mystic light, determined exclusively through painterly development, and in accordance with my deepest insight into the experience of light and nature."
অর্থাৎ "সাধারণভাবে শিল্পের মতো পেইন্টিংয়ের আমার লক্ষ্যটি হ'ল স্নিগ্ধ আলো, উদ্দীপনা এবং উন্মুক্ত পৃষ্ঠগুলি তৈরি করা যা একটি মরমী আলো উদ্ভাসিত করে, প্রকৃতির অভিজ্ঞতার আমার গভীর অন্তর্দৃষ্টি অনুসারে।
প্রকৃতি এবং জীবনই কবি ও শিল্পীকে চিরদিন ভেতর থেকে প্রেরণা দিতে পারে। স্পন্দিত ভাস্বর করে তুলতে পারে। `চোখে স্বর্গ স্মৃতি' এবং `ওষ্ঠে অমরতা'র চিহ্ন কবি দেখতে পেয়েছিলেন যা Pulsating এবং Luminous এর ধারক হয়ে উঠেছিল। তাই নীরা হৃদয়জাত এক অতিশরীরী বোধের চিরন্তন ও অমোঘ শক্তি —যার রূপ দেখার ক্ষমতা একজন প্রকৃত শিল্পীরই থাকে।
এক আকাশ তারার নিচে - সুপর্না দাঁ
এক আকাশ তারার নিচে
শুধুই কি অন্ধকার?
নাকি কিছু আলো অবশিষ্ট আছে...
বছরশেষের হিসেব খাতায়
শুধুই কি হারানো?
নাকি কিছু ফিরে পাওয়াও আছে...
আছে আছে..... অনেক কিছুই আছে
আছে স্মৃতি, আছে স্বপ্ন ,আছে এগিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার।।
আছে মেঠোপথ ,আছে খোলা হাওয়া
আছে সহাস্যমুখে ফেরা
আছে বন্ধুত্ব, আছে বিশ্বাস, আছে ভালোবাসা।।
যা যাওয়ার তা গেছে
তা নিয়ে নাইবা ভাবলাম
যা আছে তাই নিয়েই শুরু হোক
নতুন বছরের আগমনী পথ।।
শুধু বসন্ত'কে ছুঁতে চেয়ে - অরুণাভ নিয়োগী।
আজকাল বৃষ্টি পড়লেই ভাঙা দেওয়ালে
মেঘ আটকে যায়,উঠোন জুড়ে ঝিমিয়ে পড়ে
ক্যাচক্যাচে কাদা,খড়ের জল।
আজকাল বৃষ্টি পড়লেই সাদা পাতায় জমা হয়
মনখারাপ, হারমোনিয়ামের রিড বিষাদ ছড়ায়,
সবুজ মাঠ চিরে ট্রেনের কামরায় কান্না ছুটে যায়।
আজকাল বৃষ্টিরা প্রায়ই পথ হারায়
গলিপথে গিয়ে আটকে যায় ঢেউ, ছলাৎ ছলাৎ শব্দ তোলে হাঁটুর কাছে, কুয়োতে গিয়ে হুড়মুড়িয়ে পড়ে চোরা স্রোত।
আজকাল বৃষ্টিরা কখনও কখনও না বলেই আসে,
না বলেই ভাসিয়ে নিয়ে যায় দু'ফসলি জমি, সবুজ আল,ভরা মরাই আর খড়ের চালা।
আজকাল বৃষ্টিরা এসে ছুঁতে চায় শিমূলের ডাল,
পলাশ পাতা, অশোকের পাপড়িকে,
ছুঁতে চায় কোকিলের কালো ডানা, ঘেঁটু ফুল।
আজকাল মেঘেরা রোজ বৃষ্টি হয়, শুধু বসন্ত'কে ছুঁতে চেয়ে।
----
বাস্তবতা আর কল্পপ্রাণ - ব্রততী পরামাণিক
নিজের খেয়ালে ভেসে চলে স্রোতে
ইচ্ছা-অনিচ্ছার মিল-অমিলে
দায়বদ্ধ জীবন শোনে না বারণ
অকারণ,অবুঝ নয়ন-
যারে যা উড়ে পাখি
শিকল খোলা মন নিয়ে
হোক না হোক কোনো বাঁধন
তাও চলে যাও বহুদূরেই...
স্বপ্ন গুলো ইচ্ছে নিয়েই
কল্পনাতে থাক বেঁধে
কল্পনা তো ব্যাপ্তি নিয়েই-
না হোক পূর্ণ- মনখারাপ?
খারাপ মনেই আগলে রাখো
বাস্তবতা আর কল্পপ্রাণ ।
পুরাতন তুমি - পৃথ্বীরাজ
চোখের কোনে আটকে থাকা জল থেকে ঘ্রাণ ভেসে আসে তোমার।
এখনো মাঝে মাঝে সেই রেললাইনে চড়ে হাঁটার চেষ্টা করি। শুধু আগের মতো হাত ধরার কেউ থাকে না।
সেই পুরোনো জামাটা লোক লজ্জার মাথা খেয়েও মাঝে মাঝে পড়তে ইচ্ছে করে,
কেননা সেই জামার কলারে লেগে থাকা ঘামে তুমি ঠোঁট ছুঁইয়েছিলে।
তোমার চুমুর স্পর্শ আমি আজও পাই।
আজও মাঝে মাঝে টিকিট না কেটেই ট্রেন কামরায় উঠে পড়ি, জানালার ধারের সিটে বসে নীরবতা পান করি,
শুধু তোমার স্মৃতি গুলোকে হৃদয় হলে বন্দি রাখার জন্য।
বিশ্বাস করো আমি আজও সিগারেটর ধোঁয়াকে আমার নাগাল পেতে দিই নি,
সেই যে তুমি বলেছিলে সিগারেটের ধোঁয়া তোমার একদম সহ্য হয় না।
আমি আজও তোমার সেই তুমিই রয়েগেছি,
কিন্তু তুমি কি একটি বারের জন্যেও আমার কথা ভাবো?
না তো জানি তোমার আর সময় কোথায়?
কত বড় সংসার, কত দায়িত্ব।
আচ্ছা তোমার সমস্ত দায়িত্বের অবসান হয়ে যখন নীরবে ঝিমানো অন্ধকারে তুমি বসো তখনও কি তুমি পুরাতন?
জানি ভীষণ পুরাতন। পুরাতন তুমি।
শামুক ভাঙা কেউটে - দিয়াস
আমি সিউরি বিদ্যাসাগর কলেজে দর্শনশাস্ত্রে অনার্স নিয়ে পড়ি।প্রতিদিন গ্রাম থেকে যাতায়ত করি। আমাদের গ্রাম থেকে
সাত কিমির মতো রাস্তা হেঁটে বাস ধরতে হয়। বাসে দেড় ঘন্টা সিউরি যেতে সময় লাগে।
আমাদের গ্রাম থেকে বের হয়ে দুই কিমি রাস্তা যাওয়ার পর আবার একটা গ্রাম পড়ে। যে সময়ের কথা বলছি সেই সময়ে পুরো পথটায় ছিল মেঠো আল পথ। এই পথের মাঝে তিন চারটে ছোট বড়ো পুকুর পড়তো। পুকুরের পাড় থেকে নেমে আবার আল পথ।
এই রাস্তায় সবচেয়ে বড়ো পুকুরটার নাম ছিল বড়োবাঁদ। এই পুকুরটার দুই পাশের মাঠ গুলোতে একটি বিশেষ প্রজাতির সাপ আছে বলে শুনেছি। এই সাপগুলোকে ওখানে বলা হত শামুক ভাঙা কেউটে। এরা কারো অস্তিত্ব টের পেলেই আগে থেকে তাড়া করে গিয়ে ছোবল দিত। এই প্রজাতির সাপ যেমন বিষধর তেমনি হিংস্র।
বর্ষাকালে একদিন শেষ বিকালের দিকে খুব মুষলধারে বৃষ্টি হয়েছে বাসস্ট্যান্ডে নামতে আমা
আকাশে কালো মেঘ আছে। চারিদিক ঘুটঘুটে অন্ধকার। আমি তিন ভাগ রাস্তা পেরিয়ে বড়োবাদের আগের মাঠগুলোতে এসেছি। হঠাৎ করে আমার পা পিছলে গেল। এই সময় মাঠের মাটি আলে তুলে দেয়। তাতেই পা পিছলে এই বিপত্তি।
আমি যেই মাঠে পড়েছি,সাথে সাথেই মাঠের অন্যদিক থেকে জলে কিলবিল করে আওয়াজ। আমি বুঝতে পারলাম শামুক ভাঙা কেউটে আসছে। আমি তড়িমরি করে আলে উঠে এলাম। কিন্তু, আমার একপাটি হাওয়ায় চটি মাঠে গেঁথে রয়ে গেল। কাল সকালে বোঝা যাবে না কোন মাঠে হয়েছে। আবার চটি না পেলে ছমাসেও দ্বিতীয় চটি পাওয়া যাবে না। কলেজ যাওয়া বন্ধ হয়ে যাবে। তাই আমি মাঠের আলে কোনরকম নড়াচড়া না করে দাঁড়িয়ে রইলাম। মনে মনে মা মনসার নাম জপ করছি। অপেক্ষা করছি কখন একটা জোরে বিদ্যুৎ চমকাবে। আমি দেখতে পাব মাঠের ঘোলা জল কোন খান থেকে আসছে। ঝপ করে নেমে সেখান থেকে চটি তুলে নিতে হবে।
কিছুক্ষণের মধ্যেই খুব জোর বিদ্যুতের ঝলকানি। আমি ঝপাস করে চটি তুলে নিয়ে আপাতত ভরতের মতো খরম মাথায় দিয়ে বাড়ির দিকে হাঁটা দিলাম।
এইতো সেদিন - অরূপ কুমার গোপ মণ্ডল
এইতো সেদিন বসন্তে,
তোমার চোখে প্রথম আমার চোখ ।
কাঁটা চিনে , কনক লতায় করেছিলাম ভর।
অলির মত রাঙ্গিয়ে দিলে অধর,
মালির মত হাতের উপর হাত।
কথার মালায় হারিয়ে যেত প্রহর।
ভালোবাসার ভেলায় বসে ,
তুমি হতে- অভিমানী কাঁসাই।
আজকে সেসব খুব পুরানো নয়।
এমনকি আর হলো ?
বদলে গেল ভালবাসার প্রহর গুলো।
এখন তোমার আতঙ্কে দিন কাটে ।
আমার মনে বুক চিতিয়ে লড়াই করার সাধ।
হাজার বছর বাঁচার আমার সাধ ছিল না মনে ।
হাল ছেড়োনা ,পাল তুলে দাও কষে।
অতিথি দেব ভব - রিঙ্কু চট্টোপাধ্যায়
আগের দিনে পাননি খাবার, করিনি কোন আপ্যায়ন,
তাইতো তিনি খাটের পায়াতে করেছেন দন্ত ঘর্ষন।
তিনি আসবেন,তার জন্য
আয়োজন করে সম্পূর্ণ,
জানালা দিলাম খুলে-
উত্তুরে বায়, ঠান্ডা লাগায়
তবু তো তাঁর অপেক্ষায়
পাত্র ভরেছি জলে।
রেখেছি খাঁচায় টমেটো, তাঁর প্রিয় ফল জেনে-
কোকো পাউডার, আর প্যারিসের মিশ্রনে
কিছু চাল গম দিলাম ছড়িয়ে।
গত রাতে তাঁর দাঁতের ধারে
ঘুম কেড়েছিল, শব্দের জোরে-
তাই আয়োজন আজ রাতে,ডেকেছি দু হাত বাড়িয়ে।
অপেক্ষায় থেকে থেকে চোখ যে এল জড়িয়ে,
ভাবছি যখন বৃথা আয়োজন,
কেন এলেননা,কি হল?
শোবার ঘরে, এতদিন ধরে
এত দাপাদাপি শব্দের শান,
ভবলীলা তাঁর সাঙ্গ হল কি?
কার হাতে গেল, প্রান?
হঠাৎ চেয়ে সিঁড়িঘরে দেখি
রয়েছে তার প্রমান,
তিনিএসেছেন,গান গেয়েছেন
দাঁতগুলি করে ক্ষয়মান।
বিগবাজারে কেনা,নতুন জামাখানা
পরেছি হাতে গোনা।
দর্জির কাছে দেব বলে
রেখেছি ব্যাগের ভেতরে,
সে ব্যাগ ছিল সাইকেলে-
ঝুড়ির ওপরে
তার দফারফা,সাঙ্গ করেছেন
কেটেছেন এখানে ওখানে,
এত আয়োজন নিষ্ফল হল,
এমন হবে তা কে জানে!
ঘরের ভেতরে অতিথি না এসে
সিঁড়ি ঘরে তার স্বাক্ষর,
আমরা জব্দ করতে গিয়ে
হলাম নাকাল জব্বর।
পুনর্মূষিক হবার জন্য আবার পেতেছি ফাঁদ,
তিনি যে চতুর,
চেখে দেখবেন কি,
প্যারিসকোকোর স্বাদ?
আবার দেখা - সারদামণি মণ্ডল
তানপুরা টার তার গুলো
বাঁধা আছে একই সুরে।
শুধু বছরের পর বছর জমছে ধূলো।
দেখতে দেখতে একটা যুগ....
আয়নার সামনে দাঁড়ালে উঁকি দেয়
কালো চুলের মাঝে রূপোলি রেখা।
তবুও মনের ক্যানভাসে স্মৃতির আসা-যাওয়া।
শূন্য উদাস মনে-
তাকায় যখন নীল আকাশের পানে
বলাকার সারি যখন ফেরে আপন নীড়ে।
তখন মনের গহন কোণে
উঁকি দেয় সেদিনের বসন্ত বিকেল।
আজ ও বসন্ত-
চেনা মানুষের ভিড়ে খুব চেনা দুটো চোখ।
আবারও মুখোমুখি আমরা দুজন।
প্রশ্ন-- হয়তো বা দুজনেরই মনে,
উত্তর হলো না দেওয়া-নেওয়া,
শুধুই নীরবতা!
চেনা মানুষ কে দেখলাম অচেনার আড়ালে।
আজ যখন-
বায়ুদূষণে আকাশ নীলকণ্ঠ,
ধরিত্রী অ্যাসিড বৃষ্টির ভয়ে ভীত।
রামধনু ওঠে না আর প্রজাপতির ডানায়,
বাড়ির উঠোনে খুনসুটি করে না জোড়া শালিক।
সেদিনের জল আজ বরফে পরিণত।
শুধু আমিই রয়ে গেছি ঠিক আগের মতো!!
একটু আলো চাই - বদরুদ্দোজা শেখু
একটু আলো চাই ,একটু আলো চাই
হে সূর্য ,একটু আলো চাই ।
ওই পোড়ো গোয়ালের পিছে
নিম আর নিশিন্দার নীচে
ভয়ের ছায়ারা ভূতের মতোই খেলা করে ।
পাতাঝরা শব্দের হাততালি বেজে উঠে থরে থরে ।
বুড়ো মা'র নিকানো উঠোনে
এঁটো পাত বাসনকোসনে
খুটখাট শব্দ তোলে ইঁদুর না ব্যাঙ ?
আওতার চারিপাশে ঠেকে শুধু চোর-চোর ঠ্যাং ।
ওই বাঁশবাগানের পারে
বোষ্টুমীর বিরিঞ্চির ধারে
ছায়া ছায়া হাই তোলে পরীর প্রতিমা ,
বুকে এসে ঢি ঢি করে ডানপিটে ডাইনীর ঢাঢ্ঢার উদোম দ্রাঘিমা ।
ঝুরিময় প্রাণের শিকড়ে
গোঙানির তীব্র শ্বাস পড়ে
হিংস্র হ'য়ে উঠে ঢা-ঢা বাতাসের ঘোষ ,
আদিম গুহায় ফোঁসে ক্ষিপ্ত কোনো প্রলুদ্ধ রাক্ষস ।
আর দ্যাখো :
চারিপাশে শ্বাপদের ফণা কতো ফুঁসছে ,
আমাদের অসহায় দশা কা'রা শুষছে ,
ভয়ানক ভূপালের রাত চোখে ভাসছে ,
নিঃশ্বাস ফুসফুসে রুদ্ধ হ'য়ে আসছে ;
নিরীহ পৃথিবী আজ দাম্ভিক শক্তির হাতে ক্রীড়নক ,
জীবনের ন্যূনতম অধিকার কেড়ে নেয় রক্ত-শোষক ।
কোন্ দিকে পা বাড়াবো আজ ?
--চারিদিকে নারকী সমাজ ,
কবে এই বিপন্ন বিদিশার অমানিশা টুটবে ?
শান্তির নিরাপদ জীবনের ফুল কবে ফুটবে ?
আমি বড়ো ভালবাসি
শুশনি আর কলমির শাকে-ভরা পুকুরের ঢল ,
হাঁটু জলে শাক-তোলা মুচি-বৌ---কালো রঙ এলো কুন্তল ,
নিমগাছে হলুদ পাখিটি
সবুজ রেখায় দিগন্তে নীলিমার চিঠি ,
আর রোদে-গলা নিঝুম দুপুরে বটতলায়-বসা জয়নালের বাঁশি ।
আজ আমি তাই
দুঃসাহসী মনে এক মহাদেশ খুঁড়ি ---
আলোর মুক্তার খোঁজে আঁধারের সমুদ্রে ডুবুরী ,
চারিপাশ বড়ো ভয়ানক--
এমন জীবন বড়ো বিপজ্জনক ,
বড়ো আর্ত , বড়ো অসহায় ।
একটু আলো চাই ,একটু আলো চাই
হে সূর্য , একটু আলো চাই ।।
লকডাউন - প্রদীপ ঘোষ
ছাদে আমি একা ... একাকী
আকাশের দিকে তাকিয়ে...
ওই দূরে... এক ফালি চাঁদ,
কোটি কোটি আলোকবর্ষ দূরে...
নক্ষত্রগুলি মিটমিট করছে।
একটি তারা এখনও জ্বলজ্বল করছে।
চারিদিক নিঃস্তব্ধ...
যে রাস্তাতে অবিরাম যাতায়াত
তা নিঃশব্দে কিছু বলছে,
ওই দূরে হারিয়ে গেছে একাকী...
পড়ে থাকা পাতায় ভরে গেছে।
পৃথিবী যেন গভীর ধ্যানে মগ্ন,
হয়তো বা কোন গভীর অসুখ...
একটি কাল প্যাঁচা মাঝে মাঝে ডেকে ওঠে।
সন্ধ্যা বেলা বেটুর মা কবিতাকে বললো-
'কাল থেকে কয়েক দিন আসতে হবে না।'
শুনে মুখখানা করুণ হয়ে গেল।
কয়েকদিন থেকে মালিকের বাড়িতে শুনছিল..
দেশে করোনা নামে এক ভাইরাস এসেছে।
হাঁচি, কাশি, ছোয়াছুয়িতে ছড়িয়ে পড়ছে।
তাই হয়তো...
কবিতা আমাদের বাড়িতে কাজ করে
শহরের এক কোণে বস্তিতে থাকে,
একটি ছয় মাস ও একটি তিন বছরের মেয়ে।
ওর মরদ রিক্সা চালায়।
যা হয় তা মদ খেয়ে জুয়াতে ওড়ায়।
সকালে দেওয়া একখানা রুটি গোগ্রাসে গিলে
আর মুড়ি আঁচলে বেঁধে বাড়ি।
তারপর- অমাবস্যা আসে
লকডাউন ২১ দিন...৪১দিন..জারি ১৪৪ধারা।
রেশন দোকানে আর চাল-ডাল নেই,
বাজারে চাল পাওয়া যাচ্ছে না,
পুলিশের চোখ এড়িয়ে দত্তবাবুর গোডাউন থেকে চড়াদামে পাঁচকেজি চাল পেলাম কয়েকদিন পরে হয়তো সেটাও মিলবেনা।
যেন শুনতে পেলাম কবিতা বলছে -
'এক মুঠো চাল দাও বাবু, একমুঠো চাল...'
আক্রান্তের সংখ্যা হু হু করে বাড়ছে,
পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণের বাইরে।
পূর্ণিমার চাঁদ যেন ক্ষয় রোগে আক্রান্ত!
বাড়িগুলো সব চুপ!
মাঝে মাঝে দূর... থেকে কান্নার আওয়াজ
হৃৎপিন্ডের শিরা উপশিরা গুলোকে
আরো দুর্বল করে দেয়
নিংড়ে নেয় আমার ফুসফুসটা।
রাত্তিরে কুকুরগুলো আর ঘেউ ঘেউ করেনা।
চারিদিক যেন শূন্যতায় ভরা,
শুধু ঝিঁঝিঁ পোকার শব্দ কানে বাজে।
কবিতার করুণ সুর আর শোনা যায় না
কবিতা আর বলেনা, কবিতারা বলেনা-
'এক মুঠো চাল দাও বাবু, এক মুঠো চাল।'
নতুন করে বাঁচা যায় - সৌভিক দাস
আমরা দিন দিন কিরকম একটা পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছি,
যেখানে আমরা ভেবেছিলাম একমুঠো স্বপ্নের বিশ্বাস আটকে রেখে ভালোবাসা উজাড় করে দেবো,
ঠিক সেখানেই আমরা হোঁচট খেয়ে আমরা ডুবে যায় ভরা সমুদ্রে মাঝখানে,
যেখানে না আছে কোনো পথ বেরিয়ে আসার আর না আছে কোনো ভেসে থাকা উপকরন,
শুধু যেটা বেঁচে থাকে তা আসার আলো।
অনেক নাবিক যারা পার হওয়ার..তারা পার হয়ে যায় গন্তব্য স্থলে,
আর কেউ কেউ বা আটকে থেকে যায় সেই আসার আলো কে খুঁজবে বলে..!
পৃথিবী সুন্দর থাকার সত্বেও মানুষের নিশ্বাস আজও আটকে রেখে দেই সেই কৌল বালিশের বিছানাতেই ,
তবে ...আঁকরে ধরে বাঁচতে চাই মানুষের ভালোলাগার গল্প নিয়ে,
মানুষ ফিরতে চাই না তার মন খারাপের রাত নিয়ে,
যা শুধু চাই দুমুঠো পরন্ত বিকেলের নিষ্ঠার নিয়ম কাছে পেতে।
কিন্তূ কলিযুগের বসন্তের নিয়ম... তারা আজ ভঙ্গের খাতাই নাম লিখিয়েছে জোৎস্নার আলো না কাছে পেতে,
তারা চাই নি জোনাকি পরিবেশ নিজের গায়ে রাখবে বলে,
তারা শুনতে চাই নি মেঘ পিয়ানোর সুরে ভেসে বাঁচবে বলে ,
তাই কত কত মন আজও রাস্তাই ঘুরে বেড়াই...
কাঁদতে কাঁদতে মন কান্না ভাঙাই..!
হাঁসতে হাঁসতে মন হাঁসা বারাই..!
.........শেষে নতুন করে বাঁচা যায়।।
গেঞ্জি / সোমনাথ বেনিয়া
- সেই একই গেঞ্জি! বলছি, এবার এটা ফেলে দাও। চারিদিকে ছিঁড়ে-ছিঁড়ে এটার কিছু আছে! শরীরের ঘামের সঙ্গে লেপটে গিয়ে ন্যাতা হয়ে গেছে।
- হ্যাঁ, এই ভাবছিলাম এবার একটা কিনবো। আসলে সময় পাচ্ছি না।
- ফের মিথ্যা কথা। বাজারের মধ্যে থেকে ব্যাবসা করছো আর ওই আশেপাশের দোকান থেকে একটা গেঞ্জি কিনে আনতে পারছো না। ঠিক আছে তোমায় যেতে হবে না। সাইজ বলো?
- সাইজ!
- হ্যাঁ, সাইজ। আমি কিনে আনছি। কোনো কথা বলবে না।
তারপর কিছুটা দূরে একটি হোসিয়ারি দোকানে গিয়ে, বলে দেওয়া সাইজের একটি গেঞ্জি কিনে তাকে দিলাম।
- নাও! ওটা খোলো, এটি পরো।
- এখন। না-হয় স্নান করে পরবো খন।
- এমনি এই প্রখর রোদে তেতে পুড়ে ঘেমে-নেয়ে স্নান করেই আছো। গায়েরটি দিয়ে ভালো করে মুছে এটা পরে নাও।
তিনি তাই করলেন। তার স্মিত হাসির মুখ দেখে মনে প্রশ্ন জাগলো যে কীভাবে রক্ত-মাংসের শরীর নিয়ে এই প্রখর রোদে নির্বিকার ভাবে প্রতিদিন দাঁড়িয়ে থাকে সংসারে ছাতা হয়ে ...
রবিবার, ৫ এপ্রিল, ২০২০
কবিতা , উড়োচিঠি - সুপর্না দাঁ
উড়োচিঠি
সুপর্না দাঁ
আজ যাকে নিয়ে চিঠি লিখতে বসা তার নাম মেহগিনি।
আমি যখন ক্লাস সিক্স বাবা তাকে পঞ্চায়েতের বৃক্ষরোপন অনুষ্ঠান থেকে নিয়ে এসেছিল।
প্রিয় মেহগিনি,
মনে পড়ে আমার কথা ।
বাবা যখন তোকে প্রথম নিয়ে এসেছিল,
আমাদের বাগানটার মধ্যমণি হয়ে উঠেছিলিস তুই।
সেদিন বাবার সাথে আমিও হাতে হাত লাগিয়ে ছিলাম ,
রোজ তোকে দুবার দেখে আসতাম,কথা বলতাম কত্ত,
প্রথম প্রথম তো কিছুই বলতিস না
বড্ড লাজুক ছিলিস কি না।
তারপর আমাদের মধ্যে জমে উঠেছিল বন্ধুতা
কথার পর কথা যেন, শেষই হতো না।
সকালে ঘুম থেকে উঠেই, তোকে দেখে আসতাম আর কথা দিয়ে যেতাম বিকেলে কথা হবে,
সারাদিনের ব্যস্ততা টিউশন ,স্কুল আবার টিউশন ছটফট করতাম কখন এসে তোকে পুরো দিনের গল্প শোনাবো,
আর অপেক্ষায় থাকতাম তোর কাছ থেকে
পাশের ডোবায় ফুটে ওঠা শালুক গুলোর কথা, রাজহাঁসের কথা শুনবো বলে...
মনে পড়ে,
ভোরের বেলা প্রথম সূর্যকিরণ যখন ওই শালুক গুলোর উপর পড়তো ,মনে হতো ,যেন ছোট্ট মিষ্টি মেয়েটি প্রথম আলোর ছোঁয়া পেয়ে স্বাগত জানাচ্ছে ভোরের পৃথিবীটাকে।
আর ডোবায় যে মাছটার নাম রেখেছিলাম ঘ্যাচাং
সারাদিন সে কটা ফড়িং খেলো?
আজ রাজহাঁস গুলো এসেছিল?
মা রাজহাঁসটার আগের দিন বড্ড শরীর খারাপ ছিল ,আজ ঠিক আছে সে?
কত্ত কত্ত কথা.... কত প্রশ্ন
তুই আদর মাখা সুরে ,তোর ডালপালাগুলো দুলিয়ে কি সুন্দর করে উত্তর দিয়ে দিতিস আমার সমস্ত প্রশ্নের।
মনে পড়ে ,
তোর সেসব কথা
কত নিস্তব্ধ ডাহুক ডাকা দুপুরে
তোর আর আমার কথোপকথন।
তোকে এখন দূর থেকে দেখি
তোর আর আমার মধ্যে এখন একটা কংক্রিটের দেওয়াল,
চাইলেও আর তোর গা ধরে দোল খেতে পারিনা,
তোর গা ঘেঁষে দাঁড়াতে পারি না।
তুই এখন অনেক বড় হয়ে গেছিস
দেওয়ালের ঘেরাটোপ আটকে রাখতে পারিনি তোকে ,
তুই এখনো শালুক গুলো দেখতে পাস
দেখতে পাস রাজহাঁস গুলোর আসা-যাওয়া
আমি আর পাই না।।
আমিও এখন বড় হয়ে গেছি
তোর আর আমার বড় হওয়ার মধ্যে তফাৎ শুধু একটাই,
তুই বড় হয়ে দেওয়ালের ঘেরাটোপের বাইরে আর আমার পার্শ্ববর্তী দেওয়াল গুলো এখন আরো বেশি কংক্রিটময়।
জানিস মেহগিনি,
আমার বড্ড ইচ্ছে করে
দেওয়াল গুলোকে টপকে
মাথার উপর দস্যি মেয়ের খেতাব টা
মুকুট হয়ে জ্বলজ্বল করে জ্বলে উঠুক ।
জানিস মেহগিনি,
অনেকদিন হয়ে গেল
আমি আমার ছাদের প্রিয় কোনে এসে দাঁড়ায় না,
বহুদিন সূর্যাস্তের লাল আকাশটার দিকে তাকায় না,
ছাদ থেকে যে দূরের পাহাড়টাকে দেখা যায়
তাকে বলা হয় নি ...."ভালো আছো পাহাড়"
আজ এটুকুই থাক
আবার আসবো
কোনো এক পড়ন্ত বিকেলে
লাল আকাশটাকে দেখতে,
পাহাড় কে দেখে মিষ্টি একটা হাসি সে বলবো... ভালো আছো?
আবার আসবো
কোনো এক পড়ন্ত বিকেলে
আমার প্রিয় ছাদটার একটা কোনায় দাঁড়িয়ে তোকে চিঠি লিখতে।
ভালো থাকিস মেহগিনি।।
ইতি
তোর ছোট্টবেলার সই
এতে সদস্যতা:
পোস্টগুলি (Atom)
বেশিবার পড়া
-
নাকের বদলে নরুন পেয়েই বিরতি নিয়েছিল রাজ্যের প্রাথমিক শিক্ষকদের আন্দোলন কিন্তু সেই নরুন ও পর্যবাসিত হল আলপিনে । টানা চোদ্দদিনের অনশনের পর ...
-
কেন জানি না , সে দিনটা আমার খুব মনে পড়ে , তখন আমরা মিডিল স্কুলের ছাত্র । বিদ্যালয় গিয়ে শুনলাম আমাদের দুইটি ক্লাস উচ্চ বিদ্যালয়ে যুক্ত হ...



















