পৃষ্ঠাসমূহ

রবিবার, ২৪ নভেম্বর, ২০১৯

স্মৃতির কোঠায় রাঘবানন্দ পর্ব - ৪

 

কথক শ্রী অলোক লায়েক

অনু লিখন :- প্রদ্যোত আশ

দেখ সাধু বাবার বিষয়ে সে ভাবে কিছু জানি না , যে টুকু শুনেছি বাবার মুখথেকে বাবা ওনার সহযোগী ছিলেন ওনার সাথে এখানে ওখানে যেতেন । সাধুবাবা কোন ভুজুং ভাজুং সন্ন্যাসী ছিলেন না । কোন ধরণের লোভ মোহ কিছু ছিলনা সর্ব খল্লিদং ব্রহ্ম এই তত্ত্ব মনে প্রাণে বিশ্বাস করতেন মানুষ , কুকুর , হাঁস, মুরগী সব কিছুকেই ভগবান সম্বোধন করতেন । উনি ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংস দেবের দ্বারা প্রবাভবিত ছিলেন হরিমন্দিরে ঠাকুর এবং মা সারদাদেবীর ছবি আছে ওনার রাখা পুরানো ছবিগুলি আমাদের ঘরে আছে ।  গায়ে ভষ্ম মাখতেন আর কৌপিন পরতেন একবার বাবা আর সাধুবাবা শীতকালের দিনে ট্রেনে কোথাও যাচ্ছিলেন তো বাবা ওনাকে একটা ভালো রেপ্যার দিয়েছিলেন উনি গায়ে ও দিয়েছিলেন তারপর একটা ভিখারিকে উনি ওটা দান করে দিলেন , বাবা যখন সাধু বাবাকে বললেন " আপনি চাদরটা দিয়েদিলেন ?" উত্তরে সাধু বাবা বলেছিলেন " আমার চেয়ে ওর ওটা বেশি দরকার " । আমাদের এখানের জয়সিয়ারাম স্কুল যেমন ওনার করা তেমনি উনি হাসপাতাল স্থাপন করতে চেয়েছিলেন - আরো কিছুদিন থাকলে হয়ত করেও যেতেন ।

শনিবার, ২৩ নভেম্বর, ২০১৯

ঝালদা ১নং চক্রের ক্রীড়া প্রতিযোগিতা


২৩শে নভেম্বর ২০১৯ অনুষ্ঠিত হল ঝালদা ১নং চক্রের ৩৭তম বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা । অনুষ্ঠাণে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট ক্রীড়া ব্যাক্তিত্ব সন্দিপ দাস , বাঘমুণ্ডি বিধানসভার বিধায়ক নেপাল মাহাত , জেলা প্রকল্প আধিকারিক বিকাশ মজুমদার , জেলা পরিষদ সদস্য রাজীব সাহু , ঝালদা মহকুমার মহকুমা শাষক সুশান্ত কুমার ভক্ত ,  ঝালদা ১নং  পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি বীণা মাহাতো , ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ দেবাশীষ মণ্ডল সহ এলাকার বিশিষ্ট জনেরা ।





অনুষ্ঠাণের সূচনাপর্বে বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র - ছাত্রীরা ড্রাম বাজিয়ে মাঠ প্রদক্ষিণ করে । এবারের ক্রীড়া প্রতিযোগীতাতে ঈশ্বর চন্দ্র বিদ্যাসাগর , মহাত্মা গান্ধী , মাতঙ্গিনী হাজরা বিশেষ ভাবে স্মরণকরে মানব স্ট্যাচুর প্রদর্শনী করা হয় । অনুষ্ঠাণটি সম্পূর্ণ ভাবে সরকারি অনুদানের উপর ভিত্তি করে সম্পন্ন করা হয় ।

সোমবার, ১৮ নভেম্বর, ২০১৯

রাঢ়ুয়ার আত্মপ্রকাশ


১৭ই নভেম্বর ২০১৯ রবিবার  পুরুলিয়া জেলার ঝালদা মহকুমা শহরের  ৮ নং ওয়ার্ডের কমিউনিটি হলে । আত্মপ্রকাশ ঘটল "রাঢ়ুয়া" ত্রৈভাষিক পত্রিকা । আত্মপ্রকাশ লগ্নে উপস্থিত ছিলেন এলাকার রাজনৈতিক , প্রশাষণিক এবং সাহিত্যানুরাগী বিশিষ্টজনেরা । সম্পাদক রাহুল কর্মকার ও সহসম্পাদক যতীন মাহাতোর তত্ত্বাবধানে একই মলাটে বাংলা , কুড়মালি ও হিন্দিভাষার সাহিত্য সম্ভার হয়ে উঠেছে এই পত্রিকা । পত্রিকার শুরুতেই রয়েছে আনরোমান্টিক ছদ্দনামধারী গল্পকারের গল্প মহামারী যা পাঠক কে নিশ্চিত ভাবেই ভাবিয়ে তুলবে এছাড়াও সনৎ চন্দ্র মাহাতোর গল্প অভিমানের রঙে ফুটে উঠেছে রাঢ়ুয়া কন্যাশ্রীর জীবনের সাদাকালো ছবি । কবিতার মধ্যে মলয় কান্তি চৌধুরী , কৌশিকী গোস্বামী , জয়জিৎ রীত , ইরফান হাবিব প্রমুখের কবিতা পাঠকের নিভৃতমনকে স্পর্শ করবে । প্রতিটি কুড়মালি কবিতা প্রশংসার দাবী রাখে । পাঠককূল কে সমৃদ্ধ করবে এর প্রতিটি প্রবন্ধ । এছাড়াও অঞ্জু কর্মকার , তরুণ রাজ প্রভৃতির কবিতা হিন্দি ভাষি পাঠকের ভালো লাগবে তা বলার অপেক্ষা রাখেনা ।

রবিবার, ১৭ নভেম্বর, ২০১৯

স্মৃতি কোঠায় রাঘবানন্দ পর্ব - ৩


( এই পর্বের কথক শ্রী কালিপদ মাহাত , প্রাক্তন শিক্ষক - তুলিন প্রাথমিক বিদ্যালয় । বুড়িবীর টাঁড় তুলিন )

সাধুবাবার জীবনের ঘটনা বিশেষ আর কি বলব , কেউ বলেন উনি গোলার দিক থেকে এসেছিলেন আবার কেউ বলেন ওড়িষ্যা থেকে । আমরা তখন খুবেই ছোটো উনি কাউ কেই নাম ধরে ডাকতেন না সবাই কেই " বাচ্চো ভগবান " বলতেন । এই হরি মন্দির বানানোর সময় , জয় সিয়া রাম স্কুল বানানোর সময় আমরা মাথায় করে ইট বয়েচি । এখন হরিমন্দিরের ডানদিকে যেখানে সাধুবাবার মন্দির রয়েচে ওখানে উনি ধুনি জ্বালাতেন ওই ভষ্ম মাখতেন পরনে শুধু কৌপিন আর জয় সিয়ারাম জয় সিয়ারাম বলে তুলিন পরিক্রমা করতেন । ওই পোশাকে উনি রায়টার্স বিল্ডিং এ তৎকালিন মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ বিধান চন্দ্র রায়ের কাছ থেকে  জয় সিয়ারাম স্কুলের এফিলিয়েশন নিয়ে এসেছিলেন । এখানে উনি বিশাল নবকুঞ্জ করেছিলেন তাঁর আগে গোলাতেও উনি নবকুঞ্জ করেছিলেন । প্রথম দিকে উনি শুধুমাত্র নিমপাতা খেতেন পরে এখানে লোকে পোকোড়ি টোকোড়ি দিলে খেতেন । 

রবিবার, ১০ নভেম্বর, ২০১৯

স্মৃতির কোঠায় রাঘবানন্দ - পর্ব ২

 স্মৃতির কোঠায় রাঘবানন্দ


মুখের কথা লেখার ভাষায় - প্রদ্যোত আশ 


( ঘটনা গুলির কথক শ্রী সুবোধ দে , তুলিন উপর পাড়া )


০৬/০৬/১৯
স্মৃতি -১
সাধু বাবা প্রতিদিন ই  দু বার করে আমাদের ঘরে আসতেন , দাদুকে নিয়ে বেরোতেন । সকাল থেকে ভাইয়ের শরীরটা খারাপ , দাদু বললেন কিষ্ট ডাক্তারকে খবর দাও । কিষ্ট ডাক্তার আমাদের পারিবারিক চিকিৎসক , ডাকলে বাড়ি আসতেন । সবেমাত্র সাইকেলের প্যাটেলে পা দিয়েছি কানে এল " জয় সিয়ারাম , জয় সিয়ারাম " ধ্বনি  ।
- আরে বাচ্চো ভগবান  কাহা জানা হে
- বাবা শক্তিকা বুখার হে তো ডক্টরকো বুলানে যা রেহি হু
- আরে শক্তি ভগবান কা বুখার হে , কাঁহা হে শক্তি ভগবান
বলতে বলতে উনি ঘর ডুকেগেলেন , পেছনে আমি । সোজা গিয়ে উপস্থিত হলেন যেখানে শক্তি শুয়ে ছিল ।
চেয়ার এগিয়ে দিলাম , উনি শক্তির কপাল ছুলেন
- শক্তি ভগবান রাম রাম বোলো
ওর মাথায় একটু ভষ্ম মাখিয়ে দিলেন - যে ছেলেটা জ্বরে কাতরাচ্ছিল সে আবার খেলতে স্টাট । সাধু বাবা চলেগেলেন । আমার মনে সন্দেহ জাগলো উনি কি শক্তির জ্বরটা টানেলিলেন তাহলে উনার কি হল , কিছুক্ষণ পরে বাবার ডেরাতে গিয়ে হাজির হলাম দেখলাম উনি কাঁপছেন জ্বরে গায়ে কম্বল চাপা দিয়ে
- বাবা আপকা কিয়া হুয়া
- আরে বাচ্চো ভগবান , বুখার ভগবান আ গেয়া , যাও বাচ্চো ভগবান পানি ভগবান লে আও
কুয়ার থেকে বাবার জন্যে জল নিয়ে এলাম । বাবা কম্বল ফেলে দিয়ে স্নান করলেন পুরা ফিট ।

স্মৃতি - ২

তুলিনে নবকুঞ্জ বসেছে । সাধুবাবার ইচ্ছা বৃন্দাবনে মতো নবকুঞ্জ করার । তো এরকম নবকুঞ্জ কেও কোথাও দেখে নাই । এতো লোক আমাদের ঘরথেকে মন্দির যাতে সময় লাগত একঘন্টা ( দূরত্ব দুশো মিটার ) । আমি তখন ভলেন্টিয়ার ব্যাচ ম্যাচ লাগায় নিয়ে যাথি । ঘর ডুকতে হত বারান্দার লোক সরাই নিয়ে বহু দূর গ্রামের লোক এসেছিল হরিবোল শুনতে ।
এই নবকুঞ্জের তৃতীয়দিনে আমার যারা ভলেন্টিয়ার দেখলাম ভাঁড়ার পুরা ফাঁকা । তো আমরা বললি সাধু বাবাকে তো বলতে হবেক নবকুঞ্জ এখানেই থামায় দিতে এখনো ছ দিন বাকি । আমরা গেলি সাধু বাবার কাছে
- ক্যায়া হুয়া বাচ্চো ভগবান
- বাবা হরিবোল তো সমাপ্ত করনা পড়েগা , ভাঁড়ার মে তো কুছ ভি নেহি হে
-  ক্যায়া বোলা বাচ্চো ভগবান , প্যায়সা কে লিয়ে ভগবান কা নাম গান বন্দ হো জায়েগা , রামনাম বন্দ হো জায়েগা কভি নেহি
- তো কিয়া করেঙ্গে বাবা
- বাচ্চো ভগবান তুম লোক মত সোচো সামসে পয়সা আ জায়েগা
তুমি বিশ্বাস করবে নাই , সন্ধ্যা বেলা থেকে মন্দিরে এতো পয়সা যে পড়তে লাগলো ! আমাদিকে পয়সা গুলা বস্তায় ভরে নিয়ে থাক করে রাখতে হয়ে ছিল ।

 স্মৃতি - ৩

উনি বাক্ সিদ্ধ মহাপুরুষ ছিলেন , আর একটা ঘটনা বলি । তুলিনে একদম বৃষ্টি নাই সব মাঠ ফুটি ফাটা । সবলোক সাধুবার কাছে নিদান চায়তে গেল
- ক্যায়া হুয়া ভগবান
- বাবা একদম পানি নেহি হো রাহা হ্যে
- ও তো পানি ভগবান কো লানা হোগা , হো জায়েগা
উনি সোজ চলে গেলেন বানসা পাহাড়ের দিকে ওখানে জপ ধ্যান করলেন । তারপরেই কথলে যে মেঘ আইল পুরা দক্ষিণ পশ্চিম আকাশটা কালো করে তুলিনে লে জল আর লে জল ।
আর উনি সবাই কেই ভগবান বলে ডাকতেন এমন কি কুকুর কে ও ভগবান বলতেন ।
শ্রী সুবোধ দে
তুলিন উপরপাড়া

শনিবার, ৯ নভেম্বর, ২০১৯

বিতর্কিত জমিতে তৈরি হবে রাম মন্দির এবং মসজিদ ও হবে অযোধ্যারই অন্যত্র


অবশেষে এল শতাব্দী প্রাচীন আইনি লড়ায়ের ফলাফল । অযোধ্যায়  বিতর্কিত জমিতে রাম মন্দির হবে - সাফ জানিয়ে দিল সুপ্রিম কোর্ট।
প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ এর নেতৃত্বে সুপ্রিম কোর্টের পাঁচ বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চের উপরে নির্ভর করেছিল অযোধ্যা মামলার রায়। স্থির হয়েছিল যে পাঁচ সদস্যের সর্বসম্মতির ভিত্তিতে দেওয়া হবে রায়। একজনের মত বিরুদ্ধে গেলে রায় দান হবে না। সেই সর্বস্মমত রায় প্রকাশ্যে এসেছে।
যাবতীয় তথ্য এবং বিশেষ করে A.S.I এর  রিপোর্টের উপরে ভিত্তি করে সুপ্রিম কোর্ট জানিয়ে দিয়েছে যে অযোধ্যার বিতর্কিত জমিতেই হবে মন্দির। কোনোভাবেই ওই জমি ভাগ করা হবে না।
এই মন্দির নির্মাণের জন্য কেন্দ্রীয় সরকারকে গঠন করতে হবে বিশেষ ট্রাস্ট । আগামী তিন মাসের মধ্যে সেই ট্রাস্টকে  মন্দির নির্মাণের রূপরেখা তৈরি করতে হবে।  অন্য দিকে সুন্নি ওয়াকফ কমিটিকে মসজিদ নির্মাণের জন্য দিতে হবে পাঁচ একর জমি । এবং তা দিতে হবে অযোধ্যারই প্রাইম লোকেশনে । সেখানে তৈরি হবে সুরম্য মসজিদ ।

বৃহস্পতিবার, ৭ নভেম্বর, ২০১৯

গ্রেপ্তার প্রাথমিক শিক্ষক আন্দোলনের অন্যতম মুখ পৃথা বিশ্বাস

নাকের বদলে নরুন পেয়েই বিরতি নিয়েছিল রাজ্যের প্রাথমিক শিক্ষকদের আন্দোলন কিন্তু সেই নরুন ও পর্যবাসিত হল আলপিনে । টানা চোদ্দদিনের অনশনের পর গত ২৬/০৭/১৯ রাজ্য সরকারের নির্দেশিকা জারি হয় । যাতে রাজ্য সরকারি প্রাথমিক শিক্ষকদের বেতন PB3 তে উন্নীত করা হয় কিন্তু কার্যক্ষেত্রে দেখা যায় সিনিয়ার টিচারদের বেতনবৃদ্ধি হচ্ছে নামমাত্র কারো ১৬০০ তো কারো ২৪০০ কোথাও কোন সঠিক ফিটমেন্টের বালাই নেয় । এরই প্রতিবাদে গতকাল ০৬/১১/১৯ যাদবপুরে একটি মিছিল সংগঠিত হয় এবং শুরু হয় অবস্থান ।  শিক্ষামন্ত্রীর সাথে বৈঠক করেন প্রাথমিক শিক্ষক সংগঠণের নেতৃত্বের কিন্তু সেই বৈঠক ফলপ্রসু না হওয়াতে আন্দোলনে অনড় থাকেন শিক্ষকেরা , সেখানে শুরু হয় প্রশাষণিক হুমকি এবং ক্ষমতাশীলদলের ছত্রছায়াতে পালিত দাদাগিরি । পরে রাত্রে শতাধিক শিক্ষককে গ্রপ্তার করে পুলিশ পরে আজ সকালে লালবাজার কিছু জন কে ছেড়ে দেয় এই সময়ই যাদবপুর থানাতে গ্রেপ্তার হওয়া শিক্ষকদের ছেড়েদেওয়ার নাম করে ডেকে পাঠানো হয় উস্থির সম্পাদিকা রাজ্যের প্রাথমিক শিক্ষক আন্দোলনের অন্যতমমুখ পৃথা বিশ্বাস কে এবং সেখান থেকে গ্রেপ্তার করা হয় তাকে ।


ছবিটি :- ফেসবুক থেকে সংগৃহিত

রবিবার, ৩ নভেম্বর, ২০১৯

স্মৃতির কোঠায় রাঘবানন্দ , পর্ব -১ , - ডাঃ শংকর চন্দ্র আশ



কেন জানি না , সে দিনটা আমার খুব মনে পড়ে , তখন আমরা মিডিল স্কুলের ছাত্র । বিদ্যালয় গিয়ে শুনলাম আমাদের দুইটি ক্লাস উচ্চ বিদ্যালয়ে যুক্ত হয়েছে । উচ্চ বিদ্যালয় আগে তুলিনে ছিলনা , সাধু বাবা এসে এই বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন । পশ্চিমবঙ্গ সরকারের নতুন পাঠক্রম অনুযায়ী ৫ম থেকে ১১শ শ্রেণী নিয়ে হায়ার সেকেণ্ডারি পাঠক্রম শুরু হয় । তাই আমরা দুইটি ক্লাসের পড়ুয়া ও তিনজন শিক্ষক এবং একজন করনিক সহ হেঁটে হেঁটে উচ্চ বিদ্যালয়ে যাই সঙ্গে ডেক্স বেঞ্চ টেবিল চেয়ার । মনে হয় " আজ কি আনন্দ আকাশে বাতাসে / শাখে শাখে পাখী ডাকে / কত শোভা চারিপাশে / আজকে মোদের বড়ই খুশির দিন / ঘরের বাঁধন ছেড়ে মোরা হয়েছি স্বাধীন " হাঁটতে হাঁটতে আমরা সবাই পৌঁছে যাই লালমাটির ধূ ধূ প্রান্তরের মাঝে শান্ত পরিবেশের স্কুলে  " এলেম নতুন দেশে " জয় সিয়া রাম হায়ার সেকেণ্ডারি স্কুল পাগল বাবা রাঘবানন্দের যেন তপভূমি ।
চার কক্ষ বিশিষ্ট একটি পাকা বাড়িতে ৭ম , ৮ম ,৯ম ও ১০ম শ্রেণী পড়ানো হোত । অপরদিকে চালাঘরে কয়েকটি শ্রেণীকক্ষ সহ বোডিং । একটি চালাঘরের কক্ষ নির্দিষ্ট হয় আমাদের শ্রেণীর জন্য , অনেক শিক্ষক মশাই এখানে শিক্ষা প্রদান করেন , বিভিন্নজন বিভিন্ন বিষয়ে - সেইদিন টিফিনের সময় একজন সহপাঠী বলে উঠল " এই দ্যাখ সাধুবাবা আসছে " গারদ বিহীন গবাক্ষের ভিতর দিয়ে বাইরে দৃষ্টি নিক্ষেপ করি । দূর হতে আলোকিত হন সেই মহামানব " ঐ মহা মানব আসে / দিকে দিকে রোমাঞ্চ লাগে ............... । " শুশ্রূ গুম্ফ মণ্ডিত বিভূতি বিভূষিত মস্তোকপরি জটা লালকাপড়ের ফিতে দিয়ে চুড়ো করে বাঁধা , লাল কৌপিন , কাঁধে লাল কাপড় দিয়ে তৈরী ঝোলা , পায়ে খড়ম , কোন শিব সহচর যেন শিবলোক থেকে অবতরন করেছেন । তিনি স্কুলের মধ্যে আসেন ।
শিক্ষক মশাই শ্রেণীকক্ষে প্রবেশ করেন আমাদের পঠন - পাঠন শুরু হয়ে যায় ‌। সাধুবাবার সান্নিধ্য পাবার জন্য কেমন যেন মনছটপট করে উঠে । পরে অনেকবার তাঁর সান্নিধ্য লাভ করেছি । তিনি বিদ্যালয়ে এলে সবাই তাকে প্রণাম নিবেদন করেছি । তখন তিনি বিদ্যালয়ে রাত্রীযাপন করতেন । প্রভাতকালীন পঠন - পাঠনে তাকে দেখেছি স্নানান্তে সারা অঙ্গ বিভূতি বিভূষিত হতেন স্বহস্তে । তারপর তিনি কয়েকটি নিমপাতা খেতেন তাছাড়া তিনি অন্য কোন খাবার খেতেন না , কেউ মিষ্টান্ন দিলে উপস্থিত সকলের মধ্যে বিতরণ করে যৎ সামান্য গ্রহণ করতেন । পকুড়ি দিলে খেতেন । জয় সিয়া রাম স্কুলে সরস্বতী পুজোর পর বিসর্জনের দিন শোভাযাত্রাকরে প্রতিমা মুরী পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া হয়েছিল । ফেরার পথে আমি বাড়িতে প্রবেশ করি , পরে বাইরে গিয়ে দেখি সাধু বাবা প্রত্যাবর্তনকারী সবাইকে আমাদের বাড়ির সামনে বদি ময়রার দোকানথেকে থালাভর্তি পকুড়ি বিতরণ করছেন । আমি আবার ছুটে গিয়ে সেই দলে যোগ দিই , সাধু বাবা আমার হাতে পকুড়ি দেওয়াকালীন জিজ্ঞাসা করেন - তুম মুরী গেয়াথা ? ভক্তি যেন আমার উথলে ওঠে বলি - হ্যা বাবা গয়াথা । সেই থেকেই হয়ত পকুড়ির প্রতি আমার স্পৃহা তৈরি হয়ে আছে ।
তারকাছে সবই ছিল ভগবাণের রূপ । তাই তিনি সব কথাতেই ভগবাণের কথা উল্লেখ করতেন , বাচ্চো ভগবাণ , মাষ্টার ভগবাণ , পরিচিত সকলের নামের সঙ্গে ভগবাণ শব্দটি যুক্তকরে ডাকতেন । সব কিছুতেই তিনি হয়ত ব্রহ্মকে উপলব্ধি করতে পারতেন । জগৎ কল্যাণের জন্য তিনি নিজেকে উৎসর্গ করেছিলেন । প্রথমে তিনি শ্রী শ্রীহরি মন্দির প্রতিষ্ঠা করেছিলেন । নিত্যপূজার ব্যাবস্থা করেছিলেন যা আজ ও হয়ে চলেছে । প্রতিবৎসর মন্দিরে নাম সংকীর্তনের আয়োজন করতেন যা এখনো আয়োজিত হয় । তিনি নয়টি কুঞ্জে একই সাথে নামসংকীর্তন করিয়েছিলেন । তাঁর সেই নির্দিষ্ট স্থানে নয়টি মন্দির নির্মিত হয়েছে । সেখানে বেশ কেয়েক বছর পরে পরে নবকুঞ্জ সংকীর্তন অনুষ্ঠিত হয় । যা অত্যন্ত ব্যায়বহুল । তাঁর জীবদ্দশায় তিনি একবার চোদ্দ মাদল ও একবার নবকুঞ্জ করিয়ে গেছেন । শৈশবে দেখেছি তিনি অনুচরবর্গ সমবিব্যাহারে বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে হরিনাম সংকীর্তনের চাঁদা সংগ্রহ করতেন । দরজায় এলে মনে হতো " তেরে দোয়ার খাড়া ভাগবাণ /  ভকত ভরদেরে ঝোলি "  এইটি তাঁর প্রিয় গানছিল , তাছাড়া তাঁর প্রিয় গানছিল " পিঞ্জরে কে পানছি তেরা দর্দ না জানে কোই " - তিনি এলে সকলেই সাধ্য মত অর্থ তার অনুচরবর্গের হাতের থলিতে প্রদান করতেন সেই সময় দেখেছি নামে নামে রসিদ দেওয়া বা খাতায় লিখে রাখা হতো না ।
সেই বারেই প্রথমবার ঠাকুমার সঙ্গে ( অত্যন্ত শৈশবে আমি মাতৃহারা )  হরি মন্দির প্রাঙ্গনে গেছি । মহা সমারোহে নাম সংকীর্তন চলছে । সবাই ভক্তিভরে নামসংকীর্তন শুনে চলেছেন ---। দেখি সাধুবাবা একজন খোলবাদকের কাঁধ থেকে খোল নিয়ে বাজাতে শুরুকরলেন ।  জলদ গম্ভীর কন্ঠে খোলের বোল উচ্চারণ করে চলেছেন । নয়নাভিরাম এক অপার্থিব দৃশ্য । সমস্ত শ্রোতারা বিহ্বল দৃষ্টিতে তাকিয়ে , সবাই এক অনাবিল আনন্দে আত্মহারা , বৈকুণ্ঠ থেকে শ্রীহরি মাতা লক্ষীসহ যেন মন্দিরে বিরাজ করছেন , তাঁদের কেই যেন তিনি নৃত্য প্রদর্শন করছেন , নামের সঙ্গে মৃদঙ্গ ও মন্দিরার শব্দে আকাশ বাতাস মুখরিত । ভক্তরা নিজ নিজ ইষ্টের রূপকল্পনা করে চলে । কৃষ্ণভক্তরা রাসলীলার রাধাকৃষ্ণের নৃত্য দেখতে পান । শিব ভক্তরা দেখেন কৈলাস থেকে শিব নটরাজ হয়ে অন্তরীক্ষে নৃত্য শুরু করেছেন । আর যারা সব সময় বিষয় কর্মে আবদ্ধ , যারা ঘর ছেড়ে বাইরে যাবার সময় পান না , তারাও সেদিন ঘরের মধ্যে শুনতে পান ------
ঐ মহাসিন্ধুর ওপার থেকে
কী সঙ্গীত ভেসে আসে ..............
বলে আয়রে ছুটে আয়রে ত্বরা
হেথা নাইকো মৃত্যু , নাইকো জ্বরা

লেখক - ডাঃ শংকর চন্দ্র আশ
গ্রাম - তুলিন , জেলা - পুরুলিয়া
বয়স - ৭০ বছর


বেশিবার পড়া