পৃষ্ঠাসমূহ

মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২০

লকডাউন - প্রদীপ ঘোষ


ছাদে আমি একা ... একাকী
 আকাশের দিকে তাকিয়ে...
ওই দূরে... এক ফালি চাঁদ,
কোটি কোটি আলোকবর্ষ দূরে...
নক্ষত্রগুলি মিটমিট করছে।
একটি তারা এখনও জ্বলজ্বল করছে।
চারিদিক নিঃস্তব্ধ...
যে রাস্তাতে অবিরাম যাতায়াত
তা নিঃশব্দে কিছু বলছে,
ওই দূরে হারিয়ে গেছে একাকী...
পড়ে থাকা পাতায় ভরে গেছে।
পৃথিবী যেন গভীর ধ‍্যানে মগ্ন,
হয়তো বা কোন গভীর অসুখ...
একটি কাল প‍্যাঁচা মাঝে মাঝে ডেকে ওঠে।

সন্ধ‍্যা বেলা বেটুর মা কবিতাকে বললো-
'কাল থেকে কয়েক দিন আসতে হবে না।'
শুনে মুখখানা করুণ হয়ে গেল।
কয়েকদিন থেকে মালিকের বাড়িতে শুনছিল..
দেশে করোনা নামে এক ভাইরাস এসেছে।
হাঁচি, কাশি, ছোয়াছুয়িতে ছড়িয়ে পড়ছে।
তাই হয়তো...

কবিতা আমাদের বাড়িতে কাজ করে
শহরের এক কোণে বস্তিতে থাকে,
একটি ছয় মাস ও একটি তিন বছরের মেয়ে।
ওর মরদ রিক্সা চালায়।
যা হয় তা মদ খেয়ে জুয়াতে ওড়ায়।
সকালে দেওয়া একখানা রুটি গোগ্রাসে গিলে
আর মুড়ি আঁচলে বেঁধে বাড়ি।

তারপর- অমাবস‍্যা আসে
লকডাউন ২১ দিন...৪১দিন..জারি ১৪৪ধারা।

রেশন দোকানে আর চাল-ডাল নেই,
বাজারে চাল পাওয়া যাচ্ছে না,
পুলিশের চোখ এড়িয়ে দত্তবাবুর গোডাউন থেকে চড়াদামে পাঁচকেজি চাল পেলাম কয়েকদিন পরে হয়তো সেটাও মিলবেনা।
যেন শুনতে পেলাম কবিতা বলছে -
'এক মুঠো চাল দাও বাবু, একমুঠো চাল...'
 আক্রান্তের সংখ‍্যা হু হু করে বাড়ছে,
পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণের বাইরে।

পূর্ণিমার চাঁদ যেন ক্ষয় রোগে আক্রান্ত!
বাড়িগুলো সব চুপ!
মাঝে মাঝে দূর... থেকে কান্নার আওয়াজ
হৃৎপিন্ডের শিরা উপশিরা গুলোকে
আরো দুর্বল করে দেয়
নিংড়ে নেয় আমার ফুসফুসটা।
রাত্তিরে কুকুরগুলো আর ঘেউ ঘেউ করেনা।
চারিদিক যেন শূন‍্যতায় ভরা,
শুধু ঝিঁঝিঁ পোকার শব্দ কানে বাজে।
কবিতার করুণ সুর আর শোনা যায় না
কবিতা আর বলেনা, কবিতারা বলেনা-
'এক মুঠো চাল দাও বাবু, এক মুঠো চাল।' 

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

বেশিবার পড়া