পৃষ্ঠাসমূহ

মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২০

শামুক ভাঙা কেউটে - দিয়াস


আমি সিউরি বিদ্যাসাগর কলেজে দর্শনশাস্ত্রে অনার্স নিয়ে পড়ি।প্রতিদিন গ্রাম থেকে যাতায়ত করি। আমাদের গ্রাম থেকে
সাত কিমির মতো রাস্তা হেঁটে বাস ধরতে হয়। বাসে দেড় ঘন্টা সিউরি যেতে সময় লাগে।
আমাদের গ্রাম থেকে বের হয়ে দুই কিমি রাস্তা যাওয়ার পর আবার একটা গ্রাম পড়ে। যে সময়ের কথা বলছি সেই সময়ে পুরো পথটায় ছিল মেঠো আল পথ। এই পথের মাঝে তিন চারটে ছোট বড়ো পুকুর পড়তো। পুকুরের পাড় থেকে নেমে আবার আল পথ। 
এই রাস্তায় সবচেয়ে বড়ো পুকুরটার নাম ছিল বড়োবাঁদ। এই পুকুরটার দুই পাশের মাঠ গুলোতে একটি বিশেষ প্রজাতির সাপ আছে বলে শুনেছি। এই সাপগুলোকে ওখানে বলা হত শামুক ভাঙা কেউটে। এরা কারো অস্তিত্ব টের পেলেই আগে থেকে তাড়া করে গিয়ে ছোবল দিত। এই প্রজাতির সাপ যেমন বিষধর তেমনি হিংস্র।
বর্ষাকালে একদিন শেষ বিকালের দিকে খুব মুষলধারে বৃষ্টি হয়েছে  বাসস্ট্যান্ডে নামতে আমার সন্ধ্যা হয়ে গেল  তখনও
 আকাশে কালো মেঘ আছে। চারিদিক ঘুটঘুটে অন্ধকার। আমি তিন ভাগ রাস্তা পেরিয়ে বড়োবাদের আগের মাঠগুলোতে এসেছি। হঠাৎ করে আমার পা পিছলে গেল। এই সময় মাঠের মাটি আলে তুলে দেয়। তাতেই পা পিছলে এই বিপত্তি।
আমি যেই মাঠে পড়েছি,সাথে সাথেই মাঠের অন্যদিক থেকে জলে কিলবিল করে আওয়াজ। আমি বুঝতে পারলাম শামুক ভাঙা কেউটে আসছে। আমি তড়িমরি করে আলে উঠে এলাম। কিন্তু, আমার একপাটি হাওয়ায় চটি মাঠে গেঁথে রয়ে গেল। কাল সকালে বোঝা যাবে না কোন মাঠে হয়েছে। আবার চটি না পেলে ছমাসেও দ্বিতীয় চটি পাওয়া যাবে না। কলেজ যাওয়া বন্ধ হয়ে যাবে। তাই আমি মাঠের আলে কোনরকম নড়াচড়া না করে দাঁড়িয়ে  রইলাম। মনে মনে মা মনসার নাম জপ করছি। অপেক্ষা করছি কখন একটা জোরে বিদ্যুৎ চমকাবে। আমি দেখতে পাব মাঠের ঘোলা জল কোন খান থেকে আসছে। ঝপ করে নেমে সেখান থেকে চটি তুলে নিতে হবে।
কিছুক্ষণের মধ্যেই খুব জোর বিদ্যুতের ঝলকানি। আমি ঝপাস করে চটি তুলে নিয়ে আপাতত ভরতের মতো খরম মাথায় দিয়ে বাড়ির দিকে হাঁটা দিলাম।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

বেশিবার পড়া