একটু আলো চাই ,একটু আলো চাই
হে সূর্য ,একটু আলো চাই ।
ওই পোড়ো গোয়ালের পিছে
নিম আর নিশিন্দার নীচে
ভয়ের ছায়ারা ভূতের মতোই খেলা করে ।
পাতাঝরা শব্দের হাততালি বেজে উঠে থরে থরে ।
বুড়ো মা'র নিকানো উঠোনে
এঁটো পাত বাসনকোসনে
খুটখাট শব্দ তোলে ইঁদুর না ব্যাঙ ?
আওতার চারিপাশে ঠেকে শুধু চোর-চোর ঠ্যাং ।
ওই বাঁশবাগানের পারে
বোষ্টুমীর বিরিঞ্চির ধারে
ছায়া ছায়া হাই তোলে পরীর প্রতিমা ,
বুকে এসে ঢি ঢি করে ডানপিটে ডাইনীর ঢাঢ্ঢার উদোম দ্রাঘিমা ।
ঝুরিময় প্রাণের শিকড়ে
গোঙানির তীব্র শ্বাস পড়ে
হিংস্র হ'য়ে উঠে ঢা-ঢা বাতাসের ঘোষ ,
আদিম গুহায় ফোঁসে ক্ষিপ্ত কোনো প্রলুদ্ধ রাক্ষস ।
আর দ্যাখো :
চারিপাশে শ্বাপদের ফণা কতো ফুঁসছে ,
আমাদের অসহায় দশা কা'রা শুষছে ,
ভয়ানক ভূপালের রাত চোখে ভাসছে ,
নিঃশ্বাস ফুসফুসে রুদ্ধ হ'য়ে আসছে ;
নিরীহ পৃথিবী আজ দাম্ভিক শক্তির হাতে ক্রীড়নক ,
জীবনের ন্যূনতম অধিকার কেড়ে নেয় রক্ত-শোষক ।
কোন্ দিকে পা বাড়াবো আজ ?
--চারিদিকে নারকী সমাজ ,
কবে এই বিপন্ন বিদিশার অমানিশা টুটবে ?
শান্তির নিরাপদ জীবনের ফুল কবে ফুটবে ?
আমি বড়ো ভালবাসি
শুশনি আর কলমির শাকে-ভরা পুকুরের ঢল ,
হাঁটু জলে শাক-তোলা মুচি-বৌ---কালো রঙ এলো কুন্তল ,
নিমগাছে হলুদ পাখিটি
সবুজ রেখায় দিগন্তে নীলিমার চিঠি ,
আর রোদে-গলা নিঝুম দুপুরে বটতলায়-বসা জয়নালের বাঁশি ।
আজ আমি তাই
দুঃসাহসী মনে এক মহাদেশ খুঁড়ি ---
আলোর মুক্তার খোঁজে আঁধারের সমুদ্রে ডুবুরী ,
চারিপাশ বড়ো ভয়ানক--
এমন জীবন বড়ো বিপজ্জনক ,
বড়ো আর্ত , বড়ো অসহায় ।
একটু আলো চাই ,একটু আলো চাই
হে সূর্য , একটু আলো চাই ।।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন