জানি আমি কোন কেউ কেটা নই তবে কি নিছকই অপাংতেয় - তা হয়ত নয় - তাহলে এই যে তুমি পড়ছ - এটা পড়তে না । সে যাই হোক আমারো ছেলেবেলা জুড়ে আছে অনেক কিছুই তাঁর মধ্যে আছে রবীন্দ্রনাথ । কবে কোন বয়স থেকে রবীন্দ্রনাথ মনের ভেতর রয়েছে বলতে পারবো না - এই না পারাটার পেছনে একমাত্র দায়ি আমার বাবা মা - বাবা একটু বেশিই । তখন বাবা ঘরের থাকার সময়টা আকাশবাণী খুলে রাখনতেন - কলকাতা ক প্রচার তরঙ্গ আর সঙ্গে করে নিয়ে যেতেন তাঁর একমাত্র আড্ডার জায়গা রবিতীর্থ ( তুলিন রুরাল লাইব্রেরী ) । আমার গল্পের বই পড়াটা শুরু ওই রিডিং পড়া শুরু থেকেই । আর কখন যে শিব ঠাকুর কালি ঠাকুর দের মতো রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও একজন ঠাকুর পরিবারের সদস্য হয়ে বসবাস শুরু করেছিলেন - আমি জানি না - আমি জানতাম সীতাকে গণ্ডীর মধ্যে রেখেছিলেন লক্ষণ আর রবীন্দ্র নাথ কে ঘরের চাকর আমার কাছে তখন দুটো গণ্ডী ই সমার্থক তাই মা ঘর থেকে বেরোতে বারণ করলে কঠা ঘরের জানালার রড ধরে একদৃষ্টে তাকিয়ে থাকতাম বনডি পাহাড়ের মাথার দিকে - মা বলত বাঘ আছে - আমি ভাবতাম অমল ও দইওয়ালার কথা । মনে আছে ক্লাস টু তে অভিনয় করার কথাছিল রিহার্সাল করেছি অমলের ভূমিকাই শেষ পর্যন্ত দইওয়ালার শরীর খারাপ হওয়াতে নাটক টা করা হয়নি - মজার ব্যাপার হল আমার মা তাতে খুশি হয়েছিলেন - আসলে আমার বাবা মাকে ডাকঘরের গল্পটা বলেছিলেন - বলেছিলেন শেষে অমল মারা যাবে - কোলের ছেলেকে ওই চরিত্রে মা মানতে পারেনি ।
আমার বাবা একা একভাই আর দাদা অনেকটা ছোটথেকেই মামা ঘরে - তবু বাখুল ঘরে তোতো ভাই বোন দের অভাব ছিলনা , এই নিয়ে একটা হই হই ব্যাপার ছিল । আমি চালচুয়ানি - কুমিরডাঙ্গা যেমন খেলেছি রামায়ণের যুদ্ধ যুদ্ধ খেলেছি সিন্দুয়াঁ ডালের ধনুক নিয়ে - ব্যাট বল খেলেছি অনেক সময় বাঁশের ডাঙ্গের ব্যাট আমড়ার বল আর বালতিকে উইকেট করেই । আর এই এত কিছুর সঙ্গে ছিল আমার উদ্যোগে ঘরে ২৩ শে জানুয়ারী আর ২৫ শে বৈশাখের পূজো - ভোগের ব্যবস্থা মা করতেন বাকিটা আমরা । খাতার পাটাতে বিয়ে ঘরের কার্ডের রঙিন কাগজ চিটিয়ে তাতে তরুণ মামার দোকান ( সোনামুখী) থেকে আনা ২৫ পয়সার রবীন্দ্রনাথের ছবি চিটিয়ে মালা পরিয়ে ২৫শে বৈশাখ ।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন