স্বপ্নে যাঁর জন্মনিত বাঁকুড়ার ঘোড়া
এখন যাকে নিয়ে লিখতে বসলাম তিনি বলতেন, "কবিতা লেখাটা মস্তিস্কের ব্যায়াম । কবিতা আবিষ্কারকের চোখে যথার্থ কবিতা সমাদৃত হবেই ।" তিনি আর কেউ নন আমার শচী জ্যেঠু , 'লগ্ন উষার' শচীদা । " রবীন্দ্র মেঘের পরে জীবনান্দ মেঘ "- এর পর তিনি বৃষ্টি নিয়ে এলেন - যে ' বৃষ্টির নাম অন্নপূর্না ' । কবি সচ্চিদানন্দ হালদার - জন্ম ১৯৩৬ সালের ২রা অক্টোবর বাঁকুড়া জেলার সোনামুখীতে । পেশায় শিক্ষক আর আগাগোড়ায় কবি । যিনি উচ্চারণ করতে পারেন " কবি কারও দাস নয় । কবির মাথা থাকবে কুতুব মিনারের দু'ইঞ্চি উপরে । যশ কবির বিভা বা উজ্জ্বল্য যা স্বতস্ফুর্ত ভাবে অর্জিত হয় । অর্জন করতে হয় না। যশাকাঙ্খার সঙ্গে প্রকৃত কবির কোন সম্পর্ক নেই । আরে পুরস্কার - একটা কেন পাঁচটা নোবেল দিলেও কবির যথার্থ মূল্যায়ণ করা যায় না । সব কথার শেষ কথা বলবেন কবি স্বয়ং । " ( সাগ্নিক , ২০০১) । প্রথম কবিতা প্রকাশিত হয়' মাসিক বসুমতি ' পত্রিকায় । দীর্ঘ ২৮ বছর তিনি ছিলেন লগ্ন উষার কর্ণধার । প্রকৃত পক্ষে গড়ে তুলেছিলেন সাহিত্যের আঁতুড়ঘর - সেই ধারা আজো বহমান।
" র্যালীর যুবক ! ব্যক্তিত্ব সুরক্ষা কর - সত্তর অবধি, / তারপর জ্বালানী নিঃশেষ, ঝর্নাশূন্য জীর্ন খেরো খাতা ! / তাই তোমার মতো না ! / ঐ গিরি সন্ন্যাসীর মতো প্রতি সূর্যোদয়ে - / যুবা হতে চাই ।" কিন্তু উনি চলেগেলেন ১৭/০২/২০০৮ । আর দিয়ে গেলেন কবিতার পাঠ - সাহিত্যের পাঠ । ১৯৯৩ সালে পেয়েছিলেন ভারত সরকারের পরিবেশ বিষয়ক কবিতার জন্যে , পেয়েছেন অমৃতলোক সম্মান , অরুণ মিত্র পুরস্কার ।
তিনি চলে গেলেও রয়েগেলেন কবিতায় ।তাঁর একটা কবিতা দিয়ে আজকের লেখা শেষ করছি
সভ্য দিন
একটা দিনও সভ্য দিন যাপন করিনি
অথচ তোমরা নেচে গেয়ে এই সভ্যতার গর্ব কর
সংবাদ মাধ্যম দেখলে কি মনে হয় -
গতকাল খুব সভ্য দিন গ্যাছে !
পৃথিবীর পরিচালকগণ - দেখি তোমরা কত বড় রূপকার !
রাষ্ট্র পরিচালকগণ - দেখি তোমরা কত বড় রূপকার !
এবং মন্ত্রমুগ্ধ নাগরিকগণ
কমপক্ষে একবার একটা সভ্য দিন দাও ।
আরো জানতে যোগাযোগ করতে পারেন :-
গৌর কারক (সম্পাদক - লগ্ন উষা )


কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন